বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'অধিকারের' বাইরে কথা, লোকসভায় সকলের সামনে রাহুলের ‘ক্লাস’ নিলেন স্পিকার বিড়লা!
রাহুল গান্ধী এবং ওম বিড়লাা। (ছবি সৌজন্যে, ভিডিয়ো সংসদ টিভি)

'অধিকারের' বাইরে কথা, লোকসভায় সকলের সামনে রাহুলের ‘ক্লাস’ নিলেন স্পিকার বিড়লা!

লোকসভার মধ্যে ‘ক্লাস’ নিলেন স্পিকার।

লোকসভায় রাহুল গান্ধীর ‘ক্লাস’ নিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। কংগ্রেস সাংসদকে কড়া ভাষায় সংসদের নিম্নকক্ষের স্পিকার বলেন, 'আপনি কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। এই অধিকার আমার।'

বুধবার সংসদে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণের প্রেক্ষিতে ধন্যবাদজ্ঞাপন প্রস্তাবে একাধিক ইস্যুতে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানান রাহুল। তিনি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে দুটি ভারত তৈরি হয়ে গিয়েছে - একটি ধনীদের ভারত এবং একটি গরির মানুষের ভারত। তারইমধ্যে রাহুল দাবি করেন, নিজের মনের ‘দুঃখ’ তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন বিজেপির সাংসদ কমলেশ পাসোয়ান। তিনি ভুল দলে আছেন।

কেরালার ওয়াইনাডের কংগ্রেস সাংসদের সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পালটা কিছু বলতে যান কমলেশ। অন্যান্য বিজেপি সাংসদরাও হইচই শুরু করেন। যদিও কমলেশের আর্জি খারিজ করে দেন স্পিকার। তিনি জানান, এখন রাহুল কথা বলছেন। রাহুলের বক্তৃতা শেষ হলে বাকিদের কথা বলার সুযোগ দেবেন। তারইমধ্যে রাহুল আবার বলেন, 'দেখুন, দেখুন, স্পিকার স্যার, আমি একজন গণতান্ত্রিক মানুষ, আমি তাঁকে কথা বলার অনুমতি দিচ্ছি।'

সেই মন্তব্যের পরই রাহুলের 'ক্লাস' নেন স্পিকার। বিজেপি সাংসদদের হট্টগোলের মধ্যে তিনি বলেন, ‘কাউকে অনুমতি দেওয়ার অধিকার নেই আপনার কাছে। শুধুমাত্র চেয়ারের কাছেই (যিনি লোকসভার অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে আছেন) কাউকে কিছু অনুমতি দেওয়ার অধিকার আছে।’ তারপর আবারও কথা বলতে শুরু করেন রাহুল।

বুধবার কী কী বলেছেন রাহুল, তা দেখে নিন একনজরে -

  • রাহুল: চিনের কাছে স্পষ্ট রূপরেখা আছে যে তারা কী করতে চায়। ওরা অত্যন্ত স্পষ্ট। মৌলিকভাবে ভারতের বৈদেশিক নীতির অন্যতম কৌশলগত নীতি ছিল যে চিন এবং পাকিস্তানকে আলাদা রাখতে হবে। কিন্তু এই নরেন্দ্র মোদী সরকারই চিন এবং পাকিস্তানকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছে। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে বড়সড় ভুল করেছে মোদী সরকার। কোনও আকাশ-কুসুম ভাবনায় মেতে থাকবেন না। আমাদের সামনে যে শক্তি দাঁড়িয়ে আছে, সেটা হালকাভাবে নেবেন না। দেশের মানুষের প্রতি এটা আপনাদের সবথেকে বড় অপরাধ। চিনের যে পরিকল্পনা আছে, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে ডোকলাম এবং লাদাখে। যা দেশ হিসেবে ভারতের সামনে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমরা জম্মু ও কাশ্মীরে বড়সড় ভুল করেছি। আপনারা বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে বড়সড় ভুল করেছেন। এই ভুল শোধরাতে হবে। আমরা সাংঘাতিক ভুল করেছি। আমাদের চিনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে আমার প্রিয় দেশ বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
  • রাহুল: আমাদের দেশের মূলভিত্তির সঙ্গে ছেলেখেলা করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং বিজেপি। তারা আমাদের দেশে মূলভিত্তিকে দুর্বল করে তুলছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগকে দুর্বল করে দিচ্ছে ওরা। বিভিন্ন ভাষার মধ্যে সংযোগ নষ্ট করে দিচ্ছে। একজনও ভারতীয় যুবক-যুবতী চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশকে দুর্বল আরও করছে। ১০ বছর আগেও ভারতের যা অবস্থা ছিল, তার থেকেও বেশি দুর্বল হয়ে গিয়েছে। নিজেদের প্রশ্ন করুন। কেন প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে একজনও অতিথি আসেননি, সেই প্রশ্নটা নিজেদের করুন। অবাক হবেন না। নিজেদের প্রশ্ন করুন। আদতে বিষয়টা হচ্ছে যে ভারত আজ পুরোপুরি একা হয়ে গিয়েছে। চারিদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, মায়ানমার এবং চিনের দ্বারা ঘিরে আছে ভারত। আমরা দুর্বল হয়ে গিয়েছে।
  • রাহুল: দুটি ভারত তৈরি হয়ে গিয়েছে। একটি অত্যন্ত ধনীদের জন্য। যাঁদের প্রচুর টাকা, ক্ষমতা আছে। যাঁদের চাকরি চাই না। যাঁদের জল এবং বিদ্যুতের সংযোগ চাই না। অপর ভারত হচ্ছে গরিবদের জন্য। ধনী এবং গরিবদের মধ্যে বৈষম্য ক্রমশ বাড়ছে।
  • রাহুল: আপনারা 'মেড ইন ইন্ডিয়া'-র কথা বলেন। কিন্তু এখন 'মেড ইন ইন্ডিয়া' হতেই পারবে না। বিষয়টা শেষ হয়ে গিয়েছে। কারণ 'মেড ইন ইন্ডিয়ায়' আদতে কারা আছেন? আছে ছোটো-মাঝারি শিল্প এবং অসংগঠিত ক্ষেত্র। যাদের আপনারা শেষ করে দিয়েছেন। তাই এখন 'মেড ইন ইন্ডিয়া' সম্ভবই নয়।
  • রাহুল: রাষ্ট্রপতির ভাষণে বেকারত্ব নিয়ে একটাও শব্দ খরচ করা হয়নি। দেশের যুবপ্রজন্ম চাকরির জন্য হাপিত্যেশ করে বসে আছেন। আপনাদের সরকার তা দিতে পারেনি।

বন্ধ করুন