বাড়ি > ঘরে বাইরে > ম্যারাথন বৈঠকে সেনা সরানোর বিষয়ে 'পারস্পরিক ঐক্যমত' ভারত-চিনের
ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও চিন আদৌও সেনা সরাবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এএফপি)
ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও চিন আদৌও সেনা সরাবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এএফপি)

ম্যারাথন বৈঠকে সেনা সরানোর বিষয়ে 'পারস্পরিক ঐক্যমত' ভারত-চিনের

ইতিবাচক ইঙ্গিত মিললেও চিন আদৌও সেনা সরাবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাহুল সিং

মলডোতে ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছে। এমনটাই ইঙ্গিত দিল ভারতীয় সেনা। দুই শীর্ষ আধিকারিক জানান, ‘সেনা সরানোর বিষয়ে পারস্পরিক ঐক্যমত’-এ পৌঁছেছে ভারতীয় এবং চিনা সেনা।

পরে ভারতীয় সেনার তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘গতকাল মলডোতে ভারত এবং চিনের মধ্যে কর্পস কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠক আন্তরিক, ইতিবাচক ও গঠনমূলক হয়েছে। সেনা সরানোর বিষয়ে পারস্পরিক ঐক্যমত হয়েছে। পূর্ব লাদাখের সব সংঘাতের এলাকা থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তা এগিয়ে নিয়ে যাবে দু'পক্ষ।’

সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টা নাগাদ শুরু হওয়া সেই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লেহ'র ১৪ কর্পসের কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। চিনের তরফে বৈঠকে ছিলেন দক্ষিণ শিনজিয়াং সামরিক প্রদেশের কম্যান্ডার মেজর জেনারেল লিন লিউ।

গালওয়ান সংঘর্ষের ঠিক আটদিনের মাথায় সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়, সেদিকে নজর ছিল দেশের সামরিক এবং কূটনৈতিক মহলের। দুই আধিকারিক জানান, ফিঙ্গার এরিয়া থেকে চিনা সেনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল। প্যাংগং সো লেকের সেই কৌশলগত ক্ষেত্রের ক্লাস্টারে বাঙ্কার, পিলবক্স, নজরদারি পোস্ট তৈরি করেছিল চিনা সেনা। গালওয়ান সংঘর্ষের জায়গা থেকে চিনা সেনা সরানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলিকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বেজিংয়ের আগ্রাসন বন্ধের বিষয়ে আগাগোড়াই চিনা সেনার থেকে আশ্বাস চাইছিল ভারতীয় সেনা।

ওই আধিকারিকরা জানান, বিতর্কিত সীমান্তের ওপারের ‘গভীর এলাকা'-য় চিনা ফৌজির সংখ্যা কমানোরও দাবি জানিয়েছে ভারত। ফিঙ্গার এরিয়া, গোগরা পোস্ট-হটস্প্রিং এবং গালওয়ান উপত্যকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যেই বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন দুই আধিকারিক। তাঁদের বক্তব্য, গত সাত সপ্তাহ ধরে ফিঙ্গার ৪ এবং ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যে চিনা গতিবিধি এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উপস্থিতির বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ভারতীয় সেনা। সেই এলাকাগুলিতে চিনা সেনার অবস্থানের কারণে ভারতীয় জওয়ানদের টহলদারিতে সমস্যা হচ্ছে, অথচ সেই এলাকাটি ভারতের। প্যাংগং সো লেকের উত্তরে গোগরা পোস্ট-হটস্প্রিঙে চিনের সাঁজোয়া বাহিনী, সৈন্য সমাবেশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সেনা। ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, ওই এলাকা থেকে পিছিয়ে গিয়ে গত এপ্রিলের গোড়ার দিকে যেখানে চিনা সেনা ছিল, সেখানেই তারা চলে যাক। |

এদিকে, মঙ্গলবার দু'দিনের লেহ সফরে যাচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এন নারাভানে। চিনের সঙ্গে বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে ১৪ কর্পসের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। সেখানে কী পরিস্থিতি এবং পার্বত্য এলাকায় সেনা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি, ফরোয়ার্ড পোস্টেও যাবেন বলে সেনা সূত্রে খবর।

বন্ধ করুন