ফাইল চিত্র।
ফাইল চিত্র।

দোলের রং তুলতে জেনে নিন একগুচ্ছ সহজ উপায়

  • কেউ বিষয়গুলি মজা করেই মেনে নেন, কেউ বা মনস্থির করেন আর নয়, এই শেষবার রঙ খেলা। এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না।

রং মেখে ভূত না হলে দোলের মজাই মাটি। দোল খেলা না হয় হল, কিন্তু হাতে-মুখে যে অবাধ্য রং চেপে বসেছে, তা তোলা কি কম ঝক্কির! ছোবড়া রগড়াতে রগড়াতে ছাল-চামড়ার দফারফা। উপরি পাওনা বেশ কয়েক ঘণ্টার জ্বলুনি। তবু ওঠে না রং দিয়ে যত্নে আঁকা গোঁফের রেখা, নখের ভিতর অবধি পৌঁছে যাওয়া রং, যার ফলে কাটতে হয় সাধের নখও। ত্বকের উপরে, চুলের গোড়া পর্যন্ত হানা দিয়েছে বাঁদুরে রঙের ধারা। কলেজে, অফিসে তো বটেই, যে কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়াই তখন চাপের। দোলের মজা চলুক বহাল তবিয়তে, বরং জেনে নেওয়া যাক অবাধ্য রং তোলার জরুরি কিছু টিপ্‌স।

ফাইল চিত্র।
ফাইল চিত্র।

১. ছোটবেলা থেকে নিশ্চয় শুনেছেন, নারকেল তেল মেখে রঙ খেললে পরে তুলতে সুবিধা হয়। রং খেলার পরে ফেস প্যাক না লাগিয়ে বরং আগেই মেখে নিন নারকেল তেল।যদি নারকেল তেল মাখতে আপত্তি থাকে, তা হলে অলিভ অয়েলও মেখে নিতে পারেন। তাতে পরে রং তুলতে সমস্যা হবে না।

২. রং খেলতে যাওয়ার আগে অবশ্যই এসপিএফ ২০ বা তার থেকে বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ত্বকে পিগমেন্টেশন থাকলে তুলনায় বেশি শক্তিশালী সানস্ক্রিন লোশন লাগাতে হবে। ত্বক রুক্ষ হলে, প্রথমে সানস্ক্রিন লাগিয়ে কয়েক মিনিট পরে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

ফাইল চিত্র।
ফাইল চিত্র।

৩. মুখের জন্য সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলে রং পুরোপুরি ওঠে না, আবার ত্বকও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই মধু, ক্যালামাইন লোশন ও রোজ ওয়াটার এক সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রাখুন। এতে রং যেমন উঠবে তেমনই খারাপ রং থেকে ত্বকের ক্ষতি হলে তাও রক্ষা করবে এই প্যাক। তৈলাক্ত ত্বক হলে মুলতানি মাটি, গ্লিসারিন ও নুন দিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটা মুখে লাগিয়ে রাখুন। জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক হলে ময়দা, দুধ, গ্লিসারিন ও নুন মিশিয়ে ১০ মিনিট স্ক্রাব করলে রং উঠবে তাড়াতাড়ি।

ফাইল চিত্র।
ফাইল চিত্র।

৪. যদি মনে করেন রং খেলার জেরে আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে, তাহলে গোটা দশ আমন্ড (কাঠবাদাম) বেটে তার সঙ্গে মধু ও লেবুর রস মেশান। প্রাথমিক ভাবে মুখ ফেস ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে প্যাকটি মাখার পর শুকোনো অবধি অপেক্ষা করুন। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

ফাইল চিত্র।
ফাইল চিত্র।

৫. রং খেলার পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করার আগে, জল দিয়ে আগে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। চার টেবিল চামচ মেথি, জবা ফুল, নারকেল তেল ফুটিয়ে তেল তৈরি করুন। জল দিয়ে চুল ধোওয়ার পরে মাথায় ডিমের কুসুম মেখে থাকুন ৩০ মিনিট। যদি ডিমের গন্ধে অসুবিধা থাকে তাহলে দই ও মেথি মিশিয়েও লাগাতে পারেন। শ্যাম্পু করার আগে ১০ মিনিট জল দিয়ে ডিমের কুসুম বা দইয়ের প্যাক ধুয়ে নিন। তারপর শ্যাম্পু করুন। মনে রাখবেন, রং খেলতে যাওয়ার আগে অবশ্যই চুলে তেল মেখে যাবেন, তাহলে পরে রং তুলতে সমস্যা হবে না।

ফাইল চিত্র।
ফাইল চিত্র।

৬. সমপরিমাণ বেসন ও চালের গুঁড়ো নিয়ে তাতে হলুদ গুঁড়ো ও গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগান।এই প্যাক স্ক্রাবের কাজ করবে।পেস্টটি মাখার পরে খানিক শুকিয়ে গেলে রগড়াতে থাকুন। যদি সম্ভব হয় ইউটিউবে মাসাজ পদ্ধতি দেখে নিতে পারেন। শুকিয়ে এলে কাঁচা দুধ মিশিয়ে আবার স্ক্রাবিং করতে থাকুন। মিনিট দশেক করার পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করবে, সুতরাং ত্বকের কোনও সমস্যা হবে না।

তবে আর দোলে রং মাখায় ভয় কী? কারণ, জীবনে রঙের বড়ই প্রয়োজন।





বন্ধ করুন