বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ভগবান এই কাজের জন্য বেছেছেন!‌ করোনায় মৃত ৭০০ জনের শেষকৃত্য করে বললেন মুন্না
মুন্না
মুন্না

ভগবান এই কাজের জন্য বেছেছেন!‌ করোনায় মৃত ৭০০ জনের শেষকৃত্য করে বললেন মুন্না

উচ্চপদে চাকরি করলেই মনুষ্যত্ব তৈরি হয় এই ভাবনাটা বোধহয় সবক্ষেত্রে সঠিক নয়। দেশের মাটিতে এমন একটি ঘটনা ঘটায় এই চর্চা সামনে এসেছে। ঘটনাস্থল সেই চর্চিত উত্তরপ্রদেশ।

উচ্চপদে চাকরি করলেই মনুষ্যত্ব তৈরি হয় এই ভাবনাটা বোধহয় সবক্ষেত্রে সঠিক নয়। দেশের মাটিতে এমন একটি ঘটনা ঘটায় এই চর্চা সামনে এসেছে। ঘটনাস্থল সেই চর্চিত উত্তরপ্রদেশ। যেখানে একজন সাফাইকর্মীকে দেখা গেল গত ৬ মাসে ৭০০ করোনায় মৃত নশ্বর দেহকে শেষকৃত্য করতে। কারণ আর কেউ এগিয়ে আসেনি।

পেশায় সাফাইকর্মীর নাম মুন্না। বয়স ৩৫। লখনৌয়ের বৈকুন্ঠধামের পুরসভা অফিসে সাফাইয়ের কাজ করেন তিনি। আর এখানের ইলেকট্রিক চুল্লিতে গত ৬ মাস ধরে ৭০০ করোনায় মৃত দেহগুলির শেষকৃত্য করেছেন তিনি। যখন কেউ এগিয়ে আসেনি তখন এই মুন্নাই প্রথম এগিয়ে গিয়ে শেষকৃত্যের কাজটি করেন। এই তথ্যটি দিয়েছেন লখনৌ পুরসভার আঞ্চলিক আধিকারিক দিলীপ দে।

তিনি বলেন, ‘‌এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০ করোনায় মৃত নশ্বর দেহগুলি দাহ করেছেন এই মুন্না। এমনকী এই সময়কালে একদিনও ছুটি নেননি তিনি।

বৈকুন্ঠধাম ইলেকট্রিক চুল্লিতে রোজ ১২ থেকে ১৭টি দেহের শেষকৃত্য করেছেন তিনি। এক একটি দেহ দাহ হতে সময় নেয় প্রায় ৪৫ মিনিট। তাই রাত ৮টা পর্যন্ত কর্মীদের কাজ করতে হয়েছিল।’‌

এখানেই উঠছে প্রশ্ন। মুন্না যা করতে পারলেন তা আর কেউ করলেন না কেন?‌ মুন্নার তো এই কাজ নয়। দিলীপ দে বলেন, ‘‌আমরা মুন্নাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম কিভাবে করোনায় মৃত দেহগুলিকে দাহ করতে হয়। পিপিই কিট কেমন করে পরতে হয়। একইসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছিলাম ভদ্র ব্যবহার ও মানবিক আচরণ বজায় রাখতে।’

কিন্তু এই কাজ করে মুন্নার প্রতিক্রিয়া কী?‌ মুন্না বলেন, ‘‌এটাও একটা কাজ। যা ভগবান আমার জন্য বেছে দিয়েছেন। আমি তার জন্য লজ্জিত নই। করোনায় যারা মারা গিয়েছে তাদের দেহ আমি দাহ করেছি। যখন মানুষ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছিল। আমি একজন হাইস্কুল থেকে পাশ করা যুবক। তাই জানি ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাসের পার্থক্য।

তারপরও ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কারণ আমার পরিবার সবসময় বলেছিল, এটাই একমাত্র পথ সমাজে কিছু অবদান রাখার।’‌

কিন্তু তাঁর দুঃখ লাগে যখন মানুষ কাজটা হয়ে যাওয়ার পর এই অবদানকে অস্বীকার করে। তাঁরা মনে করেন একজন সাফাইকর্মীর এটাই কাজ। এমনকী মানুষ কখনও কখনও গালিগালাজও দিয়েছে, রাগ দেখিয়েছে, মেজাজ হারিয়েছে, যখন তাঁদের শেষকৃত্যের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু আমি সকাল ৬টায় পিপিই কিট পরতাম আর রাত ৮টায় তা খুলতাম—দুঃখের সঙ্গে জানালেন মুন্না।

বন্ধ করুন