বাড়ি > ঘরে বাইরে > শিশুদের অঙ্কের ভয় তাড়াতে চান ‘বিশ্বের দ্রুততম মানব কম্পিউটার’ নীলকণ্ঠ
মাইন্ড স্পোর্টস অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় সম্প্রতি সোনা জিতে বিশ্বের দ্রুততম মানব-কম্পিউটার শিরোপা পেলেন হায়দরাবাদের ২১ বছর বয়েসি নীলকান্ত ভানু প্রকাশ। ছবি: এএনআই।
মাইন্ড স্পোর্টস অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় সম্প্রতি সোনা জিতে বিশ্বের দ্রুততম মানব-কম্পিউটার শিরোপা পেলেন হায়দরাবাদের ২১ বছর বয়েসি নীলকান্ত ভানু প্রকাশ। ছবি: এএনআই।

শিশুদের অঙ্কের ভয় তাড়াতে চান ‘বিশ্বের দ্রুততম মানব কম্পিউটার’ নীলকণ্ঠ

  • তিনি ৪টি বিশ্বরেকর্ড এবং ৫০টি লিমকা রেকর্ডের অধিকারী। ক্যালকুলেটরের চেয়ে দ্রুত গণনা করতে পারে তাঁর মস্তিষ্ক।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত মাইন্ড স্পোর্টস অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় সম্প্রতি সোনা জিতে বিশ্বের দ্রুততম মানব-কম্পিউটার শিরোপা পেলেন হায়দরাবাদের ২১ বছর বয়েসি নীলকান্ত ভানু প্রকাশ। ভারতীয় ছাত্রদের অঙ্ক-ভীতি কাটানোই তাঁর স্বপ্ন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের গণিত অনার্সের এই ছাত্রের আস্তিনে একাধিক বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের দ্রুততম মানব-কম্পিউটার হিসেবে ৫০টি লিমকা রেকর্ডেরও মালিক তিনি। 

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ভানু প্রকাশ জানিয়েছেন, ‘আমি ৪টি বিশ্বরেকর্ড এবং ৫০টি লিমকা রেকর্ডের অধিকারী। ক্যালকুলেটরের চেয়ে দ্রুত গণনা করতে পারে আমার মস্তিষ্ক। স্কট ফ্ল্যানসবার্গ ও শকুন্তলা দেবীর মতো গণিত দিকপালদের রেকর্ড ভাঙা নিঃসন্দেহে জাতীয় গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতির গণিত বিশ্বে ভারতের নাম উজ্জবল করার জন্য আমার অবদানটুকু রাখলাম।’

১৩টি দেশের ৫৭ বছর বয়েসি পর্যন্ত মোট ৩০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভার্চুয়াল মাইন্ড স্পোর্টস অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা। তালিকায় ভারত ছাড়াও ছিল ব্রিটেন, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, গ্রিস ও লেবাননের মতো দেশ। অলিম্পিয়াডে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী লেবাননের প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৫ পয়েন্ট বেশি পেয়েছেন ভানু প্রকাশ। তৃতীয় স্থানাধিকারী আমিরশাহির প্রতিযোগী তাঁর চেয়ে ৬৬ পয়েন্ট কম পান। ভানু প্রকাশ জানিয়েছেন, তাঁর গতি দেখে অভিভূত বিচারকরা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁকে অতিরিক্ত কিছু গণনা করতেও দেন। 

ভানু প্রকাশ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে গণিতের প্রসার ঘটাতে তিনি ‘ভিশন ম্যাথ’ চালু করতে চান। এই অভিযানের মাধ্যমে ভীতি দূর করে পড়ুয়াদের মধ্যে অঙ্কের প্রতি অনুরাগ তৈরি করতে চান তিনি।

তাঁর কথায়, ‘আমি চাই কোটি কোটি শিশুর অঙ্কের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার জন্য দেশজুড়ে ম্যাথ ল্যাব গড়ে তুলতে। সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জনের অঙ্ক বুঝতে অসুবিধা হয়। অঙ্কের প্রতি ভয় এবং অনুপ্রেরণার অভাব স্কুলছুটের সংখ্যাবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’

ভানু প্রকাশের বাবা শ্রীনিবাস জোন্নালগাড্ডা ছেলে সম্পর্কে স্বভাবতই গর্বিত। তিনিও ছেলের দেশ থেকে অঙ্ক-ভীতি দূর করার উদ্যোগের সমর্থক। তিনি জানিয়েছেন, শিশুদের মস্তিষ্কের প্রশিক্ষণ ও পাটিগণিতের তালিম দিয়ে তাদের অঙ্কের প্রতি আগ্রহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে ভানুর। বিষয়টিকে মাথার খেলা হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলতে এই পরিকল্পনা সফল হবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

বন্ধ করুন