বাঁচবে কি কমল নাথের গদি? (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)
বাঁচবে কি কমল নাথের গদি? (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)

মধ্যপ্রদেশ সংকট: বাঁচবে কি কমল নাথের গদি? উত্তর মিলবে সোমবারের আস্থা ভোটে

  • আস্থা ভোটের নির্দেশের পর এদিন সকালেই জয়পুরের রিসর্টে যে কংগ্রেস বিধায়করা ছিলেন, তাঁদের তড়িঘড়ি ভোপালে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

কোনদিকে গড়াবে মধ্যপ্রদেশের জল? কংগ্রেস ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে নাকি বিজেপি সরকার গঠন করবে? উত্তরটা জানার অপেক্ষা করতে হবে আগামী সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত। কারণ রাজ্যপাল লালজি টন্ডনের নির্দেশ, সেদিন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।

আরও পড়ুন : মধ্যপ্রদেশ সংকট: 'আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যা আছে', দাবি টলমল কংগ্রেসের

শনিবার রাতের দিকে কমল নাথকে চিঠি লেখেন রাজ্যপাল। ১৪ মার্চের তারিখ সম্বলিত সেই চিঠিতে বলা হয়, 'আমি জানতে পেরেছি, ২২ জন বিধায়ক বিধানসভার স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপত্রে তা জানিয়েছেন। আমি গুরুত্ব সহকারে দুটি মাধ্যমেরই কভারেজ দেখেছি। গত ১০ মার্চ পৃথকভাবে তাঁরা আমার কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। ১৩ মার্চ সেই ইস্তফাপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য নিরাপত্তার আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা।'

আরও পড়ুন : মধ্যপ্রদেশ সংকট- ইস্তফার হিড়িক, জ্যোতিরাদিত্যের পর কংগ্রেস ছাড়লেন ২২ বিধায়ক

এর আগে, শুক্রবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সোমবার ফ্লোর টেস্টের আর্জি জানিয়েছিলেন কমল নাথ। বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি 'বেঙ্গালুরুতে আটক বিধায়কদের' মুক্তির দাবিও তুলেছিলেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতে শনিবারের চিঠিতে রাজ্যপাল বলেন, 'গত ১৩ মার্চের চিঠিতে আপনি (কমল নাথ) জানিয়েছিলেন, আপনি ফ্লোর টেস্টের জন্য প্রস্তুত। এই পরিস্থিতির বিষয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপিরও চিঠি পেয়েছি আমি। তারাও দাবি করেছে, যে বিধায়করা ইস্তফা দিয়েছেন তাঁদের উপর অহেতুক চাপ তৈরি করছে সরকার। অন্যান্য বিধায়কদের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।'

আরও পড়ুন : ছত্তিশগড়েও জ্যোতিরাদিত্যরা রয়েছেন, বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে শুরু জল্পনা

চিঠিতে রাজ্যপাল আরও জানান, সেইসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিশ্বাস, বিধানসভায় সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। রাজ্যপালের কথায়, 'এটা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ১৬ মার্চ বিধানসভায় আমার ভাষণের পরই আস্থা ভোট করতে হবে।'

আরও পড়ুন : যোগদানের পরই মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় জ্যোতিরাদিত্যকে প্রার্থী করল BJP

কর্নাটকের ফ্লোর টেস্ট ঘিরে যেভাবে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সে কথায় মাথায় রেখে আগে থেকেই পুরো আস্থা ভোট প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। সেই দায়িত্বে থাকবেন কোনও নিরপেক্ষ ব্যক্তি। পাশাপাশি চিঠিতে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, সোমবারই আস্থা ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। তা মুলতুবি, বিলম্বিত বা স্থগিত করা যাবে না।

আরও পড়ুন : জ্যোতিরাদিত্যকে দলে আনার নেপথ্যে মূল ভূমিকা নিলেন বিজেপির জাফর ইসলাম

এদিকে, আস্থা ভোটের নির্দেশের পর এদিন সকালেই জয়পুরের রিসর্টে যে কংগ্রেস বিধায়করা ছিলেন, তাঁদের তড়িঘড়ি ভোপালে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে পুলিশি নিরাপত্তায় কংগ্রেসের যে 'বিক্ষুব্ধ' বিধায়করা রয়েছেন, তাঁরা কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সংকটের আগে কংগ্রেসের ১১৪ জন বিধায়ক ছিলেন। দুই বসপা, এক সপা ও চার নির্দল বিধায়কের সমর্থন ছিল। কিন্তু সেই সংখ্যাটা কমেছে এখন। কারণ কমল নাথ সরকারের যে ছয় মন্ত্রীকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছিল, শনিবার তাঁদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন স্পিকার এনপি প্রজাপতি। ফলে আদতে ২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২২ (দুই বিধায়কের মৃত্যুর কারণে আগে সংখ্যা ছিল ২২৮)। আর কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ঠেকেছে ১০৮-এ।

বন্ধ করুন