লকডাউনের মধ্যে পার্ক স্ট্রিট উড়ালপুলে শব্দমাত্রা মাফা হচ্ছে (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
লকডাউনের মধ্যে পার্ক স্ট্রিট উড়ালপুলে শব্দমাত্রা মাফা হচ্ছে (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

Lockdown 2.0: তেসরা মে'র পর রেড জোনে কলকাতা-সহ সব মেট্রো শহর, সংক্রামক এলাকার পাশে থাকবে বাফার জোন

যদি কোনও অঞ্চলে শেষ ২১ দিন নয়া করোনা আক্রান্তের হদিশ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে তালিকায় একধাপ নামানো হবে।

আগামী ৩ মে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হলেও দেশের মহানগরী ও বড় শহরগুলিতে বিধিনিষেধ শিথিল হবে না। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরকে লাল জোনে রাখা হবে। দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের লেখা চিঠিতে তা স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব প্রীতি সুদান।

আরও পড়ুন : ১১ বছরে সর্বনিম্ন লাভ রিলায়েন্সের, বিনা বেতনে কাজ করার সিদ্ধান্ত মুকেশ আম্বানির

সেই চিঠিতে দেশের ১৩০ টি লাল, ২৮৪ টি কমলা ও ৩১৯ টি সবুজ জোন জেলার তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকার ভিত্তিতে 'কনটেনমেন্ট জোন' বা সংক্রামক এলাকা এবং 'বাফার জোন' চিহ্নিতকরণের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব। বলেন, 'উপযুক্ত সংক্রমণ রোখার জন্য ভালো গুণ দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংক্রামক এলাকার চারপাশে বাফার জোনের সীমানা নির্দেশ করতে হবে।'

আরও পড়ুন : Covid-19 Updates: আগেই দায় ঝেড়েছেন মমতা, এবার সব করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর তদন্ত করবে না অডিট কমিটি

উত্তরপ্রদেশ (১৯) ও মহারাষ্ট্রে (১৪) সর্বাধিক লাল জোনভুক্ত জেলা রয়েছে। তামিলনাড়ুর ১২ এবং দিল্লির ১১ টি জেলা লাল জোনের আওতাভুক্ত। দিল্লির শহরতলির মধ্যে ফরিদাবাদ, গৌতম বুদ্ধ নগর, মীরাট এবং মুম্বইয়ের সব শহরতলির জায়গাকে লাল জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু ও মাইসুরুর গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল - উভয়ই লাল জোনের মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন : লকডাউনের রাতে চুপিসাড়ে দরজায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন বোলপুরের ‘মাস্টারমশাই’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, শহরাঞ্চলে আবাসন কলোনি, মহল্লা, পুর ওয়ার্ড, থানা, পুর এলাকা বা টাউনের ভিত্তিতে সংক্রামক এলাকার সীমানা নির্দেশ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় গ্রাম, গ্রামের ক্লাস্টার, গ্রাম পঞ্চায়েত ইত্যাদির ভিত্তিতে সংক্রামক এলাকার সীমানা চিহ্নিত করা হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, 'চিহ্নিত লাল ও কমলা জোনভুক্ত জেলায় সংক্রামক এলাকা ও বাফার জোনের সীমারেখা তৈরি করে সব রাজ্যকে তা প্রকাশ করার আর্জি জানানো হচ্ছে।'

আরও পড়ুন : ছত্তিশগড় থেকে হেঁটে কলকাতা পৌঁছলেন ৭ শ্রমিক, ভাত পেয়ে ভাসলেন চোখের জলে

ওই সংক্রামক এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। চিঠিতে জানিয়েছেন, পরিষ্কারভাবে ঢোকা ও বেরনোর রাস্তা চিহ্নিত করতে হবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য-পরিষেবা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ছাড়া কোনওরকম চলাচলে অনুমতি দেওয়া হবে না। কোনও গোষ্ঠীকে বিনা পরীক্ষায় ছাড় দেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনা আক্রান্তের খোঁজ করতে হবে। সবার নমুনা পরীক্ষা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ করা ও সব করোনা আক্রান্তদের হাসপাতাল পরিষেবা দেখভালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : দূষিত এলাকায় Covid-19 সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি, দাবি ইতালির গবেষকদের

বাফার জোনেও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন সুদান। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতা ও সিভিয়ার অ্যাকাউট রেসপিরেটরি সংক্রমণের ক্ষেত্রে কড়া নজর রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : করোনায় বেহাল অর্থনীতিতে পুঁজি আনতে জরুরি বৈঠক মোদীর

যে জেলাগুলিতে একটি বা তার বেশি পুরনিগম আছে, সেই পুরনিগম ও জেলার অন্য অংশগুলিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। যদি সেই অঞ্চলের (লাল বা কমলা জোনভুক্ত) এক বা এলাকায় শেষ ২১ দিন নতুন কোনও করোনা আক্রান্তের হদিশ না পাওয়া যায়, তাহলে জোনের তালিকায় সেগুলিকে একধাপ নামানো হবে। তবে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এলাকাগুলি করোনা মুক্ত থাকে।

আরও পড়ুন : Covid-19 Updates: চোদ্দো দিনে সুস্থতার হার বাড়ল ১২%, কয়েক সপ্তাহে করোনা যুদ্ধে জিততে পারবে দেশ, আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পাশাপাশি, প্রতি সপ্তাহে সেই জোনের তালিকা সংশোধিত হবে বলে জানিয়েছেন সুদান। চিঠিতে তিনি বলেছেন, 'সপ্তাহ বা তার আগের ভিত্তিতে তালিকা সংশোধিত হবে ও বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা মেনে আগামীদিনের পদক্ষেপ সম্পর্কে রাজ্যগুলিকে অবহিত করা হবে।'



বন্ধ করুন