মাস্ক পরে হায়দরাবাদে সাইকেল চালাচ্ছেন এক ব্যক্তি (ছবি সৌজন্য এপি)
মাস্ক পরে হায়দরাবাদে সাইকেল চালাচ্ছেন এক ব্যক্তি (ছবি সৌজন্য এপি)

Immunity Passports for Covid-19: করোনায় সেরে ওঠা রোগীদের ইমিউনিটি পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা WHO-এর

স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার জন্য Immunity Passport দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিল অনেক প্রশাসন।

সুস্থ হয়ে ওঠার পরও করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা যে নেই, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। নেই কোনও প্রমাণ। তাই সুস্থ হয়ে ওঠা করোনা আক্রান্তদের যাত্রা বা কাজে ফেরার অনুমতি না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশগুলিকে সতর্ক করল হু। অর্থাৎ তাঁদের 'ইমিউনিটি পাসপোর্ট' বা 'রিস্ক ফ্রি সার্টিফিকেট' না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিলি জানিয়েছিল, যে করোনা আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের ইমিউনিটি কার্ড দেওয়া হবে। লকডাউন থেকে বেরোনোর জন্য আমেরিকা, জার্মানি এবং ইতালিও সেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিল। কারণ প্রাথমিকভাবে ধারণা ছিল, যে করোনা আক্রান্তরা সেরে উঠেছেন, তাঁরা আর সংক্রামিত হবেন না। কাউকে সংক্রামিত করতেও পারবেন না। ফলে তাঁরা অনায়াসে অন্যদের সংস্পর্শে আসতে পারেন।

কিন্তু হু-এর নয়া গবেষণা সেই ধারণায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, ওই ধারণার ফলে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। কারণ যাঁদের সেই সার্টিফিকেট তথা করোনা-মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হবে, তাঁরা মাস্ক পরা, হাত ধোয়ার মতো সতর্কতামূলক কাজ নাও করতে পারেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, 'SARS-CoV-2-এর অ্যান্টিবডির খোঁজ পাওয়ার ভিত্তিতে 'ইমিউনিটি পাসপোর্ট' বা 'রিস্ক ফ্রি সার্টিফিকেট' প্রদানের বিষয়টির পরামর্শ দিয়েছিল কয়েকটি সরকার। যা তাঁদের (সুস্থ হয়ে ওঠা করোনা আক্রান্তদের) কোথাও যাত্রা বা কাজে ফেরার সুযোগ দিত। এটা ভেবে যে পুনরায় সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে সুরক্ষিত তাঁরা। আপাতত এরকম কোনও প্রমাণ নেই, যাঁরা Covid-১৯ থেকে সেরে উঠেছেন ও অ্যান্টিবডি আছে, তাঁরা দ্বিতীয় সংক্রমণের থেকে সুরক্ষিত।'

বিষয়টি নিয়ে অবশ্য হু কোনও অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা পুনম ক্ষেত্রপাল সিং। নতুন প্রমাণ পেলেই গবেষণার তথ্য আপডেট করা হবে বলা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আপাতত আমাদের কাছে প্রমাণ বেই যে সেরোলজিক্যাল টেস্ট (সিরাম ও দেহের অন্যান্য ফ্লুইড) দেখাবে, কোনও ব্যক্তি Covid-১৯ থেকে সুরক্ষিত। পাশাপাশি, কোনও ব্যক্তির বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য কোন টেস্ট করা হবে, সে বিষয়ে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খুব অল্প সংখ্যক মানুষের Covid-১৯-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ফলে এই পদক্ষেপ সেই সমস্যার সমাধান করবে না, যা দূর করার চেষ্টা করছে সরকার।'

এছাড়াও অ্যান্টিবডি টেস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই আদতে নেগেটিভ ব্যক্তির রিপোর্ট পজিটিভ দেখাচ্ছে। আবার উলটো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পাবলিক হেলফ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি শ্রীনাথ রেড্ডি জানান, কোনও ব্যক্তি করোনার কবলে পড়েছেন কিনা সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিতে পারে অ্যান্টিবডি টেস্ট। তবে তা সম্পূর্ণ ইমিউনিটি প্রদান করতে পারে না। যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুরক্ষাকবচ বা অন্যদের সংক্রামিত করতে না পারার সূচক হিসেবেও চিহ্নিত হবে না। তিনি বলেন, 'যদি বড় জনসংখ্যার উপর প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ফলস পজিটিভের (ভুল রিপোর্ট) বিষয়টি আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।'

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণাপত্র অনুযায়ী, যে করোনা আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্য়ান্টিবডি রয়েছে। কয়েকজনের রক্তে কম মাত্রায় নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি (যে অ্য়ান্টিবডি কোষকে প্যাথোজেনের দ্বারা সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করে) রয়েছে। যা ইঙ্গিত করে, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সেলুলার ইমিউনিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, 'মানবদেহে এই ভাইরাসের মাধ্যমে আবার সংক্রমণ হওয়ার বিরুদ্ধে SARS-CoV-2-এর অ্যান্টিবডি ইমিনিউটি গড়ে তোলে কিনা, তা নিয়ে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও গবেষণা মূল্যায়ন করেনি।'

বন্ধ করুন