জঙ্গি সংযোগের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে শ্রীনগরবাসী হিন্দা বশির বেগ ও তাঁর স্বামী জাহানজাইব সামি।
জঙ্গি সংযোগের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে শ্রীনগরবাসী হিন্দা বশির বেগ ও তাঁর স্বামী জাহানজাইব সামি।

দিল্লির হিংসাকে কাজে লাগিয়ে নাশকতার ছক, গ্রেফতার ISIS ঘনিষ্ঠ দম্পতি

রবিবার সকালে দিল্লির জামিয়া নগর থেকে আদতে শ্রীনগরবাসী জাহানজাইব সামি ও তার স্ত্রী হিন্দা বশির বেগকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ।

ইসলামিক স্টেট-এর (ISIS) খোরাসান শাখার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে দিল্লির জামিয়া নগর থেকে গ্রেফতার করা হল কাশ্মীরি দম্পতিকে। দিল্লিতে সাম্প্রতিক হিংসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর উদ্দেশে আফগানিস্তানের জঙ্গি সংগঠন আইএসকেপি-এর সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।

রবিবার সকালে দিল্লির জামিয়া নগর থেকে আদতে শ্রীনগরবাসী জাহানজাইব সামি ও তার স্ত্রী হিন্দা বশির বেগকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানের আইএসকেপি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কিছু দিন আগে থেকে জাহানজাইব সামির উপরে নজর রেখেছিলেন গোয়েন্দারা। এই আইএসকেপি আসলে আফগানিস্তানে ISIS-এর শাখা সংগঠন। দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে হিংসা ছড়ালে আত্মঘাতী হামলা-সহ বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করতে অস্ত্র জোগাড়ের চেষ্টায় ছিল এই জঙ্গি, এমনই অভিযোগ পুলিশের।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুসলিম তরুণদের উস্কানি দিয়ে দিল্লিতে সন্ত্রাসবাদী হানার ছক কষছিল এই জঙ্গি, প্রাথমিক তদন্তে এমনই জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ISIS-এর কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাতেও ছিল।

গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, ইসলামিক স্টেট-এর খোরাসান শাখার পাকিস্তানি কম্যান্ডার হুজাইফা আল-বাকিস্তানির সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল জাহানজাইবের। এই বাকিস্তানিই জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধান ঊবমিকা গ্রহণ করেছিল। প্রথমে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে পদোন্নতি হওয়ায় সে ISIS-এ যোগ দেয় এবং অনলাইনে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

শেষে ড্রোন হানায় আফগানিস্তানে নিহত হয় বাকিস্তানি। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তার মৃত্যুর খবর স্বীকার করে ISIS-এর নিজস্ব টিভি চ্যানেল। ভারতে গোয়েন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল নিহত জঙ্গি, এমনই দাবি করা হয় ওই চ্যানেলে।

বন্ধ করুন