বাড়ি > ঘরে বাইরে > মরণের পার থেকে ফিরলেন প্রয়াত স্ত্রী, স্বপ্নের বাংলোয় তাঁর ‘জীবন্ত’ মূর্তি বসালেন স্বামী
মা মাধবীর মূর্তিকে শাড়ি-গয়নায় সাজাচ্ছেন মেয়ে। ছবি: এএনআই।
মা মাধবীর মূর্তিকে শাড়ি-গয়নায় সাজাচ্ছেন মেয়ে। ছবি: এএনআই।

মরণের পার থেকে ফিরলেন প্রয়াত স্ত্রী, স্বপ্নের বাংলোয় তাঁর ‘জীবন্ত’ মূর্তি বসালেন স্বামী

  • মাধবীর ইচ্ছা অনুযায়ী একটি বাংলো নির্মাণ করেন শ্রীনিবাস। সেখানে স্ত্রীর সিলিকন মূর্তি বসিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করলেন স্বামী। 

প্রয়াত স্ত্রীর স্মৃতিতে সুদৃশ্য বাংলো তৈরি করে তাঁর সিলিকনের মূর্তি স্থাপন করে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন কর্নাটকের কোপ্পলের বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী শ্রীনিবাস মূর্তি। 

তিন বছর আগে দুই মেয়েকে নিয়ে তিরুপতি যাওয়ার পথে মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় শ্রীনিবাসের স্ত্রী মাধবীর। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় তাঁর দুই মেয়ে। স্ত্রীর মৃত্যুতে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন শ্রীনিবাস। কিছুটা সামলে নেওয়ার পরে ঠিক করেন, মাধবীর স্মৃতি অক্ষয় রাখতে কিছু করবেন। 

মাধবীর ইচ্ছা অনুযায়ী একটি বাংলো নির্মাণ করেন শ্রীনিবাস। কিন্তু সেই বাড়িতে প্রয়াত স্ত্রীর উপস্থিতি কী ভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন, তাই নিয়ে প্রায় ২৫ জন স্থপতির সঙ্গে আলোচনা করেও সমাধান খুঁজে পাননি তিনি। অবশেষ তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় স্থপতি মহেশ রঙ্গন্নাদাভারুর। তিনি বাংলোর ভিতরে মাধবীর মূর্তি স্থাপনের পরামর্শ দেন, যা মনে ধরে শ্রীনিবাসের।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মাধবীর মূর্তি গড়তে এর পর শরণাপন্ন হন গোম্বে মানে নামে এক খেলনাশিল্পীর সঙ্গে। প্রায় বছর খানেক আগে মাধবীর নানান ভঙ্গির ছবি তাঁকে সরবারহ করে মূর্তির বরাত দেন শ্রীনিবাস। 

প্রয়াত স্ত্রীর স্মরণে সিলিকনের মূর্তি তৈরি করিয়েছেন কর্নাটকের ব্যবসায়ী শ্রীনিবাস। ছবি: এএনআই।
প্রয়াত স্ত্রীর স্মরণে সিলিকনের মূর্তি তৈরি করিয়েছেন কর্নাটকের ব্যবসায়ী শ্রীনিবাস। ছবি: এএনআই।

যথাসময়ে মানের স্টুডিও থেকে এসে পৌঁছয় মাধবীর প্রমাণ মাপের সিলিকন মূর্তি, যার সঙ্গে একনজরে জীবন্ত মানুষের সঙ্গে কোনও ফারাকই ধরা পড়ে না। এর পর বাংলোর গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানে আত্মীয়-বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করে ভূরিভোজের ব্যবস্থা করেন শ্রীনিবাস। সকলেই বাংলোর ভিতরে বসে থাকা মূর্তি দেখে চমকে ওঠেন এবং প্রশংসাও করেন।

খুব খুশি শ্রীনিবাসও। সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘বাড়িতে আবার মাধবীকে ফিরে পেয়ে যে কী আনন্দ হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশসকরতে পারব না। এই বাংলো ওর স্বপ্ন ছিল। বেহ্গালুরুর শিল্পীকেও অজস্র ধন্যবাদ আমাকে আবার স্ত্রীর সান্নিধ্য ফিরে পেতে সাহায্য করার জন্য।’

বন্ধ করুন