ছবিটি প্রতীকী।
ছবিটি প্রতীকী।

জলের কলে মদের ধারা! আজব সমস্যায় ব্যতিব্যস্ত আবাসিকরা

জলের কল খোলামাত্র মদের গন্ধ ভরে উঠল স্নানাগার, শৌচালয়, এমনকি রসুইঘর পর্যন্ত। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, আবাসনের অন্তত ১৮টি পরিবারই কল থেকে মদের ধারা গড়াতে দেখেছেন।

বাথরুমের কল খুলতেই ছড় ছড় করে গড়াতে লাগল মদিরার স্রোত! সুরাপ্রেমীদের স্বপ্নসুখ নয়, বাস্তবে ঠিক এমনই অবাক করা দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন কেরালার চালাক্কুডি শহরের বাসিন্দারা।

সোমবার সাত-সকালে আজব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন শহরের সলমন অ্যাভিনিউয়ের এক আবাসনের অধিবাসীরা। জলের কল খোলামাত্র মদের গন্ধ ভরে উঠল স্নানাগার, শৌচালয়, এমনকি রসুইঘর পর্যন্ত। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, আবাসনের অন্তত ১৮টি পরিবারই কল থেকে মদের ধারা গড়াতে দেখেছেন।

কী ব্যাপার! তল্লাশিতে ফাঁস হল, ইরিঞ্জালাকুডার আবগারি বিভাগের কয়েকজন আধিকারিকের বদান্যতাতেই সকালে জলের পাইপ বেয়ে মদের স্রোত নেমেছে আবাসনের অন্দরে। জানা গেল, বেধ কাগজপত্র না থাকায় বেশ কিছু মদের বোতল আটক করেছিলেন ওই আধিকারিকরা। পরে আবাসন লাগোয়া জমির গর্তে সেই সমস্ত বোতলে থাকা পানীয় তাঁরা ঢেলে দিয়েছেন।

বিস্তারিত তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে ওই আবাসনের কাছাকাছি এক পানশালা বনু্ধ করে দেয় আবগারি দফতর। পানশালাটির বিরুদ্ধে ৬ হাজার লিটার অবৈধ মদ মজুত করার অভিযোগ ছিল। আটক করা সেই সমস্ত মদের বোতল কব্জা করে আবগারি দফতর, জানিয়েছেন আবাসিকরা। আশ্চর্য এই, যে বাজেয়াপ্ত করা সেই সমস্ত মদের বোতল খালি করতে সলমন অ্যাভিনিউয়ে আবাসনের পাশে পড়ে থাকা ফাঁকা জমিটি বেছে নেন আবগারি দফতরের আধিকারিকরা।

গর্তে ঢেলে দেওয়া বিপুল পরিমাণ মদ এসে মেশে আবাসনের জলাধারে। এর ফলে প্রায় ২০,০০০ লিটার জলে মদ মিশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আবাসিকদের হেঁশেলে এসে পৌঁছয়। সকাল সকাল এ হেন ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের কাজকর্ম ডকে ওঠে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জলাধার থেকে মদ মেশানো জল তুলতে কাজে নামে আবগারি দফতর। আবাসিকদের সমস্যা দূর করতে আনা হয় ৬ ট্যাঙ্কার ভরতি পানীয় জল। অবশেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বাসিন্দারা।

বন্ধ করুন