বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ICICI Bank fraud: কোছার ও ধূতের সংস্থায় ডিরেক্টর মালি-সাফাইকর্মীরা, নালিশ ইডি’র
আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন এমডি চন্দা কোছারের স্বামী আর্থিক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত দীপক কোছার। (ফাইল ফোটো)
আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন এমডি চন্দা কোছারের স্বামী আর্থিক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত দীপক কোছার। (ফাইল ফোটো)

ICICI Bank fraud: কোছার ও ধূতের সংস্থায় ডিরেক্টর মালি-সাফাইকর্মীরা, নালিশ ইডি’র

  • অনেকেরই দাবি, যে সংস্থার তিনি অধিকর্তা, তার নামই শোনেননি কখনও।

বাড়ির মালি, ড্রাইভার এবং অফিস পিওনদের ভুয়ো সংস্থার অধিকর্তা হিসেবে দেখিয়েছেন আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর চন্দা কোছারের স্বামী দীপক কোছার ও ভিডিওকন গ্রুপ চেয়ারম্যান বেণুগোপাল ধূত। গত নভেম্বর মাসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটর দাখিল করা চার্জশিটে এমনই অভিযোগ করা হয়েছে।

এই সমস্ত কর্মচারীদের বয়ান ইডি-র চার্জশিটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের অনেকে দাবি করেছেন, যে সংস্থার তিনি অধিকর্তা, তার নামই শোনেননি কখনও। 

৩ নভেম্বর দাখিল করা চার্জশিটটি হিন্দুস্তান টাইমস দেখেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সাল থেকে ধূতের আহমেদনগর বাংলোয় কর্মরত সাফাইকর্মী কেশরমল নেনসুখলাল গান্ধী ইন্ডিয়ান রেফ্রিজারেটর কোম্পানি লিমিটেড সংস্থার অধিকর্তা পদে রয়েছেন। ইডি-কে তিনি জানিয়েছেন, ওই সংস্থা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না এবং তিনি যে সেখানে অধিপর্তা পদে রয়েছেন, সে ধারণাও তাঁর ছিল না। বলা বাহূল্য, সংস্থার লেনদেন সংক্রান্ত হিসেবও তাঁর অজানা।

ভিডিওকন ইন্টারন্যাশনাল সংস্থায় ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মালি হিসেবে কর্মরত লক্ষ্মীকান্ত সুধাকর কাটোরে ইডি-কে জানিয়েছেন, বিবিধ সংস্থায় তিনি অধিকর্তা পদে রয়েছেন এবং রিয়েল ক্লিনটেক প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থায় নিজের ৫০% মালিকানা সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণাই নেই। ভিডিওকন থেকে মাসিক ১০,০০০ টাকা বেতন প্রাপ্তির কথা অবশ্য তিনি স্বীকার করেছেন। 

একই ভাবে বসন্ত শেষরাও কাকাড়ে নামে ভিডিওকন-এ ১৯৯৮ সাল থেকে কর্মরত এক ব্যক্তিকে একশোর বেশি সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি আদতে দফতর পরিচালনা, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজ, আয়কর ও পরিষেবা কর রিটার্ন জমা করার দায়িত্বে ভিডিওকন-এ নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সংস্থারই নথিপত্র তিনি দেখেননি। 

এর পাশাপাশি দীপক কোছারও তাঁর পরিচিত অনেককে বিবিধ ভুয়ো সংস্থার অধিকর্তা ও অন্যান্য উঁচু পদাধিকারী হেসেবে দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ ইডি-র। যেমন, ছোটবেলার বন্ধু আনন্দ মোহন দালওয়ানিকে ছয়টি সংস্থার অধিকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। দালওয়ানি ইডি-কে জানিয়েছেন, একমাত্র কোছারের নির্দেশেই তিনি নানান নথিতে সই করতেন। 

চন্দা কোছারের ভাইয়ের স্ত্রী নীলম মহেশ আদবানিকেও একাধিক সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে তাঁকে কার্যত নিষ্ক্রিয় অধিকর্তা হিসেবেই দেখানো হয়েছে।

আবার দীপক কোছারের সংস্থা এচান্ডা উর্জা প্রাইভেট লিমিটেডে পিওন হিসেবে কর্মরত এবং তাঁর বাবার দেখভালের কাজে নিযুক্ত কর্মী শরদ শংকর মাত্রেকে পিসিএসপিএল সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁকে দিয়ে ওই সংস্থার বিভিন্ন নথিতে সই করানো হয়েছে, যদিও সে সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণাই নেই। 

ইডি-র অভিযোগ, দীপক কোছারের সংস্থা নিউপাওয়ার রিনিউয়েবলস প্রাইভেট লিমিটেডে মোট ৬৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ভিডিওকন গ্রুপ, যা মূলত ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। 

অন্য দিকে, ইডি-র চার্জশিটকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন কোছারের আইনজীবী  বিজয় আগরওয়াল। এই বিষয়ে ধূতের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

বন্ধ করুন