বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ৫৫ বছর পর চালু হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল, বাংলাদেশের সঙ্গে ৭ চুক্তি 'প্রকৃত বন্ধু' ভারতের
ভার্চুয়াল সম্মেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। (ছবি সৌজন্য এএনআই)
ভার্চুয়াল সম্মেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। (ছবি সৌজন্য এএনআই)

৫৫ বছর পর চালু হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল, বাংলাদেশের সঙ্গে ৭ চুক্তি 'প্রকৃত বন্ধু' ভারতের

  • কী কারণে ১৭ ডিসেম্বর তাঁর পরিবারের কাছে অত্যন্ত বিশেষ দিন, সে কথাও জানান হাসিনা।

চিনের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও জোর দিল ভারত। সেই ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাতটি চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত এবং বাংলাদেশ। একইসঙ্গে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল রুটেরও উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভার্চুয়াল সম্মেলনের শুরুতে বাংলাদেশকে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন মোদী। হাসিনা জানান, অর্থনীতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক স্তরে আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবে দু'দেশ। সেই প্রক্রিয়ায় হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করবে বলেও জানান হাসিনা। সেই রেলপথ দিয়ে একটা সময় শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়ির মধ্যে যোগ তৈরি হয়েছিল। ওই লাইন ধরেই চলাচল করত দার্জিলিং মেল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের পর সেই লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে ৫৫ বছরের প্রতীক্ষার পর আবারও রুট চালু করা হয়েছে। যা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী বার্তা বহন করবে বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি। তবে করোনাভাইরাসের কারণে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সেই অনুষ্ঠান হয়নি। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই রেল রুটের উদ্বোধন করেন মোদী ও হাসিনা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। 

এছাড়াও হাইড্রোকার্বন, কৃষি, বস্ত্রশিল্প-সহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য সাতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত হাতি চলাচল, বাংলাদেশের বরিশালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির জন্য যন্ত্রপাতির জোগান এবং একটি সিইও ফোরাম তৈরির শর্তাবলী নিয়েও চুক্তি করেছে দু'দেশ। ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের উপর একটি ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মোদী এবং হাসিনা। যা দুই জননেতার জীবন তুলে ধরবে। বঙ্গবন্ধুর সম্মানে একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়।

একইসঙ্গে কী কারণে ১৭ ডিসেম্বর তাঁর পরিবারের কাছে অত্যন্ত বিশেষ দিন, সে কথাও জানান হাসিনা। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করেছিল বাংলাদেশ। পরদিন পাকিস্তান সেনার হাতে বন্দি হাসিনার মা, বোন এবং ভাইকে মুক্ত করেছিলেন ভারতীয় সেনার মেজর অশোক তারা। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ৩০ লাখ বাংলাদেশি এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান। ভারতকে ‘সত্যিকারের বন্ধু’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

বন্ধ করুন