বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > কেন্দ্রের কাছে 'প্রতিবাদের অধিকার ও সন্ত্রাসবাদী কাজের পার্থক্য সম্ভবত ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে' : দিল্লি হাইকোর্ট
পিঞ্জরা তোড় কর্মীদের সমর্থনে প্রতিবাদ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
পিঞ্জরা তোড় কর্মীদের সমর্থনে প্রতিবাদ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

কেন্দ্রের কাছে 'প্রতিবাদের অধিকার ও সন্ত্রাসবাদী কাজের পার্থক্য সম্ভবত ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে' : দিল্লি হাইকোর্ট

  • হাইকোর্ট বলেছে, 'যদি সেই মনোভাব বেশি বল পায়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য দুঃখের দিন হবে।’

প্রতিবাদের অধিকার এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মধ্যে পার্থক্য আছে। ভিন্নমত পোষণকারীদের দমিয়ে দিতে কেন্দ্রের কাছে সম্ভবত তা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। দিল্লি হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনই মন্তব্য করল দিল্লি হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে পিঞ্জরা তোড় কর্মী দেবাঙ্গনা কলিতা, নাতাশা নরওয়াল এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া আসিফ ইকবাল তানহার জামিনও মঞ্জুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি সিদ্ধার্থ মুদৃত এবং বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভামবানির ডিভিশন বেঞ্চের তরফে বলা হয়, ‘আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি, দেখে মনে হচ্ছে যে ভিন্নমতকে দমন করার উদ্বেগে কেন্দ্রের মনে সংবিধান স্বীকৃত প্রতিবাদের অধিকার এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মধ্যে পার্থক্য কোথাও গিয়ে সম্ভবত ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। যদি সেই মনোভাব বেশি বল পায়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য দুঃখের দিন হবে।’

উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় গত বছর মে মাসে দেবাঙ্গনা, নাতাশা এবং আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হিংসার ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা রুজু করা হয়। নিম্ন আদালতে তাঁদের জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ দিল্লি হাইকোর্টে যান তিনজন। মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে স্রেফ জামিনের বিরোধিতা করতে পারে না রাজ্য।’

তবে জামিন পেলেও নাতাশাদের মেনে চলতে হবে একাধিক শর্ত। প্রত্যেকে ব্যক্তিগত ৫০,০০০ টাকার বন্ডে জামিন পেয়েছেন। দু'দফায় সেই টাকা দিতে হবে। সঙ্গে তাঁদের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। কোনও প্রমাণ বা সাক্ষ্য নষ্ট করতে পারবেন না। কোনও বেআইনি কাজে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সংশোধনাগারে উল্লিখিত ঠিকানায় তাঁদের থাকার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বন্ধ করুন