যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। ফাইল ছবি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। ফাইল ছবি

সিএএ বিরোধী সভায় যাওয়ায় JU-এর বিদেশি পড়ুয়াকে দেশ ছাড়তে বলল কেন্দ্র

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন ছাত্র।

সিএএ বিরোধী মিছিলে যাওয়ার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কামিল সিডসিন্সকি নামের পোল্যান্ডের ছাত্রকে নোটিস পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই নোটিসে কি আছে তা সংবাদমাধ্যমকে জানাননি কামিল। কিন্তু যাদবপুরের ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকদের দাবি যে সিএএ বিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্যেই তাকে দেশ ছাড়তে বলা হচ্ছে। যাদবপুরের তুলনামূলক সাহিত্যে মাস্টার্স করছে কামিল।

কামিলের মাস্টার্স ডিগ্রির এখনও শেষ সেমিস্টার বাকি। তার আগেই তাঁকে দেশ থেকে চলে যেতে হবে। এর আগে বিশ্বভারতীতে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়েছে কামিল। বাংলা খুব ভালো বলতে পারে এই পোলিশ ছাত্র। বাংলা থেকে অনেক কাজ ভাষানুবাদও করেছে সে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যাদবপুরের শিক্ষকরা হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন যে রামলীলা ময়দানে সিএএ বিরোধী সভায় কামিল গিয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখ। জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্খপ্রতিম রায় জানিয়েছেন কামিলকে Foreigner Regional Registration Office (FRRO) এক সপ্তাহ আগে নোটিস পাঠিয়েছে। যাদবপুরের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস যদিও বলেছেন যে শুক্রবার অবধি তিনি এই বিষয়ে কিছু শোনেননি।

এর আগে বাংলাদেশি এক ছাত্রীকে সিএএ বিরোধী পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করার জন্য দেশ ছাড়তে বলা হয়েছিল। বিশ্বভারতীর কলাবিভাগের ছাত্রী আফসারা অনিকা মিমকে যেভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে, সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপকের দাবি নিছকই কৌতুহলের বশে রামলীলা ময়দানে গিয়েছিল কামিল। কামিল বাংলা জানায় তার সাক্ষাত্কার নেন এক সাংবাদিক। সেটি টিভিতে দেখানোও হয়। শিক্ষকরা জানান যে FRRO কামিলকে এক সপ্তাহ আগে ডেকে পাঠালেও প্রথমে তিনি যেতে পারেননি কারণ তখন তিনি বিশ্বভারতীতে ছিলেন। বিশ্বভারতী থেকে ফেরার পর FRRO কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন কামিল, যেখানে তাঁকে দেশত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। FRRO-এর কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন কামিল, বলে জানিয়েছেন পার্থপ্রতিম রায়।এদিন শনিবার বলে FRRO অফিস ও পলিশ কনসুলেট বন্ধ। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রখ্যাত আইনজীবী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য্য এই সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, এটা পাগলামি। কীভাবে এক বিদেশি ছাত্রকে বিতাড়ন করা যায়, কেবল সভা দেখতে গিয়েছিল বলে। কামিল যদি আদালতে যায় তিনি তাঁর হয়ে মামলা লড়তে রাজি বলেও জানান বিকাশবাবু।

বন্ধ করুন