মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ছবি সৌজন্য ব্লুমবার্গ)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ছবি সৌজন্য ব্লুমবার্গ)

'করোনায় দায়ী' চিনকে প্যাঁচে ফেলতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুতের পথে আমেরিকা

  • ভারত, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কথায় আছে, কারোর পৌষ মাস তো, কারও সর্বনাশ। বাস্তবে অবশ্য কথাটা খানিকটা উলটে গিয়েছে - চিনের সর্বনাশ তো, ভারতের পৌষ মাস!

কিন্তু কেন? করোনাভাইরাস সংক্রান্ত মিথ্যা, প্রতারণা এবং ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে চিন থেকে কারখানা সরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে মার্কিন মুলুকে। অন্যদিকে ভারত, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

করোনা মহামারীর জন্য চিনকে দায়ী করতে ১৮ টি পয়েন্ট-সহ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন এক উচ্চপদস্থ সেনেটর থম তিলিস। তিনি বলেন, 'চিনা সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে (করোনা) ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল এবং বিশ্বে মহামারী তৈরি করে এত আমেরিকানদের জীবনে দুর্দশা নিয়ে এসেছে। এটা সেই শাসনকাল, যে আমলে নিজেদের নাগরিকদের শ্রম ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়, আমেরিকার প্রযুক্তি এবং চাকরি চুরি করে নেওয়া হয় এবং আমাদের বন্ধু (রাষ্ট্রগুলির) সার্বভৌমত্বের প্রতি ভীতিপ্রদর্শন করা হয়।'

আঞ্চলিকভাবে চিনকে একঘরে করে দিয়ে বেজিংয়ের উপর চাপ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিলিসের। তবে আঞ্চলিকভাবে পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার চিন ‘প্রীতি’-র কথা মাথায় রেখে ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলিকে কাছে টানার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নিজের পরিকল্পনায় তিলিস বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকি মুক্ত বিশ্বের প্রতি এটা গুরুত্বপূর্ণ জাগ্রত হওয়ার সময়। করোনা নিয়ে মিথ্যার জন্য চিনা সরকারকে দায়ী করবে আমার পরিকল্পনা। চিনা সরকারের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পাশাপাশি আমেরিকার অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।'

সেই পরিকল্পনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নয়া কর্মসূচি তৈরির পাশাপাশি দ্রুত সেনাকে ২০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার আর্জিতে সায় দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে আঞ্চলিক বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন - জাপানকে সামরিক বাহিনী নতুন করে গড়ে তোলায় উৎসাহ প্রদান এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সমরাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিজের পরিকল্পনায় তিলিস বলেছেন, 'চিন থেকে উৎপাদন কারখানা আমেরিকায় নিয়ে আসা হোক এবং ধাপে ধাপে জোগানের জন্য চিনের উপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমানো হোক। চিনকে আমাদের প্রযুক্তি চুরি করা থেকে আটকানো হোক এবং আমাদের প্রযুক্তিগত সুবিধাকে হস্তগত করার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলিকে ইনসেনটিভ দেওয়া হোক। চিনা হ্যাক এবং নাশকতা রুখতে সাইবার সুরক্ষা জোরদার করা হোক।'

বন্ধ করুন