দুর্গতদের প্রতিদিন বিনামূল্যে টাটকা খাবার জোগাচ্ছেন কনওয়ালজিত্ সিং এবং তাঁর স্ত্রী কমলজিত্ কাউর।ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।
দুর্গতদের প্রতিদিন বিনামূল্যে টাটকা খাবার জোগাচ্ছেন কনওয়ালজিত্ সিং এবং তাঁর স্ত্রী কমলজিত্ কাউর।ছবি সৌজন্যে ফেসবুক।

দাবানলের পরোয়া নেই, অস্ট্রেলিয়ায় দুর্গতদের খাদ্য জোগাচ্ছেন ভারতীয় দম্পতি

  • দাবানলের গ্রাসে পড়া ভিক্টোরিয়া রাজ্যের বেয়ার্নসডেল শহরে ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ ব্যবসা রয়েছে কনওয়ালজিত্ সিং এবং তাঁর স্ত্রী কমলজিত্ কাউরের।
  • দাবানলের গ্রাস গত পাঁচ দিন ধরে জ্বলছে বেয়ার্নসডেল। এই পাঁচ দিন আক্রান্তদের নিজেদের খরচাে কারি-রাইস খাওয়াচ্ছেন প্রবাসী দম্পতি।

দুঃসহ দাবানলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ায় দুর্গতদের প্রতিদিন বিনামূল্যে টাটকা খাবার জোগাচ্ছেন এক ভারতীয় দম্পতি। তাঁদের নিরলস পরিশ্রম মুগ্ধ করেছে স্থানীয়দের।

দীর্ঘমেয়াদী দাবানলের গ্রাসে পড়া ভিক্টোরিয়া রাজ্যের বেয়ার্নসডেল শহরে ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ ব্যবসা রয়েছে কনওয়ালজিত্ সিং এবং তাঁর স্ত্রী কমলজিত্ কাউরের। দাবানলের গ্রাস গত পাঁচ দিন ধরে জ্বলছে বেয়ার্নসডেল। এই পাঁচ দিন আক্রান্তদের নিজেদের রেস্তোরাঁয় নিখরচায় কারি-রাইস খাওয়াচ্ছেন প্রবাসী দম্পতি।

শুধু রেস্তোরাঁতেই নয়, দুর্গতদের আশ্রয়শিবিরে গিয়েও খাবার দিয়ে আসছেন কমলজিত্রা। শনিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে কমলজিত্ জানিয়েছেন, ‘এখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। প্রথমে আগুন বিশেষ না ছড়ালেও পরে তা বসতবাড়ি, খামার, গবাদিপশুর আশ্রয়স্থান গ্রাস করতে থাকে। বহু পশু মারাও গিয়েছে এখানে।’

অস্ট্রেলিয়ার বুশ ফায়ারে বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভিক্টোরিয়া। এ ছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস ও দক্ষিণ অস্ট্েরলিয়ার বড় অংশ আগুনে পুড়ে খাক হয়ে চলেছে। কমলজিত্ জানিয়েছেন, আগুনের থাবা এড়াতে বসতবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়শিবির অথবা মেলবোর্নে পালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দুর্যোগ ঘনালে প্রথমে শিখ স্বেচ্ছাসেবী দলকে কাঁচামাল সরবরাহ করছিলেন এই দম্পতি। পরে নিজেদের রেস্তোরাঁতেই দুর্গতদের জন্য খাবার রান্না করা শুরু করেন তাঁরা।

কমলজিত্ কাউর জানিয়েছেন, দুর্যোগের আতহ্কে চাকরি ছেড়ে পালিয়েছে তাঁদের রেস্তোরাঁর অধিকাংশ কর্মী। তাই পরিবারের সদস্য ও কয়েক জন বন্ধুর সাহায্যে তাঁরা রেস্তোরাঁর কাজ চালাচ্ছেন।

প্রায় এক দশক আগে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেন কমলজিত্ ও কনওয়ালজিত্। ২০১৬ সালে তাঁরা বেয়ার্নসডেলে এসে থাকতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে খোলেন ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ।

দাবানলের মাত্রা বাড়তে থাকায় গত বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়ার প্সশানিক প্রধান (প্রিমিয়ার) ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। বাসিন্দাদের অবিলম্বে ভিক্টোরিযা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারই মধ্যে নিজেদের কর্তব্যে অটল ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবী দম্পতি।

বন্ধ করুন