বাড়ি > ঘরে বাইরে > ২০০০ কোটি টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত কেরালার চিট ফান্ড সংস্থা, আত্মসমর্পণ এম ডি-র
প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগের মুখে কেরালার জনপ্রিয় অর্থনৈতিক সংস্থা পপুলার ফাইন্যান্স।
প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগের মুখে কেরালার জনপ্রিয় অর্থনৈতিক সংস্থা পপুলার ফাইন্যান্স।

২০০০ কোটি টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত কেরালার চিট ফান্ড সংস্থা, আত্মসমর্পণ এম ডি-র

  • বন্ধ হল ২৪৭টি শাখা। কর্মহীন সংস্থার প্রায় ১,৫০০ কর্মী। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক সংস্থার দুই ডিরেক্টর। আত্মসমর্পণ করেছেন এম ডি ও তাঁর স্ত্রী।

রাতারাতি ঝাঁপ ফেলে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন জানিয়ে ২,০০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগের মুখে কেরালার জনপ্রিয় অর্থনৈতিক সংস্থা পপুলার ফাইন্যান্স। বন্ধ হল সংস্থার ২৪৭টি শাখা। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক সংস্থার দুই কর্তা। আত্মসমর্পণ করেছেন এম ডি ও তাঁর স্ত্রী-ও।

কেরালার পাঠনমথিট্টা পুলিশ সুপার কে জি সাইমনের দাবি, প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে পপুলার ফাইন্যান্স-এর বিরুদ্ধে। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রয় ড্যানিয়েলের দুই মেয়ে তথা সংস্থার সিইও রিনু মরিয়ম থমাস ও বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স-এর সদস্য রিয়া অ্যান থমাসকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার গ্রেফতার করে পুলিশ। 

শনিবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন খোদ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রয় ড্যানিয়েল ও তাঁর স্ত্রী প্রভা থমাস। তার আগে বৃহস্পতিবার, থমাস পরিবারের সব সদস্যের নামে হুলিয়া জারি করেছিল কেরালা পুলিশ। ধৃতদের হেফাজতে নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত চারজনকে জেরা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

কেরালা পুলিশ জানিয়েছে, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত একশোরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। সংস্থার বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই অনাবাসী ভারতীয়। জানা গিয়েছে, গত এক মাস যাবৎ সংস্থার কাজে কিছু রদবদল ঘটতে থাকে এবং বাদ পড়ে বিনিয়োগকারীদের সুদও। সংস্থাকে দেুলিয়া ঘোষণা করার আবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে সদর দফতর ও বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে বেপাত্তা হয় থমাস পরিবার।

পুলিশ সুপার সাইমন জানিয়েছেন, ‘আমরা ওই সংস্থার সব অফিস সিল করেছি। পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রিজ করা হয়েছে। বিদেশ থেকেও প্রচুর অভিযোগ আসছে।’

এ দিকে রাতারাতি ২৪৭টি শাখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সংস্থার প্রায় ১,৫০০ কর্মী।

কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ, গত এপ্রিল মাসের সুদ দিতে পারেনি পপুলার ফাইন্যান্স। প্রশ্ন করলে গ্রাহকদের জানানো হয়, কোভিড পরিস্থিতির কারণে সুদদিতে দেরি হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকহলে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। 

পুলিশের দাবি, গোল্ড লোন, চিট ফান্ড ও বাহন ফাইন্যান্স সূত্রে ওই সংস্থায় প্রায় ২,০০০ বিনিয়োগকারী ছাড়াও বেশ কিছু ক্ষুদ্র অ্যাকাউন্ট হোল্ডারও আছেন। কোন্নি কেন্দ্রের বিধায়ক জানিশ কুমারের অবশ্য দাবি, গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ওই সংস্থাকে নিয়ে এর আগে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু বর্তমানে কী করে এমন ভরাডুবি হল, সে সম্পর্কে কারও কোনও ধারণা নেই।

প্রসঙ্গত, মাস দুয়েক আগে থিসুরে ঝাঁপ পড়ে যায় মহারাষ্ট্রের এক অর্থনৈতিক সংস্থার। পরে সংস্থার দুই ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অধিকাংশ সংস্থাই গোড়ায় ভালো ব্যবসা করে এবং মোটা পরিমাণে সুদ দিলেও পরবর্তীকালে অর্থ চলাচল চেন ভেঙে পড়লে বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ করুন