বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বাকস্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ গণতন্ত্রের মৌলিক অংশ হওয়া উচিত, সওয়াল গ্রেটার, পাশে দাঁড়ালেন দিশার
শুক্রবার আদালতে দিশা রবি। (ছবি সৌজন্য রয়টার্স)
শুক্রবার আদালতে দিশা রবি। (ছবি সৌজন্য রয়টার্স)

বাকস্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ গণতন্ত্রের মৌলিক অংশ হওয়া উচিত, সওয়াল গ্রেটার, পাশে দাঁড়ালেন দিশার

  • পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অপর দুই অভিযুক্তের উপর দোষ ঠেলে দিয়েছেন দিশা।

কঠোর পদক্ষেপ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারইমধ্যে দিশা রবির পাশে থাকার বার্তা দিলেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ। জানালেন, বাকস্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বিষয়গুলি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও গণতন্ত্রে মৌলিক অধিকারের মধ্যে তা থাকা উচিত।

একটি টুইটবার্তায় গ্রেটা বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জমায়েতের অধিকারের প্রাথমিক মানবাধিকার। যে কোনও গণতন্ত্রেই সেগুলি অবশ্য মৌলিক অংশ হতে হবে।’ সঙ্গে ‘#StandWithDishaRavi’ বা ‘দিশা রবির পাশে’ হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেছেন গ্রেটা।

কৃষক বিক্ষোভের ‘টুলকিট’ মামলায় গত রবিবার পরিবেশকর্মী দিশাকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। প্রাথমিকভাবে তাঁকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লির একটি আদালত। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর  গতকাল (শুক্রবার) তাঁকে আদালতে তোলা হলে তিনদিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত দিশাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। অপর দুই অভিযুক্ত শান্তনু মুকুল এবং নিকিতা জ্যাকবের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে দিশাকেও ডাকা হতে পারে। যিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্তনু এবং নিকিতার ঘাড়ে অভিযোগ ঠেলে দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

দিশার গ্রেফতারির পর দিল্লি পুলিশের তরফে একাধিক টুইটবার্তায় জানানো হয়েছিল, ভারতে কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ যে ‘টুলকিট’ শেয়ার করেছিলেন, সেটির অন্যতম প্রধান এডিটর ছিলেন দিশা। নথি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন। তৈরি করেছিলেন হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপ। ভারতের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরির জন্য 'পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের' নামে একটি ‘খলিস্তানপন্থী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। এমনকী গ্রেটার সঙ্গে সেই ‘টুলকিট’ শেয়ার করেছিলেন দিশাই। পরে সেই ‘টুলকিট’ ভুলবশত প্রকাশ্যে চলে আসায় গ্রেটাকে তা সরিয়ে দিতে বলেছিলেন বেঙ্গালুুরুর পরিবেশকর্মী।

যদিও দিল্লির একটি আদালতে দিশা দাবি করেছিলেন, তিনি কোনওরকম ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন যে গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়েও কিছু জানেন না। আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দিশা। বলেন, ‘আমি কৃষকদের সমর্থন করেছি, কারণ তাঁরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদের সবাইকে খেতে হবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি টুলকিট তৈরি করিনি। আমি শুধুমাত্র দু'বার এডিট করেছি।’ দিল্লি অবশ্য জানিয়েছিল, দু'লাইনের থেকে ঢের বেশি এডিট করেছেন দিশা।

বন্ধ করুন