বাড়ি > ঘরে বাইরে > আমার সরকার ফেলার চেষ্টা করে লাভ হবে না, বিজেপি-কে সরাসরি হুমকি উদ্ধবের
সরকারের ভবিষ্যৎ বিরোধী নয়, রাজ্যবাসীর হাতেই রয়েছে। এমনই দাবি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের।
সরকারের ভবিষ্যৎ বিরোধী নয়, রাজ্যবাসীর হাতেই রয়েছে। এমনই দাবি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের।

আমার সরকার ফেলার চেষ্টা করে লাভ হবে না, বিজেপি-কে সরাসরি হুমকি উদ্ধবের

  • বিজেপি-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন শিবসেনা প্রধান তথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

মহারাষ্ট্রে তাঁর সরকারকে ফেলার চেষ্টা করে লাভ হবে না। বিরোধীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন শিসেনা প্রধান তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর দাবি, সরকারের ভবিষ্যৎ বিরোধী নয়, রাজ্যবাসীর হাতেই রয়েছে।  

রবিবার প্রকাশিত শিবসেনা মুখপত্র ‘সামনা’-তে পত্রিকা সম্পাদক তথা সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঠাকরে জানিয়েছেন, মুম্বই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন পরিষেবা শুরু করার সিদ্ধান্ত গণভোটের মাধ্যমে স্থির হবে। একই সঙ্গে, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা এড়াতে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো ডিজিটাল ব্যবস্থায় সারার পরামর্শও দিয়েছেন সেনা প্রধান। 

ত্রিদলীয় সরকার সম্পর্কে বিরোধী বিজেপি নেতাদের ‘তিন চাকার যান’ কটাক্ষ প্রসঙ্গে উদ্ধব বলেন, ‘যদি বুলেট ট্রেন আর তিন চাকার যানের একটিকে বেছে নিতে হয়, আমি তা হলে পরেরটিই বেছে নেব কারণ তা হল গরিবের পরিবহণ। আমাদের সরকার খুবই মজবুত এবং তার স্টিয়ারিং রয়েছে আমার ও দুই অংশীদারের হাতে। যাঁরা আমাদের তিন চাকার যান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তাকানো দরকার। কেন্দ্রীয় শাসকজোটে কতগুলি দল রয়েছে? শেষ যে এনডিএ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলাম, সেখানে শাসক দলগুলির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ঠছিলেন ৩০-৩৫ জন নেতা। সে ক্ষেত্রে ওই সরকারকে ট্রেন সরকার বলা উচিত।’

মহারাষ্ট্রের শাসকজোটের তিন শরিকের মধ্যে কোনও মতান্তর নেই বলে দাবি করেছেন উদ্ধব, যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসের গণনীতি নিয়ে কিছু দাবি ছিল। বৈঠকে তার সমাধান হয়েছে। আমি নিয়মিত ভাবে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের থেকে পরামর্শ নিই। মাঝে মাঝে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও কথা হয়।’

রাজস্থানে সরকার ফেলার সম্ভাব্য চেষ্টার জন্য বিজেপি-কে একহাত নিয়েছেন উদ্ধব। তাঁর কথায় ‘অপারেশন লোটাস’ এবার ফসল কুড়োতে ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন,  ‘রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য অর্থ ব্যয় করা অপরাধ হিসেবে কী কারণে গণ্য করা হয় না, এটাই আশ্চর্যের। কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে বিরোধীদের নিশানা করা হচ্ছে। কিন্তু এ ভাবে বেশি দিন চলে না। ওদের মনে রাখা উচিত, সময় বয়ে চলে। মধ্য প্রদেশ বা রাজস্থানে করোনার প্রকোপ কম বলেই হয়তো ওই দুই রাজ্যে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী নেতা (দেবেন্দ্র ফড়নবিশ) বলে এলেন, মহারাষ্ট্রে কোভিড পরিস্থিতি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, অতিমারী শুধু আমাদের রাজ্যেই রয়েছে, মধ্য প্রদেশ বা রাজস্থানে নেই।’

এ ছাড়া ভারতের চিন নীতি প্রসঙ্গেও সাক্ষাৎকারে অকপট হয়েছেন উদ্ধব। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিন সংক্রান্ত নীতিতে স্পষ্ট একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘পাকিস্তানের মতো চিনের ক্ষেত্রেও এক এক সময় এক এক রকম নীতি প্রয়োগ করলে বিভ্রান্তি বাড়বে। সংকটের সময় আমরা ওই সব দেশকে বয়কট করি। আবার কিছু দিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাই। চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। তত দিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আমরা মউ স্বাক্ষর স্থগিত রাখব।’

বন্ধ করুন