বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পুরনো যাত্রীবাহী কোচই হাতিয়ার, বাজিমাতের চেষ্টায় রেল
প্রতীকী ছবি : এএনআই (ANI)
প্রতীকী ছবি : এএনআই (ANI)

পুরনো যাত্রীবাহী কোচই হাতিয়ার, বাজিমাতের চেষ্টায় রেল

চলতি বছরেই বেশ কিছু 'আপগ্রেড' সেরে ফেলতে চাইছে রেল। তাই ভবিষ্যতের রেল যে কয়েকগুণ বেশি আকর্ষণীয় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

নতুন বছর রেলের জন্য বেশ তাত্পর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ চলতি বছরেই বেশ কিছু 'আপগ্রেড' সেরে ফেলতে চাইছে রেল। তাই ভবিষ্যতের রেল যে কয়েকগুণ বেশি আকর্ষণীয় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

আর সেই আকর্ষণের তালিকায় নবতম সংযোজন নতুন ধরনের যাত্রীবাহী কামরা। কিন্তু নতুন কামরা এসে গেলে পুরনোগুলির কী হবে? সেই উপায়ও ভেবে রেখেছে রেল। পুরনো আইসিএফ কামরাগুলি অন্যান্য তুলনামূলক ধীরগতির ট্রেনে ব্যবহার করা হবে। তাছাড়া কিছু কামরায় মডিফিকেশন করা হবে রেলের ওয়ার্কশপে। তার মাধ্যমে সেগুলি যাত্রীবাহী থেকে বিশেষ ধরনের মালবাহী কামরায় পরিবর্তন করা হবে। ইতিমধ্যেই ভোপালে এমন ২৫ টি পুরনো কামরার মডিফিকেশন হয়ে গিয়েছে।

কী করা হবে সেই পুরনো কামরা দিয়ে? রেল জানিয়েছে, এই মডিফায়েড কামরাগুলি গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন, মোটরবাইক ইত্যাদি পরিবহনে কাজে লাগানো হবে। রেলের দাবি, সড়কপথের তুলনায় এই কামরায় ট্রেনে করে অনেক দ্রুত এগুলি পরিবহণ করা সম্ভব।

বর্তমানে রেলের মূল মাল বহন বলতে শুধুমাত্র খনিজ, রাসায়নিক, সার, খাদ্যশস্য, শিল্পের যন্ত্রাদি। কিন্তু এর বাইরেও অটোমোবাইল বহনের একটি বড় বাজার রয়েছে। শুধুমাত্র যে ব্যক্তিগত যানবাহনের কথা বলা হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। কারখানায় উত্পাদিত যানবাহন এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়। সেই বাজারটাই ধরে ফেলতে চায় রেল।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি খুবই প্রচলিত। ট্রেনের পিছনে বিশেষভাবে নির্মিত বহন কামরায় গাড়ি রাখা হয়। অনেকসময়ে ২-৩টি তলা করে এগুলি বানানো হয়। তাতে সারি সারিভাবে গাড়ি রাখা থাকে। কারখানা থেকে সেগুলি দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও কম খরচে পৌঁছে দেওয়া হয়। বলাই বাহুল্য, সড়কপথের তুলনায় এতে সময় এবং খরচও কম হয়।

ইতিমধ্যেই যদিও এই ধরনের কাজ করছে রেল। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই কেরালার পালাক্কড় থেকে ৬৯০টি পাওয়ার টিলার অসমের ঘোগরাপুরে পৌঁছে দিয়েছে রেল। তার কয়েক মাস আগে মহীশূর থেকে হাওড়ার সাঁকরাইলে ১,১০০ টি মোটরবাইক নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই বিশেষ কামরায়। গত বছরেও এভাবে ট্রেনে করে বহু গাড়ি স্থানান্তর করেছে মারুতি সুজুকি। 

শুধু তাই নয়, আরও বিভিন্ন শিল্পে বাহক হিসাবে আগ্রহী রেল। সেই কারণে এসি-থ্রি টিয়ার কামরায় বাতানুকূল যন্ত্র চালিয়ে গোয়া থেকে দিল্লিতে চকোলেটও এনেছে রেল। সাধারণ কামরায় বহন করলে চকোলেট গলে যাবে। ফলে পুরনো কামরাকে নষ্ট করতে নারাজ রেল। বরং সেগুলিই কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও ব্যপ্তি বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।

বন্ধ করুন