বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ভোজ্য তেলের আমদানি শুল্কে আপাতত কাটছাঁট নয়, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের : রিপোর্ট
ভোজ্য তেলের আমদানি শুল্কে আপাতত কাটছাঁট নয়, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের : রিপোর্ট। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান)

ভোজ্য তেলের আমদানি শুল্কে আপাতত কাটছাঁট নয়, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের : রিপোর্ট

  • আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছিল। তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিশ্ব বাজারে পড়ছে দাম। তাই ভোজ্য তেলের উপর আমদানি শুল্ক কমানোর যে প্রস্তাব বিবেচনা করছিল কেন্দ্র, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন দু'জন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক এবং শিল্প মহলের এক ব্যক্তি।

গত এক বছরে ভারতে ভোজ্য তেলের দাম অনেকটা বেড়েছে। তার জেরে গৃহস্থের হেঁশেলে রীতিমতো আগুন ধরেছে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ভারতে লাগাতার বেড়ে যাচ্ছে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। সেই পরিস্থিতিতে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, গুজরাতের মতো রাজ্যে ভোটের আগে ভোজ্য তেলের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছিল।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘আমরা আপাতত আমদানি শুল্ক কাটছাঁট করছি না। দীর্ঘকালীন সমাধানসূত্র বের করতে হবে। আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া মোটেও দীর্ঘকালীন সমাধান নয়।’ 

এমনিতে দেশে ব্যবহৃত দুই-তৃতীয়াংশ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে ভারত। পাম তেলে ৩২.৫ শতাংশ এবং সোয়া তেলে ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ধার্য করে। দ্বিতীয় আধিকারিক জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার পর ভারতের বাজারেও পড়েছে ভোজ্য তেলের দর। তাই আমদানি শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মূল বিষয়টা হল যে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম এবং বিশ্বব্যাপী জোগানের দিকে নজর রাখতে হবে। আর প্রয়োজন হয়, তাহলে ক্রেতা এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে আমরা আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব নিয়ে ফের আলোচনা করব।’

কেন্দ্রের কর্তাদের বক্তব্য, আমদানি শুল্ক কমালেও তার প্রভাব কতটা দেশীয় বাজারে পড়ত, তা নিয়ে ধন্দ আছে। কারণ সরকার আমদানি শুল্কে কাটছাঁট করার পর বিদেশি সংস্থাগুলি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অতীতে পাম তেলের ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তাই আপাতত ভারতেই তৈলবীজ উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের কৃষকরা সয়াবিন এবং বাদামের চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা।

বুধবার কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘গত এক মাসে ভোজ্য তেলের দাম কমেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে দাম পড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত।’ সঙ্গে যোগ করা হয়েছে, ‘বিভিন্ন জটিল বিষয়ের উপর ভোজ্য তেলের দাম নির্ভর করে। তার মধ্যে আছে - আন্তর্জাতিক বাজারের দর এবং ঘরোয়া উৎপাদন। দেশে উৎপাদন এবং চাহিদার মধ্যে যেহেতু বড়সড় ফারাক আছে, তাই ভোজ্য তেলের একটা বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।’ সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সেই সমস্যা মেটানো যায়, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেয় কেন্দ্র।

বন্ধ করুন