বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পাঁচতারা বিলাসিতায় নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে দাউদ, পাকিস্তানের উদ্দেশে তোপ ভারতের
পাকিস্তানে পাঁচতারা বিলাসিতায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবাদী মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমকে, অভিযোগ ভারতের। (ফাইল ছবি)
পাকিস্তানে পাঁচতারা বিলাসিতায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবাদী মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমকে, অভিযোগ ভারতের। (ফাইল ছবি)

পাঁচতারা বিলাসিতায় নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে দাউদ, পাকিস্তানের উদ্দেশে তোপ ভারতের

  • রাষ্ট্রপুঞ্জের বিতর্কে চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সমালোচনায় মুখর হল ভারত।

পাঁচতারা বিলাসিতায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবাদী মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমকে। চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সমালোচনায় মুখর হল ভারত। 

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের মুক্ত বিতর্কে অংশগ্রহণ করে ৮ দফার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির প্রস্তাব দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। পরিকল্পনায় সন্ত্রাসে মদতদাতা রাষ্ট্রগুলিকে কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তাবও দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। বিতর্কের মূল বিষয় ছিল, নিউ ইয়র্কে ৯/১১ সন্ত্রাস হামলার পরে রেজলিউশন ১৩৭৩ গ্রহণের দুই দশক পরে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা।

জয়শংকর বলেন, মানবজাতির পক্ষে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক সন্ত্রাসের কথা স্মরণ করানোই রেজলিউশন ১৩৭৩-এর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, নাশকতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্থাপত্যের মূল স্তম্ভ হল এই রেজলিউশন ও সন্ত্রাস-দমন কমিটি। 

পাকিস্তান বা চিনের নাম সরাসরি না উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু কিছু দেশ সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার দোষে দুষ্ট এবং সন্ত্রাসবাদীদের তারা আশ্রয় দান ও আর্থিক সাহায্য করে। পাশাপাশি, কিছু রাষ্ট্র কোনও কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বিশেষ কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য আবেদন জানায়।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দান ও সমর্থন করার অভিযোগ জানাচ্ছে ভারত। ২০১৯ সালের মে মাসে চিন ‘প্রযুক্তিগত সমর্থন’ তুলে নেওয়ার পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক অপরাধীতালিকায় স্থান দেওয়া হয় জইশ প্রধান মাসুদ আজহার। 

জয়শংকর বলেন, ‘কিছু কিছু রাষ্ট্রে সন্ত্রাসে আর্থিক সাহায্য দানকারীদের চিহ্নিতকরণ, তদন্ত ও বিচারের জন্য যথোপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। তবে এমনও কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে সন্ত্রাসবাদীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর্থিক সাহায্য ও সমর্থন করা হয়।’

প্রস্তাবিত আট দফা অ্যাকশন প্ল্যানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও সন্ত্রাস দমনে নিযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের কমিটিগুলির কর্ম পদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন জয়শংকর। তিনি বলেন, অনুরোধের তালিকা তৈরির সময় অহেতুক বাধা দান ও সময় অপচয়ের অভ্যাস বন্ধ করা জরুরি। এর কারণে দলগত আশ্বাসে চিড় ধরে।

তিনি বলেন, অ্যাকশন প্ল্যানে সন্ত্রাস এবং আন্তঃরাষ্ট্র পরিকল্পিত অপরাধের মধ্যে সংযোগ উদ্ধারের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে তিনি পাক আশ্রিত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের উল্লেখ করেন। জয়শংকর বলেন, ‘ভারতে আমরা ১৯৯৩ সালের মুম্বই বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে অপরাধ চক্রের হাত খুঁজে পেয়েছি, যার মূল চক্রীকে কোনও রাষ্ট্রের আশ্রয় দেওয়াই শুধু নয়, তাকে পাঁচতারা বিলাসিতায় বসবাসের সুযোগ করে দেওয়াও হয়েছে।’

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাস দমন বিভাগগুলিকে যথেষ্ট অর্থ সাহায্য করার আবেদনও জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিশ্বে সন্ত্রাসের রমরমা ঠেকাতে রাষ্ট্রগুলিকে এবার তত্ত্বের বাস্তবায়ন করার সময় এসেছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদী ও নাশকতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলি যে হারে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে ত্রাসের সঞ্চার করেছে, সেখানে সহযোগিতা ও দলবদ্ধ প্রচেষ্টাই একমাত্র অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

বন্ধ করুন