বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > অতিক্রান্ত ৩৮ ঘণ্টা, আইনজীবীর সঙ্গেও দেখা করতে দিচ্ছে না যোগীর পুলিশ:প্রিয়াঙ্কা
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

অতিক্রান্ত ৩৮ ঘণ্টা, আইনজীবীর সঙ্গেও দেখা করতে দিচ্ছে না যোগীর পুলিশ:প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ,'গ্রেফতারির' সময় আইন-বিরুদ্ধভাবে বল প্রয়োগ করেছিল যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ।

কেটে গিয়েছে ৩৮ ঘণ্টা। কিন্তু লিখিতভাবে কোনও নির্দেশনামা বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। দেখানো হয়নি এফআইআরের কোনও কপি। এমনই দাবি করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। কংগ্রেস নেত্রীর দাবি, সকাল থেকে তাঁর আইনজীবী গেটের বাইরে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না উত্তরপ্রদেশ সরকার।

সোমবার ভোররাতে লখিমপুর খিরিতে কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় প্রিয়াঙ্কাকে ‘আটক’ করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তারপর থেকে তাঁকে সীতাপুরের পুলিশ লাইনে পিএসি শিবিরে রাখা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিবৃতি জারি করে প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, সোমবার ভোর ৪ টে ৩০ মিনিটে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫১ নম্বর ধারার আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এখনও তাঁকে লিখিত নথি দেওয়া হয়নি। পেশ করা হয়নি কোনও আদালতে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কাগজের যে অংশ দেখতে পেয়েছেন, তাতে জানতে পেরেছেন যে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আটজন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। এমনকী তাঁদের এমন দু'জনের নাম আছে, যাঁরা লখনউ থেকে তাঁর জন্য কাপড় এনেছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রিয়াঙ্কা। 

সেইসঙ্গে প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, 'গ্রেফতারির' সময় আইন-বিরুদ্ধভাবে বল প্রয়োগ করেছিল যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। এখনও তাঁকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রিয়াঙ্কা। যিনি মঙ্গলবার পুলিশের হেফাজত থেকেই লখিমপুর খিরিতে কৃষক মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দুষেছেন।

কী হয়েছিল লখিমপুর খিরিতে?

রবিবার লখিমপুর খিরিতে বিকেলের দিকে যখন কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন একটি গাড়ি তাঁদের পিষে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সদর দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেই ঘটনায় চার কৃষক-সহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। চারজন ওই গাড়িতে ছিলেন। লখিমপুর খিরির জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে তিকোনিয়া নামে যে জায়গায় সেই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে হিংসার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

'হিন্দুস্তান টাইমস' গ্রুপের 'লাইভ হিন্দুস্তান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার লখিমপুর খিরি জেলায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্যের একটি অনুষ্ঠান ছিল। তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর জন্য অনেক কৃষক জমায়েত শুরু করেন। নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ এবং বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়ে যায়। তিকোনিয়ার এক পুলিশকর্মী জানিয়েছেন, বনবীরপুর গ্রামে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী আসার কয়েক মিনিট আগে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়। তিকোনিয়া-বনবীরপুর রোডে দুটি গাড়ি বিক্ষোভরত কৃষকদের পিষে দেয়। গাড়িতে বিজেপির পতাকা লাগানো ছিল বলে একটি মহল থেকে দাবি করা হয়েছে। একটি মহলের দাবি, আদতে ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বিজেপি সাংসদের ছেলে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনি। তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে অবশ্য এফআইআর দায়ের হয়েছে। 

বন্ধ করুন