বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ‘কৃষক’ দাদুর থেকে পরিবেশ রক্ষার অনুপ্রেরণা, টুলকিট মামলায় আদালতেই কাঁদলেন দিশা
আদালত চত্বরে দিশা রবি। (ছবি সৌজন্য টুইটার)
আদালত চত্বরে দিশা রবি। (ছবি সৌজন্য টুইটার)

‘কৃষক’ দাদুর থেকে পরিবেশ রক্ষার অনুপ্রেরণা, টুলকিট মামলায় আদালতেই কাঁদলেন দিশা

  • দিল্লি পুলিশের দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরির জন্য 'পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের' নামে একটি ‘খলিস্তানপন্থী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন।

দাদু-ঠাকুমা ছিলেন কৃষক। নিজের চোখে দেখেছেন, কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তা থেকেই অনুপ্রেরণা জুগিয়ে পরিবেশকর্মী হয়েছিলেন। গত বছরের একটি সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করেছিলেন ২২ বছরের দিশা রবি। কিন্তু সেই কৃষক আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় এবার গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। যদিও ‘টুলকিট’ মামলায় দিল্লি পুলিশের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র কৃষকদের সমর্থন করছিলেন।

রবিবার সকালে উত্তর বেঙ্গালুরুর বাড়ি থেকে দিশাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। পরে দিল্লি পুলিশের তরফে একাধিক টুইটবার্তায় জানানো হয়, ভারতে কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ যে ‘টুলকিট’ শেয়ার করেছিলেন, সেটির অন্যতম প্রধান এডিটর ছিলেন দিশা। নথি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন। তৈরি করেছিলেন হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপ। ভারতের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরির জন্য 'পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের' নামে একটি ‘খলিস্তানপন্থী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। এমনকী গ্রেটার সঙ্গে সেই ‘টুলকিট’ শেয়ার করেছিলেন দিশাই। পরে সেই ‘টুলকিট’ ভুলবশত প্রকাশ্যে চলে আসায় গ্রেটাকে তা সরিয়ে দিতে বলেছিলেন বেঙ্গালুুরুর পরিবেশকর্মী।

যদিও দিল্লির একটি আদালতে দিশা দাবি করেছেন, তিনি কোনওরকম ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন যে গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়েও কিছু জানেন না। আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দিশা। বলেন, ‘আমি কৃষকদের সমর্থন করেছি, কারণ তাঁরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদের সবাইকে খেতে হবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি টুলকিট তৈরি করিনি। আমি শুধুমাত্র দু'বার এডিট করেছি।’ 

দিল্লি অবশ্য জানিয়েছে, দু'লাইনের থেকে ঢের বেশি এডিট করেছেন দিশা। শেষপর্যন্ত সওয়াল-জবাবের পর দিশাকে পাঁচদিনের দিল্লি পুলিশের হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরও তদন্তের জন্য দিশার ল্যাপটপ, মোবাইন ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আরও কারও সঙ্গে দিশার যোগ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ‘টুলকিট’ ঘটনার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। ‘টুলকিট’ যাঁরা তৈরি করেছেন, গুগল এবং অন্যান্য মিডিয়ার কাছে তাঁদের ইমেল আইডি, ইউআরএল এবং কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

বন্ধ করুন