বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Haridwar Daram Samsad: 'দেশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে', হরিদ্বার ধর্ম সংসদ মামলায় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
হরিদ্বারের ধর্ম সংসদ (ছবি সৌজন্যে এএনআই) (Rameshwar Gaur)

Haridwar Daram Samsad: 'দেশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে', হরিদ্বার ধর্ম সংসদ মামলায় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

  • Haridwar Daram Samsad: যতি নরসিংহানন্দের উদ্যোগে গত ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর হরিদ্বারে ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায় এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল যা নিয়ে ঝড় উঠেছিল দেশজুড়ে।

গত বছরের ডিসেম্বরে হরিদ্বার ধর্ম সংসদের অনুষ্ঠানে যাঁরা ঘৃণাত্মক বক্তৃতা দিয়েছিলেন তাঁরা দেশের 'পুরো পরিবেশ নষ্ট করছেন', বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত এর প্রেক্ষিতে 'পরামর্শ' দেয়, 'শান্তিতে একসাথে থাকুন, জীবন উপভোগ করুন।'

হরিদ্বারের ধর্ম সংসদ ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত উত্তাল হয়েছিল উত্তরাখণ্ড তথা দেশের রাজনীতি। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এই ধর্ম সংসদ সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি ভিডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হয়। সেখানে বিদ্বেষমূলক ভাষণ বিতর্কে নাম জড়ায় ওয়াসিম রিজভি ওরফে জিতেন্দ্র নারায়ণ ত্যাগী এবং যতি নরসিংহানন্দের। উল্লেখ্য, যতি নরসিংহানন্দের উদ্যোগেই গত ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর হরিদ্বারে ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায় এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল যা নিয়ে ঝড় উঠেছিল দেশজুড়ে।

আরও পড়ুন: আরও একটি মসজিদ হারাতে চাই না, বাবরি স্মৃতি ফিরিয়ে কাশীর জ্ঞানবাপী নিয়ে উদ্বেগ ওয়াইসির

বহু প্রাক্তন সেনা আধিকারিক এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও লিখেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে মামলা হয়। হরিদ্বার ধর্ম সংসদে বিদ্বেষমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ১০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল৷ গত ১২ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ড সরকারকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট৷ আদালতের তরফে ১০ দিনের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের জবাব তলব করা হয়৷ তারপরেই উত্তরাখণ্ড পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। ত্যাগীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ১৩ জানুয়ারি। ত্যাগীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১৫২এ (ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা) এবং ধারা ২৯৮ (যে কোনও ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে শব্দ উচ্চারণ করা) এর অধীনে মামলা করা হয়। এই আবহে শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, 'যে অপরাধে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর। চার মাস ধরে সে হেফাজতে আছে। তদন্ত শেষ হতে পারে। আর কোন তদন্তের জন্য তাঁকে প্রয়োজন আপনার।'

উল্লেখ্য, গত ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের বেদ নিকেতন ধামে ধর্ম সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল। ধর্ম সংসদে প্ররোচণামূলক বক্তব্য পেশ করে হিংসার ডাক দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন উপস্থিত সাধুরা। প্রকাশ্যে কট্টরপন্থার জয়জয়কার দেখা যায় সেই ধর্ম সংসদে। এভাবে প্রকাশ্যে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার ডাকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বন্ধ করুন