বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ', পেগাসাস 'হ্যাক' নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের
১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

'গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ', পেগাসাস 'হ্যাক' নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের

  • ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল।

'ভারতের গণতন্ত্র শক্তিশালী। যা সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে গোপনীয়তার অধিকারকে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।' কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার একথা জানিয়েছে। যে সংবাদমাধ্যমগুলিতে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং মন্ত্রীদের ফোনে নজরদারি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’-সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল। ইজরায়েলি সংস্থা ‘এনএসও গ্রুপ’ নামে যে সংস্থা ‘পেগাসাস’ তৈরি করেছে, সেই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি ক্রেতাদেরই বিক্রি করা হয় সেই ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার ওই প্রতিবেদনগুলিকে ‘মাছ ধরার অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সঙ্গে জানিয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উপর সরকারি নজরদারি চলছে, সেই দাবির স্বপক্ষে কোনও মজবুত ভিত্তি বা সত্যতা নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ‘মৌলিক অধিকার হিসেবে বাকস্বাধীনতার প্রতিজ্ঞা হল ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। আমরা সর্বদা খোলামেলা কথোপকথনের সংস্কৃতিতে জোর দিয়ে একটি অবগত নাগরিক সমাজের পক্ষে থেকেছি।’

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ‘হিন্দুস্তান টাইমস’। কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে একজন সাংবাদিককে দেওয়া ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়ার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে সংবাদসংস্থা এএনআই। তাতে বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকারের কাছে পাঠানো প্রশ্ন থেকেই ইঙ্গিত মিলছে যে প্রতিবেদনটি মনগড়া। সেটায় যে শুধু তথ্যের ঘাটতি আছে, তা নয়, বরং আগেভাগেই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, আপনারা একইসঙ্গে তদন্তকারী, আইনজীবী এবং বিচারকের ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছেন।’ সঙ্গে যোগ করা হয়েছে, ‘পুরো বিষয়টিতে সম্মানিত সংবাদমাধ্যমগুলির খারাপ গবেষণার কাজ এবং অধ্যবসায়ের অভাবের ইঙ্গিত মিলছে।’ 

কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়ায় আরও জানানো হয়েছে, সংসদ-সহ অন্যত্র তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে যে সরকারি এজেন্সিগুলির তরফে ‘কোনও অনুমোদনহীন নজরদারি’ চালানো হয়নি। ভারত সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ‘এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থের কারণে চালানো নজরদারির ক্ষেত্রে সরকারি এজেন্সিগুলির একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল আছে। যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত। সেই প্রোটোকলের মধ্যে আছে উচ্চপদস্থ কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের অনুমোদন এবং তদারকি।’ প্রতিক্রিয়ায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি নজরদারির বিষয়ে অনুমোদন দেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব।

বন্ধ করুন