বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > এবার থেকে মসজিদ- মন্দির নির্মাণে অনুমতি লাগবে বাংলাদেশে
ফাইল ছবি (Reuters)
ফাইল ছবি (Reuters)

এবার থেকে মসজিদ- মন্দির নির্মাণে অনুমতি লাগবে বাংলাদেশে

  • জেনে নিন বিস্তারিত নিয়মাবলী

বাংলাদেশে নতুন মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণে সরকারের অনুমোদন লাগবে। অনুমতি লাগবে কবরস্থান ও শ্মশান করতেও। সংসদীয় কমিটির এই প্রস্তাবে সায় আছে ধর্মমন্ত্রণালয়েরও। এখন শুধু কার্যকরের অপেক্ষা।

স্থানীয় সরকার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি ডয়চে ভেলেকে বলেন,'আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই উপাসনালয়ের নামে জমি দখল, চাঁদাবাজী বন্ধ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। জনগণকে সম্পৃক্ত করা।' ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এমপি বলেন,'এ ধরনের নীতিমালার দরকার আছে। আমরা সংদীয় কমিটির প্রস্তাবের সাথে একমত। উপাসনালয় তো আছেই। এমনও হয় একটি কথিত কবর তৈরি করে সেখানে মাজার চালু হয়ে যায়। এগুলো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।'

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ মনে করেন এ বিষয়ে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করা উচিত।সংসদীয় কমিটি বলছে, যারা উপাসনালয়ে উদ্যোক্তা হবেন তাদের আয়ের উৎসও জানাতে হবে।

এই অনুমতির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করতে হবে নকশাসহ। সেটা উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় পাশ করাতে হবে। শহরেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

খন্দকার মোশাররফ হেসেন বলেন,'এই নীতিমালা আরো আগেই হওয়া দরকার ছিলো। দেরিতে হলেও এটা হচ্ছে। এইসব স্থাপনা নির্মাণে দেশে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি জমি, খাস জমি, রাস্তাঘাট দখল করে একটি মহল নিজেদের স্বার্থে মসজিদ-মন্দির তৈরি করছে। আবার বিরোধপূর্ণ জমিও দখলে রাখতে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করা হচেছ। আমরা চাই এর অবসান হোক। ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের নামে চাঁদাবাজিও হচ্ছে। রাস্তার পাশে মাইক লাগিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়। কেউ কেউ এটা দিয়ে ব্যবসা করেন।'

‘আর মসজিদ নির্মাণ কেউ ব্যক্তিগতভাবে করতে চাইলেও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তার আয়ের উৎস জানাতে হবে। ইনকাম ট্যাক্স দেয় কী না তা প্রমাণ করতে হবে।’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন,'অপ্রয়োজনে শুধু রেষারেষির কারণে অনেক ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরি হয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে অথবা এলাকার বিরোধের কারণেও একই এলাকায় একাধিক মসজিদ তৈরির নজির আছে। উপাসনালায় যতটি প্রয়োজন ততটি তৈরি করা যাবে। কিন্তু অপ্রয়োজনে তৈরি করার দরকার নাই।'

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত সংসদীয় কমিটির এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,'এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। অনেকে এই খাতে কালো টাকা ব্যবহার করে, তার অবসান হবে। দেশের বাইরে থেকে টাকা আসে। জঙ্গি অর্থায়নেরও অভিযোগ আছে। এই নীতিমালা কার্যকর হলে এসব বন্ধ হবে। '

শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘সরকারে উদ্দেশ্য সাধু বলেই মনে হয়। আমাদের দেশে এইসব বিষয় নিয়ে একটা হযবরল যে হচ্ছে না, তা নয়। তবে তারা কাজটা কীভাবে করতে চাচ্ছেন জানি না। তবে ভালো করতে গিয়ে মন্দও হয়ে যেতে পারে। মানুষের মধ্যে এই ধারণাও হতে পারে যে সরকার এখন ধর্ম নিয়েও বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে যাচ্ছে।’

তার কথা,'সংবিধানে প্রত্যেক ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে। অন্যের জমিতে মসজিদ তৈরি করব, যদি তিনি কোনো আপত্তি না করেন তাহলেই হলো। এখন যদি সরকারের অনুমতির জন্য বসে থাকতে হয় সেটাতো আরেকটা পেরেশানি। আমাদের দেশে যে ঘুসের ব্যাপার রয়েছে তাতে এই অনুমতির নামে আরেকটা ঘুসের ক্ষেত্র হয় কী না সেটাই আশঙ্কা।'

তার মতে,'এটা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগে ধর্মীয় চিন্তাবিদদদের কাছ থেকে পরাশর্ম নেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।'

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০০৮ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন দুই লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬টি মসজিদ আছে। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের হিসেব মন্দির আছে ৩০ হজারের কিছু বেশি। বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর ৮৮.৪ ভাগ মুসলামান।

বন্ধ করুন