বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বন্ধুত্ব মানে না কাঁটাতারের বেড়া, ভারত-পাকিস্তানের দুই সইয়ের গল্প ভাইরাল!
ছবি: লিঙ্কডইন (Linkedin)

বন্ধুত্ব মানে না কাঁটাতারের বেড়া, ভারত-পাকিস্তানের দুই সইয়ের গল্প ভাইরাল!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'আর্লি স্টেপস অ্যাকাডেমি'র প্রতিষ্ঠাতা স্নেহা বিশ্বাস। গত ৯ অগস্ট সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পাকিস্তানি সহপাঠী-বান্ধবীর সঙ্গে 'ছক-ভাঙা' বন্ধুত্বের কাহিনী শেয়ার করেছেন তিনি। সঙ্গে একটি মিষ্টি ছবি।

জাগা যে অসহ। তাই ঘুমে চলে যাও।

যারা আছি, যেন বেঁধে নিতে পারি সাঁকো…

জানি দুষ্কর, বলতে চাইছি তাও –

বিপদের দিনে বন্ধুকে কাছে রাখো। -শ্রীজাত (সাঁকো)

ভারত-পাকিস্তান। কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে বন্ধুত্বের সাঁকো। হতেই পারে তারা দু'জনে দুই পারের মানুষ। কিন্তু মানুষ-ই তো! আর বন্ধুহীন কি মানুষ বাঁচতে পারে? বন্ধুত্বের এমনই টান। সেই টানেই আজও এপারের স্নেহা বিশ্বাস ভালবাসেন তাঁর পাকিস্তানি বান্ধবীকে। তাঁদের সেই 'আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বে'র ছবি ভাইরাল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'আর্লি স্টেপস অ্যাকাডেমি'র প্রতিষ্ঠাতা স্নেহা বিশ্বাস। গত ৯ অগস্ট সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পাকিস্তানি সহপাঠী-বান্ধবীর সঙ্গে 'ছক-ভাঙা' বন্ধুত্বের কাহিনী শেয়ার করেছেন তিনি। সঙ্গে একটি মিষ্টি ছবি।

তাঁর পোস্টে, স্নেহা লিখেছেন, 'ভারতের একটি ছোট শহরে বেড়ে ওঠা। পাকিস্তান সম্পর্কে আমার জ্ঞান ক্রিকেট, ইতিহাসের বই এবং মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সবই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ঘৃণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।'

'এভাবেই বেড়ে ওঠা। আর তারপর, একদিন এই মেয়েটির সঙ্গে আমার আলাপ। ইসলামাবাদ, পাকিস্তানের। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে আমার প্রথম দিনেই তার সঙ্গে পরিচয়। একে অপরকে বন্ধু বানিয়ে ফেলতে আমাদের ৫ সেকেন্ড সময় লেগেছিল। প্রথম সেমিস্টারের শেষে সে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের মধ্যে একজন হয়ে ওঠে,' লিখেছেন স্নেহা।

স্নেহা বলেন, চা, বিরিয়ানি, আর্থিক মডেল এবং কেস স্টাডির প্রস্তুতি- এই সবকিছু ঘিরেই ধীরে ধীরে ডানা মেলেছে তাঁদের বন্ধুত্ব।

স্নেহার স্টার্টআপ জলবায়ু থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি- নানা বিষয়ে পড়ুয়াদের ক্লাস অফার করে। তিনি এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। স্নেহা জানান, তাঁর বন্ধুর উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবনার প্রভাব পড়েছিল তাঁর জীবনেও। তাঁর থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তিনি।

'রক্ষণশীল পাকিস্তানে আধুনিকমনস্ক মা-বাবার কারণেই সে ও তার ছোট বোনকে সমস্ত সামাজিক নিয়ম ভাঙার সাহস পেয়েছে। স্বপ্নের পিছনে ছুটে যাওয়ার উত্সাহ দিয়েছেন ওঁদের মা বাবা। আমার জীবনের সঙ্গেও যেন সেটা মিলে গিয়েছে। ওর নির্ভীক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সাহসী সিদ্ধান্তের কাহিনী আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে,' লিখেছেন তিনি।

পাকিস্তানি মেয়েটির সঙ্গে দেখা করার পর স্নেহা বুঝতে পারেন যে, মানুষের ভালোবাসার মাঝে কোনও সীমানার বাধা থাকে না। 'বর্ডার' তো জমি, এলাকা ভাগ করে। কিন্তু মানুষের মন, হৃদয়কে কি তারা টুকরো করতে পারে?

স্নেহার এই কাহিনী লিঙ্কডইনে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষকে মুগ্ধ করেছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ১,৭০০-রও বেশি মানুষ।

দুই দেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে দুই বান্ধবী। তাঁদের মুখের হাসিই প্রমাণ করে যে, আসলে মানুষের ভাবনা, ভালবাসা-এ সবই সমস্ত রাজনীতি, কূটনীতির উর্ধ্বে। সেই ভালবাসার জোরেই তো আজও পৃথিবী এতটা সুন্দর।

বন্ধ করুন