কলকাতায় অধিকাংশ দোকানে ওষুধের জোগান কমেছে। ছবি: সৌম্য বসু।
কলকাতায় অধিকাংশ দোকানে ওষুধের জোগান কমেছে। ছবি: সৌম্য বসু।

COVID-19 Lockdown-এ দোকানে অভাব ওষুধের, হোম ডেলিভারির অনুমোদন দিল কেন্দ্র

  • দেশজুড়ে জারি হওয়া লকডাউনের জেরে রাজ্যের বিপণিগুলিতে ক্রমেই কমছে ওষুের স্টক। গ্রাহকের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিক্রেতা সংস্থাগুলিকে অনুমতি দিল কেন্দ্র।

COVID-19 সংক্রমণের জেরে লকডাউনে গ্রাহকের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি পেল বিক্রেতা সংস্থাগুলি। এ দিকে জোগানের অভাবে ধুঁকছে কলকাতা-সহ রাজ্যে ওষুধের দোকানগুলি।

লকডাউনের জেরে তৈরি হওয়া ভীতি, পরিবহণের অপ্রতুলতা এবং কার্ফুতে চলাচলের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে রাজ্যের ওষুধ বিপণিগুলিতে ক্রমেই কমছে মজুত থাকা চিকিৎসা সংক্রান্ত পণ্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গুদামে টান না পড়লে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেওয়াতেই দোকানে সময়মতো ওষুধ পৌঁছানো যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে লাইফলাইন ড্রাগ স্টোরের কর্মী সুমন্ত দত্ত জানান, 'একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওষুধ কিনছেন সকলে, অন্য দিকে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবারহ করতে পারছেন না ওষুধ ডিস্ট্রিবিউটাররা।'

তিনি জানিয়েছেন, 'পরিবহণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও বিশেষ পরিচয়পত্রের অভাবে পুলিশ চেকপয়েন্টে আটতে যাওয়ার অসুবিধা দেখা দেওয়ায় ডিস্ট্রিবিউটাররা দোকানে মালের জোগান দিতে ৩-৪ দিন সময় নিচ্ছেন।'

বড়বাজারে কলকাতার ওষুধ আড়তের পাইকারী ব্যবসায়ী জয়দীপ সরকার জানিয়েছেন, 'ওষুধ ও ফার্মাকিউসিটিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারীদের কাছে যথেষ্ট ওষুধ মজুত রয়েছে। প্রধান সমস্যা দেখি দিয়েছে বিমান ও সড়ক পরিবহণের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায়।'

মধ্য কলকাতার এন্টালি মার্কেট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তারক নাথ ত্রিপাঠি বলেন, 'বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পরে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে নিযুক্ত কর্মীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পাশ ও অনুমোদনপত্র দিতে শুরু করেছি।'

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, 'একবার পাশ দেওয়া শুরু হয়ে গেলে ওষুধ সরবরাহে নিযুক্ত কর্মী ও যান তচলাচলে আর বাধা থাকবে না।'

ঘরবন্দি মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজনে লকডাউনের মাঝেও তাঁদের দোরগোড়ায় ওষুধ সরবরাহ করার অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
ঘরবন্দি মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজনে লকডাউনের মাঝেও তাঁদের দোরগোড়ায় ওষুধ সরবরাহ করার অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

এ দিনই আবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ঘরবন্দি মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজনে লকডাউনের মাঝেও তাঁদের দোরগোড়ায় ওষুধ সরবরাহ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে ওষুধ ও মেডিক্যাল সরঞ্জাম বিপণন সংস্থার কর্মীদের।

সরকারের তরফে জানা হয়েছে, এ দিনই এই সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা গেজেটিয়ার অফ ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত হবে।

এর আগে, বুধবার এই পদক্ষেপ করে পঞ্জাব সরকার। রাজ্য প্রশাসনের তরফে কার্ফুর সময় ওষুধের দোকানে যাওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওষুধের হোম ডেলিভারি পরিষেবার অনুমোদন দিয়েছে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের সরকার।

সরবরাহ নিয়ে সমস্যা দূর করার চেষ্টায় প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও এ দিন বেশ কিছু শহরে ওষুধের জোগান নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় বেশ কিছু ওষুধ দোকানে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।

এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই গতকাল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহণ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজ্য সরকারগুলির কাছে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন।

বন্ধ করুন