বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Hathras case: রাতে দেহ সৎকার কেন, প্রশাসনের জবাবে অখুশি আদালত
নিহত দলিত তরুণীর দেহ সৎকার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ।
নিহত দলিত তরুণীর দেহ সৎকার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ।

Hathras case: রাতে দেহ সৎকার কেন, প্রশাসনের জবাবে অখুশি আদালত

  • দলিত তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় হাথরাসের জেলাশাসককে আর দায়িত্বে রাখা উচিত কি না, প্রশ্ন করেও জবাব পায়নি আদালত।

হাথরাসকাণ্ডে রাতে নিগৃহীতার দেহ সৎকারে জেলাশাসকের নির্দেশের পিছনে থাকা যুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশকরল এলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চ।

হাথরাসের জেলাশাসক প্রবীণ কুমার লক্সকরের নথিভুক্ত বিবৃতি আদালতে জমা পড়লে গত ১২ অক্টোবরের নির্দেশে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি পঙ্কজ মিতাল ও বিচারপতি রাজন রায়ের বিভাগীয় বেঞ্চ।

এর আগে নিগৃহীতার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বয়ান নথিভুক্ত করে বিভাগীয় বেঞ্চ। সেই সঙ্গে সোমবার নথিভুক্ত করা হয় ঘটনায় জড়িত সরকারি আধিকারিকদের জবানবন্দি। আগামী ২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

এ দিনের নির্দেশে আদালত জানিয়েছে, ‘ঠিক কী কারণে সৎকারের আগে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়নি, তাই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও যুক্তিপূর্ণ উত্তর আমরা পাইনি। অন্তিম ক্রিয়ার জন্য কেন পরিবারের হাতে কমপক্ষে আধ ঘণ্টার জন্য দেহ তুলে দেওয়া হল না, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সৎকার শেষরাতে বা পরের দিন সকালেও করা যেত।’

বিভাগীয় বেঞ্চের মতে, ‘দুটি বিষয়ে এখনও খটকা রয়েছে আদালতের। প্রথমত, এ ক্ষেত্রে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত, মানবাধিকারের বৃহৎ প্রেক্ষিতে নাগরিকদের যে মৌলিক অধিকার সংবিধান প্রদান করেছে, তা খেয়াল বা আপসের বশে খণ্ডন করা হয়েছে কি না, তাই নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।’

আদালত জানিয়েছে, ‘যদি আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কারণে মানবাধিকারের মতো মূল্যবান অধিকার খর্ব করা হয়ে থাকে, তা হলে তার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন যথাযোগ্য ব্যবস্থা করা হয়নি, তা-ও জানতে চায় আদালত। বিশেষ করে অধিকার বঞ্চিত ব্যক্তি যদি পিছিয়ে পড়া অশিক্ষিত নিম্ন সম্প্রদায়ভুক্ত হয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।’

প্রশাসনের আচরণে নিগৃহীতার পরিবারের ক্লেশ উল্লেখ করে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, ঘটনায় হাথরাসের পুলিশ সুপার বিক্রান্ত বীরকে সাসপেকরা হলেও কী কারণে ছাড় পেয়ে গেলেন জেলাশাসক। এই বিষয়ে অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিব অবনীশ আওয়াস্থির কাছে আদালত জানতে চায়, গভীর রাতে নিগৃহীতার দেহ সৎকারের সিদ্ধান্ত সম্মিলিত ছিল বলে জেলাশাসকের দাবি কি সঠিক? 

জবাবে আওয়াস্থি জানিয়েছেন, সিট তদন্তের প্রথম রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে জেলাশাসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। কেন একই ঘটনায় দুই উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের প্রতি পৃথক আচরণ করা হল, সে সম্পর্কে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি স্বরাষ্ট্র সচিব, জানিয়েছে আদালত।

দলিত তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় হাথরাসের জেলাশাসককে আর ওই পদে রাখা উচিত কি না, তাই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সচিব তার উত্তর এখনও পর্যন্ত দেননি বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট। প্রশ্নের মুখে আওয়াস্থিজানান, এই বিষয়ে বিবেচনা করে পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। 

আদালত তাতে মন্তব্য করে, ‘আমরা একটি ন্যায্য ও দ্রুত সিদ্ধান্তের আশা করছি।’ একই সঙ্গে, নিহত তরীণীর পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ। হাথরাসের অপসারিত এসপি বিক্রান্ত বীরকে পরবর্তী শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

বন্ধ করুন