বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াইয়ে ইউক্রেনকে উৎসাহ জার্মানির
পাল্টা লড়াইয়ে ইউক্রেনকে উৎসাহ জার্মানির (AFP)

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াইয়ে ইউক্রেনকে উৎসাহ জার্মানির

  • জার্মানি, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা সকলের কাছে ইউক্রেনকে নতুন করে অস্ত্র পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুধু মিশেল নন, একাধিক জার্মান রাজনীতিক পার্লামেন্টে একই কথা বলেছেন।

ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়ার আর্জি জার্মান রাজনীতিকদের। বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখলের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। রোববার যুদ্ধের দুইশতম দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া দখল করে নিয়েছিল এমন অনেক এলাকা ইউক্রেন পুনর্দখল করেছে। বস্তুত, গত কয়েকদিনে জার্মানির ভিতর থেকেই ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে।

জার্মান সরকারের পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কমিটির প্রধান মিশেল রথ জানিয়েছেন, 'যুদ্ধ পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলি যদি ইউক্রেনকে সর্বোচ্চ সাহায্য করে, তাহলে কিয়েভ জয়ী হবে।' বস্তুত, ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আক্রমণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। মিশেল এসপিডি নেতা এবং চ্যান্সেলর ওলফ শলৎসের ঘনিষ্ঠ।

জার্মানি, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা সকলের কাছে ইউক্রেনকে নতুন করে অস্ত্র পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুধু মিশেল নন, একাধিক জার্মান রাজনীতিক পার্লামেন্টে একই কথা বলেছেন। সামরিক যানবাহন, ট্যাঙ্ক এবং বিধ্বংসী অস্ত্র পাঠিয়ে রাশিয়াকে পর্যুদস্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এই জার্মান পার্লামেন্টই মাসকয়েক আগে ইউক্রেনে বিধ্বংসী অস্ত্র পাঠানো নিয়ে আশঙ্কায় ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিধ্বংসী অস্ত্র আদৌ পাঠানো উচিত কি না, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে জার্মানিতে। বস্তুত, এ নিয়ে ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার শিকারও হতে হয়েছে জার্মানিকে। ইউক্রেনের অভিযোগ ছিল, জার্মানি অস্ত্র পাঠাতে সময় নিচ্ছে, যথেষ্ট অস্ত্র দিচ্ছে না। সরাসরি চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল কিয়েভ। পরবর্তীতে অবশ্য জার্মানি যথেষ্ট অস্ত্র পাঠিয়েছে ইউক্রেনে। আরও অস্ত্র পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জেলেনস্কির দাবি

রোববার ইউক্রেন যুদ্ধ ২০০ দিনে পড়েছে। এদিনের ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চল, যা গোড়াতেই রাশিয়া দখল করে নিয়েছিল, কিয়েভ পুনর্দখল করেছে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইজিয়ুম, বালাক্লিয়া, কুপিয়ানস্ক। রাশিয়া ইজিয়ুমে জিনিসপত্র জমা করছিল বলে অভিযোগ। সেখান থেকে তা ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় সেনাদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। ফলে ইজিয়ুম পুনর্দখল কৌশলগত জয় বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলেনস্কি এদিন বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলি সহায়তা করলে ইউক্রেনের আরো জমি পুনর্দখল সম্ভব হবে। এবং এর জন্য ইউক্রেনের সেনা এবং সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি। জেলেনস্কির দাবি, প্রায় ১০০টি গ্রাম ও শহর পুনর্দখল করা সম্ভব হয়েছে। জেলেনস্কির বক্তব্য, শীতে ইউক্রেন আরও সুবিধঝা পাবে। কারণ পশ্চিমা দেশগুলি তাদের কাছে অত্যন্ত ভালো শীতকালীন সমরাস্ত্র পাঠিয়েছে। রাশিয়ার হাতে ওই মানের সমরাস্ত্র নেই।

রাশিয়াকে এক হাত

ফের রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, খারকিভ এবং দনেৎস্ক অঞ্চলে ইচ্ছাকৃতভাবে লোডশেডিং করিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া। সম্পূর্ণ ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সমস্যায় পড়ছেন বেসামরিক মানুষেরা। বস্তুত, রোববার রাশিয়া জানিয়েছিল, দনেৎস্ক অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা থেকে রাশিয়ার সেনাকে পিছু হঠতে হয়েছে। জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, দনেৎস্কের কয়েকটি কৌশলগত অঞ্চল ইউক্রেন পুনর্দখল করেছে। অভিযোগ দনেৎস্ক এবং খারকিভে সম্পূর্ণ ব্ল্যাক আউট করা হয়েছে। ঝাপোরিজ্ঝিয়ায় আংশিক ব্ল্যাক আউট করা হয়েছে। এর জন্য একাধিকবার সরাসরি পুটিনকে দায়ী করেছেন জেলেনস্কি।

পুটিন মাক্রোঁ কথা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর। ঝাপোরিজ্ঝিয়ার সুরক্ষা নিয়ে তিনি চিন্তিত বলে পুটিনকে জানিয়েছেন মাক্রোঁ। পুটিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন সেখানে বোমা ফেলছে। মাক্রোঁ তার উত্তরে বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের জন্যই এমনটা হচ্ছে। পুটিন অবশ্য তা মানতে চাননি।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বিতর্ক হয় বলেও কূটনৈতিক মহল জানিয়েছে। তারা একসঙ্গে বিবৃতিও প্রকাশ করেনি। ফোনে কথা হওয়ার পর মস্কো এবং প্যারিস পৃথক বিবৃতি জারি করেছে। মাক্রোঁ জানিয়েছেন, কীভাবে এই অচলাবস্থা কাটানো যায় এবং যুদ্ধ বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি ডয়চে ভেলে থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনই তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কোনও প্রতিনিধি এই প্রতিবেদন লেখেননি।)

বন্ধ করুন