বাড়ি > ঘরে বাইরে > করোনা পরবর্তী ভারতে বাড়বে সাইকেল চলাচলের রাস্তা, বাজারে হাঁটার জায়গা
করোনা-পরবর্তী ভারতে সাইকেল চলাচলের উপর বাড়তি জোর (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
করোনা-পরবর্তী ভারতে সাইকেল চলাচলের উপর বাড়তি জোর (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

করোনা পরবর্তী ভারতে বাড়বে সাইকেল চলাচলের রাস্তা, বাজারে হাঁটার জায়গা

  • কলকাতায় কমপক্ষে তিনটি বাজারে হাঁটার জায়গা বাড়ানো হতে পারে।

অনীশা দত্ত

করোনাভাইরাস পরবর্তী দেশের বাজারগুলি পথচারী বান্ধব (বাজারে আরও বেশি হাঁটার জায়গা) করে তোলার প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি সাইকেল চলাচল এবং হাঁটার পথ আরও বাড়াতে হবে। রাজ্যগুলিকে একটি অ্যাভাইজারি জারি করে একথা বলল কেন্দ্রের আবাসন এবং নগর বিষয়ক মন্ত্রক।

সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন শহর এবং পুর এলাকায় পথচারী বান্ধব বাজারের জন্য় রূপরেখা তৈরি করার সুপারিশ করা হয়েছে। যে শহরগুলিতে জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি, সেখানে কমপক্ষে তিনটি বাজারকে 'পথচারীকরণ পরিকল্পনা-র জন্য বাছতে হবে। যে শহরগুলির জনসংখ্যা ১০ লাখের সংখ্যা কম, সেখানে কমপক্ষে একটি বাজার চিহ্নিত করতে হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সেই বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। 

অ্যাভাইজারিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের শহরগুলিকে স্তব্ধ করে  দিয়েছে Covid-১৯। অনেক শহরেই গণ পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বা খুব অল্পসংখ্যক চলছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে মুক্ত বায়ুর ফলে শহরগুলি লাভবান হয়েছে। শহরগুলিতে যখন লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে তখন প্রয়োজন হল, পরিবহনের নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং উপযুক্ত মাধ্যমের সুবিধা দেওয়া এবং শারীরিক দূরত্বও নিশ্চিত করা।’

কেন্দ্রের বক্তব্য, ধাপে ধাপে লকডাউন শিথিল করা হলেও বাজার-সহ অন্যান্য জায়গায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে করোনা মহামারীর ফলে রাস্তা ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা সুযোগ মিলেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে মানুষের সুবিধায় বাজার চত্বরকে করোনামুক্ত বানাতে শহরগুলিতে হাঁটা পথের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন শহরগুলিতে ক্রমশ সাইকেল চলাচলের রাস্তার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে অবশ্য ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের প্রবণতা বাড়বে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

তবে ভারতের বিভিন্ন বাজার চত্বর ঘিঞ্জি হওয়ায় কাজটা যে সহজ হবে না, তা অনুধাবন করে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষাবিধি মেনে হাঁটার রাস্তা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে দুটি পর্যায়ে সেটির রূপায়ণ শুরু হবে - একটি স্বল্পকালীন, অপরটি দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে।

অ্যাভাইজারিতে জানানো হয়েছে, যে কাজগুলি তাড়াতাড়ি করা যাবে, অস্থায়ী এবং সহজে তৈরি করা যাবে সেগুলি স্বল্পকালীন সুপারিশের আওতায় রাখা হবে। লকডাউনের পর পথচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেই কাজ শুরু হবে। কীভাবে করা হবে, তাও জানানো হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্যারিকেড বসিয়ে, গাড়ির জন্য রাস্তা বন্ধ করে, রাস্তার উপর পার্কিং ও গাড়ি চলাচলের পথ বদলে আরও হাঁটার এবং দাঁড়ানোর জায়গা বের করা যেতে পারে। চিহ্নিত লেনে সাইকেলও চালানোর অনুমতি দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

তবে এলাকার বাসিন্দাদের মোটরগাড়ির যাতায়াতের নিয়মাবলী ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। পুর কর্তৃপক্ষ বাজারমুখী রাস্তায় হাঁটার জায়গার পরিধি বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। অ্যাভাইজারিতে বলা হয়েছে, ‘স্বল্পকালীন পদক্ষেপগুলি কাজ করছে বোঝা গেলে হাঁটার রাস্তা বৃদ্ধির দীর্ঘকালীন কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।’

কতদিনের মধ্যে সেই কাজ করতে হবে, তারও মোটামুটি একটা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সবপক্ষের সঙ্গে আগামী তিন মাসের তথা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে। আর চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাজারের বিক্রেতা এবং অন্যান্য ব্য়ক্তিদের সমীক্ষা শেষ করতে হবে। অ্যাভাইজারিতে বলা হয়েছে, '২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রূপায়ণের কাজ শুরু করা যেতে পারে। পরিকল্পনা মূল্যায়নের অস্থায়ী ব্যারিকেড, রাস্তা বন্ধ করা, নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করার মতো স্বল্পকালীন পদক্ষেপগুলি আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শুরু করা যেতে পারে। স্বল্পকালীন পরিকল্পনার মাধ্যমে যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার মূল্যায়ন ২০২০ সালের নভেম্বরের মধ্যে করা যেতে পারে এবং সেই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা যেতে পারে।'

বন্ধ করুন