বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'চোখে ধুলো' দিতেই চালু সরকারি হেল্পলাইন, অভিযোগ কাজ হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের
সরকারি হেল্পলাইনের মাধ্যমে সাহায্য পাচ্ছেন না পরিযায়ী শ্রমিকরা (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)
সরকারি হেল্পলাইনের মাধ্যমে সাহায্য পাচ্ছেন না পরিযায়ী শ্রমিকরা (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)

'চোখে ধুলো' দিতেই চালু সরকারি হেল্পলাইন, অভিযোগ কাজ হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের

  • পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষদের চোখে ধুলো দিতেই হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে সরকারের তরফে।

করোনা আবহে লকডাউন লাগু হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। এই তালিকায় রয়েছে দিল্লি, হরিয়ানার মতো রাজ্য। সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার্থে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে সরকারের তরফে। তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষদের চোখে ধুলো দিতেই এই হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

এই বিষয়টি তলিয়ে দেখতে হিন্দুস্তান টাইমস সম্প্রতি কথা বলে গুরুগ্রামের এক গাড়ির কারখানায় কাজ করা শ্রমিকের সঙ্গে। নিজেকে খাতুন বলে পরিচয় দেওয়া সেই মহিলা হিন্দুস্তান টাইমসকে জনান, লকডাউনের আগে পর্যন্ত মাসে ১০ হাজার টাকা আয় ছিল তাঁর। তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে লাগু হওয়া লকডাউনের জেরে তাঁর চাকরি নেই। যেই মাসে তিনি শেষ কাজ করেছেন কারখানাতে, সেই মাসের মাত্র আর্ধেক বেতন পান তিনি। এই পরিস্থিতিতে নিজের সন্তানদের খাওয়াতে পারছেন না খাতুন। সেই সময় তাৎক্ষণিক ভাবে এক এনজিও তাঁকে সাহায্য করে এবং হরিয়ানার অ্যাসিস্টেন্ট লেবার কমিশনার জয়দীপ যাদবকে ফোন করার পরামর্শ দেয়।

দেশের ২০টি রাজ্যে যে ১০০ জন আধিকারিককে পরিযায়ী সমস্যা দেখার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম এই জয়দীপ যাদব। এহেন যাদবকে ফোন করে সাহায্য পাওয়া তো দূরের কথা, উলটে একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হন খাতুন। যাদব খাতুনের কাছে জানতে চান যে তাঁর নম্বর সে কোথা থেকে পেল। পরে অবশ্য খাতুনকে তাঁর বিশদ জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করতে বলেন যাদব। তবে খাতুনের কাছে স্মার্টফোন নেই। তাই তিনি তাঁর তথ্য পাঠাতে পারেননি যাদবকে। এই প্রসঙ্গে জয়দীপ যাদবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এই প্রসঙ্গে 'স্ট্র্যান্ডেড ওয়ার্কারস অ্যাকশন নেটওয়ার্ক' বা সোয়ান নাম এনজিও-র স্বেচ্ছাসেবক অনিন্দিতা অধিকারী হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, 'এই হেল্পলাইনগুলো শুধুই মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য। আমরা ২০টি রাজ্যে ৮০ জন কমিশনারকে ফোন করেছি। তবে এদের মধ্যে একজনও ন্যূনতম সাহায্য দিতে পারেননি।'

এদিকে বেঙ্গালুরুর এক টাইলস কারখানায় কাজ করা এক বিহারী পরিযায়ী শ্রমিক প্রকাশ কুমার মিশ্রা বলেন, লকডাউন জারির পরই আমাদের কারখানার মালিক শহর ছাড়েন। কিন্তু যাওয়ার আগে আমাদের বেতন মিটিয়ে দিয়ে যাননি। পরে আমরা লেবার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার হুমকি দিলে আমরা আমাদের বেতন পাই। তবে হুমকিতে কাজে দিলেও আদতে লেবার কমিশন মিশ্রাদের সাহায্য করেনি। প্রকাশ মিশ্রার অভিযোগ, রেশন চেয়ে কমিশনকে ফোন করলেও কোনও সাহায্য পাননি তাঁরা।

যদিও সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে, ১০ হাজারেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিককে নাকি কমিশনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিশদ তথ্য চাওয়া হলে শ্রম মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানান, অনেক শ্রমিককেই সাহায্য করা হয়েছে। তবে কত সংখ্যক শ্রমিকের সমস্যা মেটানো হয়েছে, সেই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য নেই। তা পরে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আরটিআই দায়ের করা হলে গত বছরের তথ্য প্রকাশ করে সরকারের তরফে দাবি করা হয়, হেল্পলাইনের মাধ্যমে ২০ লক্ষ শ্রমিককে সাহায্য করা হয়েছে। তবে এবছর নাকি ৪৫০০-র বেশি সমস্যার সমাধান করা হয়নি।

বন্ধ করুন