প্রতীকি ছবি
প্রতীকি ছবি

আকাশ দেখার এই তো সময়, ছাদে দাঁড়িয়েই চিনে নিন তারাদের

  • রাতভর আকাশজোড়া ঝলমল করছে সব তারা। একটু চেষ্টা করলেই চিনে নিতে পারেন তাদের।

লকডাউনের জেরে ঘরবন্দি গোটা দেশ। তবে বাঙালির যন্ত্রণা যেন একটু বেশিই। সন্ধের আড্ডা বন্ধ হওয়ায় ঘরেই টিভিতে মুখ গুঁজে পড়ে আছেন অনেকে। কিন্তু তাও বা কতক্ষণ? খোলা বাতাসে শ্বাস নিতে পারার আনন্দ কি মেলে বন্ধ ঘরের চার দেওয়ালের ভিতরে? উপায় একটা আছে অবশ্য, বাড়ির ছাদ। আর সেখানে মাথা তুলে তাকালেই চোখের সামনে গোটা ব্রহ্মাণ্ড। সত্যি বলতে আকাশ দেখার এমন সময় গোটা বছরে মেলা ভার। গ্রহের দেখা তেমন না মিললেও গোটা আকাশ জুড়ে রয়েছে চিরচেনা তারারা। হাজার হাজার বছর ধরে যাদের মাধ্যমে সময় ও ঋতু চিনতে শিখেছে মানুষ।

বসন্তের শেষ, সূর্য উত্তরায়ণে। দিন কয়েক আগেই গিয়েছে মহাবিষুব। বিষুব রেখা পার করে উত্তর গোলার্ধে প্রবেশ করেছেন সুয্যিমামা। দুপুরে বাইরে বেরোলে তার টেরও মিলছে। চৈত্র মাসে সূর্য রয়েছে মীন রাশিতে। আর এখনো তেমন কালবৈশাখির দেখা না মেলায় আকাশও ঝকঝকে পরিষ্কার। তাই রাতভর আকাশজোড়া ঝলমল করছে সব তারা। একটু চেষ্টা করলেই চিনে নিতে পারেন সন্ধ্যার আকাশ

সূর্য ডুবলেই পশ্চিম আকাশে এখন হিরের মতো জ্বলজ্বল করছে সন্ধ্যাতারা। যা আসলে শুক্রগ্রহ। হাতের কাছে DSLR ক্যামেরা আর টেলিফটো লেন্স থাকলে ট্রাইপডের সাহায্যে ছবিও তুলে ফেলতে পারেন। আর ছোটখাটো একটা টেলিস্কোপ থাকলে তো কথাই নেই। এই মুহূর্তে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে সন্ধ্যার আকাশে অন্য কোনও গ্রহ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে দেখা মিলতে পারে একঝাঁক তারার।

ঠিক সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার পর মাথার ওপর থাকবে মিথুন বা জেমিনি রাশি। ঝকঝক করবে তার ২টি তারা পোলাক্স ও কাস্টর। এই ২ তারাকে ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় বলা হয় পুনর্বসু নক্ষত্র। পশ্চিমি জ্যোতির্বিদ্যায় ২ ভাই বলে মনে করা হয়। এই ২ তারার দূরত্ব আকাশে অন্য তারাদের দূরত্ব মাপতে ব্যবহার করেন স্কাই ওয়াচাররা।

তখনই দক্ষিণ আকাশে দেখা যাবে রাতের আকাশের সব থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র লুব্ধককে। তার পাশে দক্ষিণ পশ্চিম আকাশে দেখা মিলবে কালপুরুষের। উত্তর পশ্চিম আকাশে দেখা পাওয়া যাবে ব্রহ্মহৃদয় তারার। সন্ধ্যাতারার কিছুটা ওপরে পশ্চিম আকাশে দেখা যাবে রোহিনী নক্ষত্রকে। তার ওপরে দক্ষিণ পশ্চিম আকাশে থাকবে কালপুরুষের সব থেকে উজ্জ্বল তারা আদ্রা। কালপুরুষের পায়ের কাছে দেখা যাবে মৃগশিরা নক্ষত্র।

রাত ৯টা নাগাদ মাঝ আকাশে থাকবে সিংহরাশি। দেখা যাবে এই রাশির তারা পূর্ব ফাল্গুনি ও উত্তর ফাল্গুনির। পূর্ব ফাল্গুনি নক্ষত্র সিংহের কোমরের ২ টি তারাকে একসঙ্গে বলা হয়। উত্তর ফাল্গুনি নক্ষত্র সিংহের লেজ গঠন করে। তখন তার উত্তর দিকে তার পাশেই দেখা মিলবে সপ্তর্ষি মণ্ডলের। পূর্ব দিকে তখন দেখা মিলবে লাল রঙের স্বাতী নক্ষত্রের। দিগন্তের সঙ্গে সমান্তরাল রেখা টেনে একটু দক্ষিণ দিকে তাকালে দেখা মিলবে চিত্রা নক্ষত্রের। যে নক্ষত্রের নাম অনুসারে এই মাসের নাম চৈত্র। রাত ১০.৩০ মিনিটের পর দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে দেখা মিলবে বিশাখা নক্ষত্রের। গভীর রাতে উঠবে আকাশগঙ্গা। ভোররাতে তাকে দক্ষিণ থেকে উত্তরে দেখা যাবে মাঝ আকাশ বরাবর। তখন দক্ষিণ পূর্ব আকাশে দেখা মিলবে তিনটি গ্রহের, বৃহস্পতি, শনি ও মঙ্গল।

বাংলায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের চর্চা কয়েক হাজার বছরের পুরনো। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই বাংলায় বসেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের চর্চা করেছিলেন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিদ বরাহমিহির। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার কাছে ইছামতী নদীর পাশে তারাগনিয়া গ্রামে বসে তিনি নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন বলে মনে করা হয়। কাছেই চন্দ্রকেতুগড়ে বৌদ্ধ মঠে অধ্যাপনা করতেন তিনি।

আকাশে তারা চিহ্নিত করতে আপনার সহায়ক হতে পারে ২টি মোবাইল অ্যাপলিকেশন। এজন্য SkyMap ও Stellarium নামে অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন জ্যোতিষ্ক।


ক্ষত্রকে।

তাদের।

বন্ধ করুন