বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বুল্লি বাই কাণ্ড: ইচ্ছাকৃতভাবে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের 'ট্যাগ' কেন ব্যবহার করা হয় ?
বুল্লি বাই কাণ্ডে ধৃত বিশাল কুমার ঝা। (ছবি সৌজন্য এএনআই)

বুল্লি বাই কাণ্ড: ইচ্ছাকৃতভাবে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের 'ট্যাগ' কেন ব্যবহার করা হয় ?

  • এক বিশেষ টুইটার হ্যান্ডেল তৈরির নেপথ্যে উত্তরাখণ্ড থেকে ধৃত ১৮ বছর বয়সী শ্বেতা সিং নামের এক তরুণীর নাম উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ।

বুল্লি বাই কাণ্ড নিয়ে কার্যত তোলপাড় গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মহিলাদের টার্গেট করে অশ্লীলবার্তাবহ বুল্লি বাই অ্যাপ কাণ্ডে একের পর এক রহস্যের পরত খুলতে শুরু করেছে তদন্তের জেরে। এদিকে, একই সঙ্গে মুম্বই পুলিশ এই মামলা নিয়ে তদন্তে নেমেছে। আর বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে শিখ ধর্মের ট্যাগ টুইটার হ্যান্ডেলে ব্যবহার করত বুল্লিবাই কাণ্ডের তিন অভিযুক্ত।

প্রশ্ন উঠছে, এই শিখ ধর্মের পেজগুলির ট্যাগ টুইটারে কেন ব্যবহার করত বুল্লি বাই কাণ্ডে ধৃত এই অভিযুক্তরা? পুলিশ জানাচ্ছে, ধর্মীয় বিভেদের উদ্দেশ্য এমন পদক্ষেপের নেপথ্যে থাকতে পারে। এই মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর এক তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুল্লি বাই কাণ্ডে,'কে এসএফ খালসা শিখ ফোর্স' নামে একটি নতুন টুইটার হ্যান্ডেল তৈরি করা হয়। এই টুইটার হ্যান্ডেল তৈরির নেপথ্যে উত্তরাখণ্ড থেকে ধৃত ১৮ বছর বয়সী শ্বেতা সিং নামের এক তরুণীর নাম উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। শ্বেতার সূত্র ধরে উত্তরাখণ্ডের আরও এক তরুণের খোঁজ এই মামলায় পায় পুলিশ। ২০ বছরের মায়াঙ্ক রাওয়াত এই মামলার তৃতীয় অভিযুক্ত। উল্লেখ্য, ওপেন সোর্স হোস্ট প্ল্যাটফর্ম গিটহাবে তৈরি হয়েছে এই 'বুল্লি বাই'। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর এই অ্যাপ তৈরি হতেই ১ জানুয়ারি তার প্রমোশন টুইটারে হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অ্যাপের টুইটার প্রমোশনে একাধিক শিখ সম্প্রদায়ের নামের উল্লেখ ছিল। মহিলাদের উদ্দেশ্য করে এমন বক্তব্যের নেপথ্যে 'সাম্প্রদায়িক বিচ্ছেদই তৈরি করতে চাইছিল ' অভিযুক্তরা। মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, 'এদের সঠিক সময়ে গ্রেফতারির ফলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে।' উল্লেখ্য, এই মামলায় এপর্যন্ত তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ এ, ১৫৩ এ, ১৫৩ বি-এর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় পর পর অভিযোগ আসতেই, বিশাল কুমার ঝাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুল্লি বাইয়ের টুইটার হ্যান্ডেলের ফলোয়ারদের মধ্যে থেকে তাকে বিভিন্ন সন্দেহের জেরে গ্রেফতার করতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত বিশালের একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুম্বই পুলিশের তরফে পুলিশ কমিশনার নাগরালে জানিয়েছেন, 'আমরা তদন্তের মধ্যে দিয়ে জানার চেষ্টা করছি গোটা বিষয়টির সঙ্গে কোনও ষড়যন্ত্র জড়িয়ে রয়েছে কি না, মুম্বই পুলিশের সাইবার শাখা বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করছে।'

 

বন্ধ করুন