বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > জার্মানির গ্রামাঞ্চল: ইন্টারনেট এখনো যেখানে যন্ত্রণা
জেনিফার শুলৎমে    ( Janosch Delcker/DW)
জেনিফার শুলৎমে    ( Janosch Delcker/DW)

জার্মানির গ্রামাঞ্চল: ইন্টারনেট এখনো যেখানে যন্ত্রণা

  • রাজধানী থেকে মাত্র দুই ঘণ্টা দূরে তেমন ভালো ইন্টারনেট নেই

করোনার সংক্রমণ যখন ভয়াবহ পর্যায়ে জেনিফার শুলৎস তখনো ঘরে বসে কাজ করতে পারেননি৷ শিশুরা পারেনি ভিডিও কনফারেন্সে ক্লাস করতে৷ কারণ অতি মন্থর গতির ইন্টারনেট৷ এমন ইন্টারনেট সংযোগ ছড়িয়ে আছে সারা জার্মানিতে৷

অথচ জেনিফার শুলৎসের বাড়ি রাজধানী বার্লিনের প্রাণকেন্দ্র থেকে রেলপথে মাত্র দু' ঘণ্টার দূরত্বে৷ তবে রাজধানীর এত কাছে হলেও জেনিফারের মোজে গ্রামে ইন্টারনেট আসলে থেকেও নেই৷ করোনার প্রকোপের সময় অফিস থেকে বলা হলো বাড়ি থেকে কাজ করতে৷ হোম অফিস করার জন্য পূর্ণ সহযোগিতাও করা হলো তাকে৷ ল্যাপটপ দেয়া হলো৷ কিন্তু ইন্টারনেটের এমন ধীর গতি যে কাজ করা সম্ভব হলো না৷ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যেতে হলো অফিসে৷

সে এক মহা আতঙ্কের সময়৷ প্রতিদিন মনে হতো নিজে সংক্রমিত হয়েছেন, তার মাধ্যমে বুঝি পরিবারের অন্যরাও সংক্রমিত হবে আর তাই একে একে সবাই মারা যাবেন করোনায় ভুগে ভুগে৷

ভাগ্যিস ৩০০ মানুষের গ্রামটিতে জেনিফারের মাধ্যমে করোনা আসেনি!

অতীত সরকারের দায়

মোজে গ্রামে ইন্টারনেটের এই অবস্থার মূল কারণ ৩০ বছরের পুরোনো কপার ফোন অয়্যার৷

১৯৮০ সালের জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট শ্মিড্ট কপার ফোন অয়্যার ধীরে ধীরে সরিয়ে তার জায়গায় ফাইবার অপটিক ক্যাবল নিয়ে আসার ৩০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন৷ কিন্তু হেলমুক শ্মিড্টের পরের চ্যান্সেলর হেলমুট কোল ফাইবার অপটিকের জায়গায় শুরু করলেন টিভি ক্যাবল বাড়ানোর উদ্যোগ৷ তারপরে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ হলেও সারা দেশ থেকে কপার ফোন অয়্যার বিদায় করার কাজ আর গতি পায়নি৷ বরং ১৯৯৫ সালে টেলিকমিউনিকেশন খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ায় গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সেবার আর উন্নতি হয়নি৷ টেলিকমিউনিকেশন খাত বেসরকারিকরণের ফলে এই খাতে কিছু ক্ষেত্রে সেবার চেয়ে ব্যবসাই হয়ে যায় মহাগুরুত্বপূর্ণ৷আর তাই শহর হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ, গ্রাম থেকে যায় অবহেলিত৷

এ অবস্থা কাটানোর শত রকমের চেষ্টা করেছেন মোজে গ্রামের মেয়র মার্কো রোরমান৷কিছুতেই কাজ না হওয়ায় ২০১৩ সালে স্থানীয় রাজনীতিতে যোগ দেন৷ কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাক খাটিয়েও কোনো কাজ হয়নি৷ সেকারণে করোনাকালে মোজেস-এর বয়স্কদেরও দেখা গেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহরে কাজ করতে যেতে, অন্যদিকে স্কুলশিক্ষার্থীদের ঘরে বসে বসেই করতে হয়েছে সময়ের অপচয়, ধীর গতির ইন্টারনেটের কারণে তারা ক্লাস করতে পারেনি৷

তবে মোজে-র ভূমিপুত্র মার্কো রোরমান মনে করেন করোনা এসে গ্রামাঞ্চল ইন্টারনেট পরিষেবায় কতটা অবহেলিত তা দেখিয়ে দেয়ায় ভালোই হয়েছে৷ কারণ, দেরিতে হলেও অবশেষে প্রত্যেক নাগরিকের ইন্টারনেট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য ‘রাইট টু ইন্টারনেট' আইন সব অঞ্চলে কার্যকর করতে শুরু করেছে জার্মানি৷ আশা করা যায়, ইন্টারনেট সেবা পেতে মানুষকে শহরে ছুটতে হয় এমন গ্রাম ভবিষ্যতে আর থাকবে না৷

বন্ধ করুন