বাড়ি > ঘরে বাইরে > সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ‘সফট টার্গেট’ বিচারকরা, শিকার মুখরোচক রটনার : বিচারপতি রামান্না
সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি, সৌজন্য মিন্ট)
সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি, সৌজন্য মিন্ট)

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ‘সফট টার্গেট’ বিচারকরা, শিকার মুখরোচক রটনার : বিচারপতি রামান্না

  • প্রধান বিচারপতি বোবদে জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বকেয়া মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

মুরলী কৃষ্ণন

বর্তমানে ‘সফট টার্গেট’ (সহজ নিশানা) হয়ে উঠেছেন বিচারকরা। ক্রমাগত সমালোচনার মুখে পড়তে হওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার সূচনার পর থেকেই তাঁদের নিয়ে মুখরোচক রটনা চলছে। তা নিয়ে খেদ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এনভি রামান্না। 

শীর্ষ আদালতের দ্বিতীয় প্রবীণতম বিচারপতি জানান, নিজেদের সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রে বিচারকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সেইসব সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের কোনও মাধ্যম (প্ল্যাটফর্ম) নেই এবং শুধুমাত্র নিজেদের রায় বা বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত কাজের মাধ্যমে কথা বলতে পারেন বিচারকরা।

সদ্য প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আর ভানুমতীর বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে শনিবার বিচারপতি রামান্না বলেন, ‘নিজেদের স্বপক্ষে মুখ খোলার ক্ষেত্রে বিচারকরা বাধাপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে বিচারকরা সমালোচনার সফট টার্গেট হয়ে উঠেছেন। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ার উদ্ভবের ফলে মুখরোচক রটনার শিকার হচ্ছেন বিচারকরা। মনে হয়, একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিচারকরা নিজেদের প্রাসাদে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। সেটা সত্যি নয়। স্বাধীন থাকার জন্য বিচারকদের সামাজিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।’

সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে। তাঁর হাতেই প্রকাশিত হয় 'জুডিশিয়ারি, জাজেস অ্যান্ড দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ জাস্টিস'। বইয়ের প্রথম কপি প্রাক্তন বিচারপতি আর ভানুমতীর হাতে তুলে দেন প্রধান বিচারপতি। নিজের উত্তরসূরির মন্তব্যে সহমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিচারকদের বাক স্বাধীনতার পরিসর সংকোচন করে সেই একই আইন এবং কাঠামো, যা অন্যদের স্বাধীনতা বজায় রাখে, যাঁরা সেটিই (আইন এবং কাঠামো) ব্যবহার করে বিচারব্যবস্থা এবং বিচারকদের সমালোচনা করেন।’

আগামী বছরের ২৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হবেন বিচারপতি রামান্না এবং ২০২২ সালের অগস্টে তিনি অবসর গ্রহণ করবেন। তার আগে শনিবার বর্তমান প্রধান বিচারপতি বোবদে জানান, করোনাভাইরাস এবং বিধিনিষেধের কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ ছিল আদালত। তার ফলে বকেয়া মামলার সংখ্যা বেড়েছে। সেই পরিস্থিতি সামলানোর একটি উপায় হিসেবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, ‘আমার মতে,  এটা (বকেয়া মামলার একাংশ) মধ্যস্থতার মাধ্যমে মীমাংসা করা যায়। আমি বলছি না যে প্রতিটি মামলায় মধ্যস্থতা করতে হবে। কিন্তু আমরা সাধারণ উপায়ে যেতে পারব বলে আমার মনে হয় না। (সমাধানসূত্র বের করার জন্য) আমাদের মস্তিষ্ককে একত্রিত করতে হবে।’

বন্ধ করুন