বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বিশ্বের সবচেয়ে সস্তায় এসি-তে ভ্রমণ: AC-3 Tier ইকোনমি ক্লাস চালু করল ভারতীয় রেল
ছবি : পিটিআই (PTI)
ছবি : পিটিআই (PTI)

বিশ্বের সবচেয়ে সস্তায় এসি-তে ভ্রমণ: AC-3 Tier ইকোনমি ক্লাস চালু করল ভারতীয় রেল

লিঙ্ক-হফম্যান বুশ (LHB) প্রোটোটাইপের উপর ভিত্তি করে কোচের নকশা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে যাত্রীধারণ ক্ষমতা। অন্যদিকে যাত্রীদের আরামের উপরেও দেওয়া হয়েছে নজর।

শুক্রবার বিশ্বের সবচেয়ে সস্তার এসি কোচের যাত্রা শুরু করল ভারতীয় রেল। শীঘ্রই দেশের বেশিরভাগ এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেনে আসছে নতুন AC-3 Tier ইকোনমি ক্লাসের কোচ। কাপুরথলা রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি থেকে শুক্রবার ট্রায়াল রান শুরু করল রেল।

লখনউতে রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন এই সংক্রান্ত ট্রায়াল করবে বলে জানানো হয়েছে।

লিঙ্ক-হফম্যান বুশ (LHB) প্রোটোটাইপের উপর ভিত্তি করে কোচের নকশা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে যাত্রীধারণ ক্ষমতা। অন্যদিকে যাত্রীদের আরামের উপরেও দেওয়া হয়েছে নজর।

বেড়েছে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা :

ছবি : পিটিআই
ছবি : পিটিআই (PTI)

এতদিন একটি কোচে ৭২টি বার্থ থাকত। নকশায় অদলবদলের ফলে বেড়েছে সেই সংখ্যা। হাইভোল্টেজ ইলেকট্রিক সুইচ গিয়ারের জায়গা বদলানোর ফলে অতিরিক্ত ১১জনের বসার ব্যবস্থা করা গিয়েছে। নতুন AC-3 Tier কোচে রয়েছে ৮৩টি বার্থ। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের সিট পেতে সুবিধা হবে, অন্যদিকে বেশি যাত্রী বহন করে মুনাফা হবে রেলেরও।

সস্তা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে নেই খামতি :

ছবি : পিটিআই
ছবি : পিটিআই (PTI)

অনেকসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করবেন। পাড়ি দেবেন দূরপাল্লার পথ। তাই তাঁদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধে কোনও খামতি রাখেনি রেল। মোট ৮৩টি বার্থের প্রতিটিতেই থাকছে এসির ভেন্ট। ফলে দমবন্ধ লাগার কোনও সম্ভাবনা নেই।

শুধু তাই নয়, প্রতিটি বার্থেই থাকছে একটি রিডিং লাইট। সেই সঙ্গে মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট। তাছাড়া টুকটাক খাওয়াদাওয়ার জন্য স্ন্যাক্স টেবিল, জলের বোতলের হোল্ডার, মোবাইল ফোন হোল্ডার ও ম্যাগাজিন হোল্ডারও থাকছে প্রত্যেকের।

যাত্রী বেশি, তবুও কামরার ভিতর জায়গা বেশি:

ছবি : পিটিআই
ছবি : পিটিআই (PTI)

যাত্রী বেড়েছে মানে এমন নয় যে ভিতরটা অতিরিক্ত ঘিঞ্জি হয়ে গিয়েছে। নকশায় এমন কিছু রদবদল করা হয়েছে যে, উল্টে বেড়ে গিয়েছে ফ্লোর স্পেস।

মিডল ও আপার বার্থে অনেক সময়ে একটু লম্বা যাত্রীদের হেড স্পেসের সমস্যা হয়। সেদিকেও দেওয়া হয়েছে নজর। তাছাড়া উপরের বার্থে উঠতে যাতে খুব সমস্যা না হয়, সেই জন্য বদল আনা হয়েছে সিঁড়ির নকশায়। এর পাশাপাশি বগির টয়লেটের নকশাও পাল্টানো হয়েছে। দরজা অনেকটাই বড় করা হয়েছে।

এছাড়া রাতে কোনও কারণে উঠলে অন্ধকারে নিজের বার্থ খুঁজে পেতে একটু সমস্যা হয়। সেটাও দূর করেছে রেল। থাকছে বার্থ ইন্ডিকেটর ও বার্থ নম্বর, যেটা রাতে জ্বলজ্বল করবে। বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টও রাতে যাতে অন্ধকারে বোঝা যায় তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা:

বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য থাকছে হুইলচিয়ারের মাধ্যমে ট্রেনে ওঠার পাঠাতন। তাছাড়া তাঁদের কথা মাথায় রেখে রয়েছে বিশেষ টয়লেটও।

বন্ধ করুন