বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > গুলশান হামলা: করোনার ধাক্কায় আটকে আছে চূড়ান্ত রায়, দ্রুত শুনানির চেষ্টায় সরকার
হামলার সময় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি। (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)
হামলার সময় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি। (ফাইল ছবি, সৌজন্য রয়টার্স)

গুলশান হামলা: করোনার ধাক্কায় আটকে আছে চূড়ান্ত রায়, দ্রুত শুনানির চেষ্টায় সরকার

  • অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দিন আশ্বাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চলতি বছরই শুনানির জন্য ‘সর্বোচ্চ' চেষ্টা চালাবেন তিনি৷

গুলশান হামলার মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে প্রায় এক বছর আগে৷ তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির শুনানি-সহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ না হওয়ায় হাইকোর্টের বেঞ্চ এখনও নির্ধারণ হয়নি৷ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী,  সেজন্য করোনাভাইরাস মহামারীকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট মহল৷ অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দিন আশ্বাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চলতি বছরই শুনানির জন্য ‘সর্বোচ্চ' চেষ্টা চালাবেন তিনি৷

বাংলাদেশে নজিরবিহীন ওই হামলার পঞ্চম বার্ষিকীর আগেরদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আছে৷ মামলার পেপারবুক রেডি হয়ে গেছে৷ যেহেতু এটি ডেথ রেফারেন্সের মামলা৷ ডেথ রেফারেন্সের মামলাগুলি তালিকা অনুযায়ী শুনানির জন্য আসে৷ কোভিডের কারণে মামলাগুলো শুনানির জন্য উঠতে দেরি হচ্ছে৷' তবে আদালতে খালাস পাওয়া একজনের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ আপিল করবে কিনা, সে বিষয়ে দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি৷

মামলাটির গুরুত্ব তুলে ধরে আমিনউদ্দিন বলেন, কতিপয় বিপথগামী মানুষ কতিপয় তরুণকে বিপথে নিয়ে এ ধরনের কাজ করিয়েছিল৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে৷ পাঁচ তরুণ জঙ্গি ইদের এক সপ্তাহ আগে পিস্তল, সাব মেশিনগান এবং ধারালো অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়েছিল সেই রেস্তোরাঁয়৷ ১৭ বিদেশি নাগরিক-সহ ২০ জনকে হত্যা করেছিল৷ নিহত হন দুই পুলিশকর্তা৷ পরে ‘থান্ডারবোল্ট’ কমান্ডো অভিযানে ওই জঙ্গিদের হত্যা করা হয়৷ ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১৩ জনকে৷ গুলশান হামলার পর জঙ্গিদমন অভিযান গতি পায়৷ পরের দুই বছরে হামলায় জড়িত আরও অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন৷ গুলশান হামলার তদন্তে মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও তাদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতারের আটজনকেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়৷

হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় রায়ে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আদালত সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়৷ একজন খালাস পায়৷ রায় ঘোষণার পর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর মামলাটি আদালত থেকে হাইকোর্টে আসে৷ সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, 'পেপারবুক প্রস্তুত আছে৷ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে ডেথ রেফারেন্সটি শুনানির জন্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷' দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেন৷ ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়৷ রাষ্ট্রপক্ষে ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক রায় দেন৷

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রায়ে নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৬(২)(অ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছিলেন ৷ আরও দুটি ধারায় তাদের কয়েকজনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড৷ মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হল - জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আব্দুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন ৷ মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়ে বিচারক তাঁর রায়ে বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্য দিয়ে আসামিরা ‘জঙ্গিবাদের উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ' ঘটিয়েছে৷ সাজার ক্ষেত্রে তারা কোনওরকম সহানুভূতি পেতে পারে না ৷

বন্ধ করুন