বাড়ি > ঘরে বাইরে > চিনা আগ্রাসন রুখতে কারাকোরাম পাসে এক স্কোয়াড্রন মিসাইল টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক
চিনা আগ্রাসন রুখতে কারাকোরাম পাসে এক স্কোয়াড্রন মিসাইল টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য টুইটার)
চিনা আগ্রাসন রুখতে কারাকোরাম পাসে এক স্কোয়াড্রন মিসাইল টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য টুইটার)

চিনা আগ্রাসন রুখতে কারাকোরাম পাসে এক স্কোয়াড্রন মিসাইল টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক

  • শ্যাক্সগাম-কারাকোরাম পাস অক্ষে চিনের কোনওরকম আগ্রাসন রুখতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিশির গুপ্ত

সীমান্তে উত্তেজনার আবহে আকসাই চিন এলাকায় প্রায় ৫০,০০০ ফৌজি মোতায়েন করেছে চিন। তারইমধ্যে দৌলত বেগ ওল্ডিতে এক স্কোয়াড্রন (১২) টি-৯০ মিসাইল ভীষ্ম ট্যাঙ্ক, সাজোঁয়া গাড়ি এবং পুরো ট্রুপ ব্রিগেড (৪,০০০ জওয়ান) মোতায়েন করল ভারতীয় সেনা। নাম গোপন রাখার শর্তে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্তারা জানিয়েছেন, শ্যাক্সগাম-কারাকোরাম পাস অক্ষে চিনের কোনওরকম আগ্রাসন রুখতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারাকোরাম পাসের দক্ষিণ এবং গালওয়ান-শিয়কের উত্তরে চিপ-চ্যাপ নদীর তীরে দৌলত বেগ ওল্ডিতে ভারতের শেষ চৌকি অবস্থিত। দারবুক-শিয়ক-দৌলত বেগ ওল্ডির কয়েকটি ব্রিজের ৪৬ টনের ট্যাঙ্কের ভার বহনের ক্ষমতা না থাকায় গত ১৫ জুন গালওয়ান সংঘর্ষের পর বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে টি-৯০ ভীষ্মকে নিয়ে গিয়েছে সেনা। প্যাট্রলিং পয়েন্ট ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং প্যাংগং সো লেকের চিনা আগ্রাসনের কারণে আগেই সাঁজোয়া গাড়ি, ১৩০ এমএম বন্দুকের মতো অস্ত্র পাঠানো হয়েছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে ভারতীয় সেনার কমান্ডাররা জানিয়েছেন, সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দু'দেশই একে অপরের উপর নজর রাখছে। ভারত যেমন কড়া নজর রাখছে কত ফৌজি, ট্যাঙ্কস এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার মোতায়েন করেছে চিন। পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে চিনা আগ্রাসন রুখতে দৌলত বেগ ওল্ডিতে অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড তৈরিরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কমান্ডাররা।

তবে ইতিমধ্যে শ্যাক্সগাম উপত্যকায় ৩৬ কিলোমিটারের মতো রাস্তা বানিয়ে ফেলেছে চিন। ভারতীয় সেনার আশঙ্কা, শ্যাক্সগাম পাস দিয়ে জি-২১৯ (লাহসা-কাশগড়) হাইওয়ের সঙ্গে কারাকোরাম পাস যুক্ত করবে চিনা সেনা। সেজন্য সুড়ঙ্গ খোঁড়ার প্রয়োজন হলেও চিনের কাছে সেই প্রযুক্তি রয়েছে। আর সেই রাস্তা তৈরি হয়ে গেলে উত্তর দিক থেকে দৌলত বেগ ওল্ডির উপর বাড়তি নজর দেবে চিন, যাতে সেই রাস্তায় ভারতে কোনওভাবে আক্রমণ চালাতে না পারে।

ভারতীয় সেনার কমান্ডারদের মতে, এবার চিনা আগ্রাসনের মূল লক্ষ্য হল পূর্ব লাদাখে ১,১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সব সংঘাতের এলাকাগুলিতে পূর্বাবস্থা অর্থাৎ ১৯৬০ সালের মতো অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। যদিও চিনের সেই চেষ্টা গালওয়ানে ভেস্তে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। 

সেই ছকের আড়ালে আরও একটি বড় পরিকল্পনা করছে চিন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সময় ও দূরত্ব কম করতে শ্যাক্সগাম-কারাকোরাম পাস অক্ষ দিয়ে জি২১৯ হাইওয়ে থেকে জি৩১৪ হাইওয়ে (কাসগড়-ইসলামাবাদ কারাকোরাম হাইওয়ে) পর্যন্ত যুক্ত করা হবে। তা বাস্তবায়িত হলে শুধুমাত্র দৌলত বেগ ওল্ডিতে নয়, সিয়াচেনেও চাপের মুখে পড়বে ভারত। কারণ সাসের লা-মুরগো অক্ষ দিয়ে সেই চৌকি গুরুত্বপূর্ণ ছাউনি সানসোমার সঙ্গে যুক্ত। অনেকের মতে, ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ, এবার একই পথে হাঁটার চেষ্টা করছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বন্ধ করুন