বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > পশ্চিমবঙ্গে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের সাফল্য : মানুষের আর্থিক আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণে নীরব বিপ্লব
পশ্চিমবঙ্গে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের সাফল্য : মানুষের আর্থিক আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণে নীরব বিপ্লব। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
পশ্চিমবঙ্গে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের সাফল্য : মানুষের আর্থিক আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণে নীরব বিপ্লব। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

পশ্চিমবঙ্গে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের সাফল্য : মানুষের আর্থিক আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণে নীরব বিপ্লব

  • ধনস্বপ্ন বাস্তবায়নে অদৃশ্য বিপ্লব ঘটাল রাজ্যের মাইক্রোফিনান্স।

শৈবাল পাল

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সুচারুভাবে ভারতে কাজ করে আসছে মাইক্রোফিনান্স। এখন প্রধান আইনি ফার্মগুলি হল- ব্যাঙ্ক, এনবিএফসি, এনবিএফসি এমএফআই, সমিতি, ট্রাস্ট, ইউ/এস ৮ সংস্থা, সমবায় সমিতি এবং নিধি সংস্থা। এদের মধ্যে ইউ/এস ৮ সংস্থা রেজিসট্রেশনের কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) কাছ থেকে বিশেষ ছাড় পায়। এই আইনি সংস্থাগুলির মধ্যে কেবলমাত্র এনবিএফসি এমএফআই এবং এনবিএফসির মাইক্রোফিনান্স অপারেশন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। সমিতি, ট্রাস্ট, ও সমবায় আরবিআই দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয়, তবে অন্যভাবে আরবিআই কর্তৃক গৃহীত। ব্যাঙ্ক, এনবিএফসির নির্দেশিকার বাইরে থাকার ফলে তাদের মাইক্রোফিনান্স অপারেশন, আরবিআই নিয়ন্ত্রিত নয়। নিধি সংস্থাগুলি কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক (এমসিএ) এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আরবিআই স্বীকৃত স্বনিয়ন্ত্রক সংস্থা সা-ধন, নিধি ছাড়া, বাকি আইনি মাইক্রোফিনান্স সংস্থাগুলির তত্ত্বাবধান করে ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করে। ভারতের মাইক্রোফিনান্স সম্পর্কিত ‘সেট ডেটা ক্রেডিট ইনফরমেশন’ ব্যুরোগুলিতে পাওয়া যায়। যদিও ব্যুরোগুলিতে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়না। কারণ সমিতি, ট্রাস্ট, নিধি কোম্পানি ও সমবায় সমতির তথ্য তাদের কাছে থাকে না। তবে একরকম ধারণা তো পাওয়াই যায়। উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় ৫০,০০০ ঋণদায়ী সমবায় থাকলেও কোন সমষ্টিগত তথ্য নেই। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্কের হাতে ৪০ শতাংশ, এনবিএফসি –র (এনবিএফসি এমএফআই সহ) ৩১ শতাংশ, ক্ষুদ্র ফাইনান্স ব্যাঙ্কের ১৭ শতাংশ এবং অন্যান্যদের হাতে ১২ শতাংশ পোর্টফোলিও রয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোফিনান্স সেক্টরে, এনবিএফসি / এনবিএফসি এমএফআইগুলির পোর্টফোলিওয়ের পরিমাণ ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, সা-ধনের মাইক্রোফিনান্স ডিরেক্টরি অনুসারে ৬৫ শতাংশ এমএফআই, নন-এনবিএফসি এমএফআই।

বাংলায় ব্যাঙ্কিংয়ের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। ভারতের প্রথম ব্যাঙ্ক ‘ব্যাঙ্ক অফ হিন্দুস্তান’ তৎকালীন ভারতের রাজধানী কলকাতায় ১৭৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৫ সালে বন্ধন ব্যাঙ্কের সর্বজনীন ব্যাঙ্কের লাইসেন্স পাওয়া পশ্চিমবঙ্গকে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বিশিষ্ট করে তুলেছে। বন্ধন কেবল ব্যাঙ্ক নয়, অলাভজনক এমএফআই থেকে লাভজনক এমএফআইতে রূপান্তরিত হওয়া এবং তার থেকে ক্রমশ সর্বজনীন ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত হওয়ারও এক উদাহরণ। রাজ্যে শক্তিশালী এনবিএফসি এমএফআইয়ের সংখ্যা বহু, যেমন- ভিলেজ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড, এএসএ ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া মাইক্রোফিনান্স প্রাইভেট লিমিটেড, আরোহান ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড ইত্যাদি। অন্যদিকে, ধোসা চন্দনেশ্বর ব্রাত্যজন সমিতি, স্টেপ, বেলঘরিয়া জনকল্যাণ সমতি, সোসাইটি ফর মডেল গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের মত অলাভজনক এমএফআইও রয়েছে। সেগুলির মধ্যে বহু মাইক্রোফিনান্স সংস্থা রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে অন্যান্য রাজ্যেও কাজ করছে।

ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সারা দেশে এমএফআইগুলি ৪৫৯.৮৬ লাখ অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট ৮৬,৪১১ কোটি টাকার পোর্টফোলিয়ো দেখভাল করছিল (ব্যাঙ্ক, এসএফবি এবং কয়েকটি অলাভজনক সংস্থা এই তালিকার বাইরে রয়েছে)। পশ্চিমবঙ্গে এই পোর্টফোলিয়োর পরিমাণ ছিল ৫,৪৯৩ কোটি টাকা। যা ৩০.০৮ লাখ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১৯ সালের ভারত মাইক্রোফিনান্স রিপোর্ট (বিএমআর) অনুসারে, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে মাইক্রোফিনান্সের জাতীয়ঋণের ৩০ শতাংশ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। একই বিএমআর থেকে জানা যাচ্ছে যে ৪৭ টি এমএফআই ১,৪৯৭ টি শাখার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ২২ টি জেলায় কাজ করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে পশ্চিমবঙ্গের মাইক্রোফিনান্স ইন্ডাস্ট্রিতে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ২০১৭-১৮ সালের তুলনায় গ্রহীতার সংখ্যা ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পোর্টফোলিয়োর পরিমাণ হয়েছে ৪১ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের এমএফআই ৯,৫৪৪ কোটি টাকা রাজ্যের গরিব গ্রহীতাদের মধ্যে বিতরণ করতে সমর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, বণ্টনে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ভারতের মধ্যে চতুর্থ। কর্নাটক, বিহার এবং তামিলনাড়ুর পরেই।

এসএলবিসির তথ্য অনুসারে, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে ৮,৩৭৪ টি ব্যাঙ্ক শাখা ছিল। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক হিসাবে তালিকাভুক্ত ব্যাঙ্কের সি-ডি অনুপাত, গোটা ভারতবর্ষে যখন ৭৫.৭ শতাংশ, তখন পশ্চিমবঙ্গে তা ছিল ৬২ শতাংশ। সি-ডি অনুপাত বাড়িয়ে তোলার অন্যতম উপায় হল ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে আরও বেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। মাইক্রোফিনান্স সেক্টর সেই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সমর্থ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে, প্রতি ঋণগ্রহীতা, বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৭,৪৮১ টাকা। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ১৬,৫৭৬ টাকা। এটা থেকে স্পষ্ট যে, মাইক্রোফিনান্স দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে আরও মজবুত করার পথে চলেছে। কাজেই মাইক্রোফিনান্সের বিকাশে আরও মনোনিবেশ করা অবশ্য কর্তব্য।

২০১৯ অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কগুলির মোট অনুত্‍পাদক সম্পদ বা এনপিএ (নন-পারফর্মিং অ্যাসেট) ছিল ৯.১ শতাংশ। অন্যদিকে মাইক্রোফিন্যান্স সেক্টরে এমএফআইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পোর্টফোলিয়োর (পিএআর) পরিমাণ ছিল ০.৬৫ শতাংশ। যা এনপিএয়ের থেকে কম হওয়া অবশ্যম্ভাবী। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি সম্ভবত একমাত্র মডেল যেখানে অনিরাপদ ঋণের প্রায় ১০০ শতাংশের শোধ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ মাইক্রোফিনান্স প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ সুরক্ষিত। এটা প্রমাণ করতে পারা গিয়েছে যে ঋণ নেওয়া মানুষটি গরিব হতে পারেন এবং মূলধারার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তার কাছে না পৌঁছাতে পারে। কিন্তু তিনি মূলধারার ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের চেয়ে অনেক ভালো গ্রাহক। এর মধ্য দিয়ে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের দক্ষতা যেমন প্রমাণিত হয়, তেমনই প্রাইভেট সেক্টরের গরিবদের জন্য অবদানের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়।

পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক সহ প্রায় ৫৭.৮৯ লাখ ইউনিক ক্লায়েন্ট রয়েছে। এর অর্থ, খুব সম্ভবত মাইক্রোফিনান্স সেক্টরও একই সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছোচ্ছে। ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা হবে আনুমানিক ১০.০৯ কোটি। এক পরিবারের গড় আকার (৪.৫) দিয়ে এই সংখ্যাকে ভাগ করলে যে হিসাবটা পাওয়া যায়, সেটা প্রায় ২.২৪ কোটির কাছাকাছি। যার অর্থ হল পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৬ শতাংশ পরিবার মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের আওতায় চলে এসেছে। যদি মাথায় রাখা হয় যে, মাইক্রোফিনান্স সেক্টর রাজ্যের দরিদ্র মানুষদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সুযোগ করে দিচ্ছে, তাহলে মানতেই হবে ২৬ শতাংশ একটা অভাবনীয় সাফল্য। খুব সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের ৬০ শতাংশ দরিদ্র তথা প্রান্তিক স্তরের পরিবারে কাছে মাইক্রোফিনান্স পৌঁছে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ঋণগ্রহীতা বাছাই, সুদের হার এবং অগ্রিম ব্যয়-- মাইক্রোফিনান্সের এই বিষয়গুলি প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষভাবে ভীষণ কড়া নিয়মের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই তথ্যগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। তার সঙ্গে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের উন্নয়নেও বিশেষ সহায়তা করা উচিত।

বিশেষ বিশেষ কিছু ক্ষেত্র সরকারের মনযোগের প্রয়োজন আছে। প্রথমটি হল, স্বল্প ব্যয় তহবিল দিয়ে সাহায্য করা। মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের গড় আর্থিক ব্যয় ১৫ শতাংশ। যেটা কখনও কখনও ১৯ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়ায়। তার ফলে গ্রহীতাদের বেশি হারে সুদ দিতে হয়। মাইক্রোফিনান্স সংস্থাগুলি আগেভাগেই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ শুরু করে দিয়েছে, যাতে সুদের হার কম হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচিত, নিষ্ক্রিয় তহবিলগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি যাতে মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের কাজে লাগানো যায়। তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা। 'স্পেশাল পারপাস ভেহিকল' তৈরি করেও এই সেক্টরকে সাহায্য করা যেতে পারে। যেহেতু দেয় ঋণের প্রায় ১০০ শতাংশই ফেরত আসে, তাই এক্ষেত্রে বিনিয়োগ সুরক্ষিত, কোনও ঝুঁকি নেই। সরকার যদি স্বল্প ব্যয় তহবিল সরবরাহ করার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে গ্রাহকদের আরও কম সুদ গুনতে হবে।

উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কার, মাইক্রোফিনান্স সেক্টরের সাফল্য তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দক্ষতার সাথে সরকারি প্রকল্পগুলি বিশেষত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে সেটির সঙ্গে জুড়তে হবে। এমএফআইগুলিও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা পেতে সাহায্য করতে পারে। সরকারি এবং বেসরকারি কর্মকাণ্ড ঠিকভাবে একত্রিত করতে পারলে দু'পক্ষের সেরা লাভটা মানুষ পাবেন।

এমএফআইয়ের অনেকগুলি কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ব্যাবসায়িক উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ব্যাপারে এবং ক্লায়েন্টদের ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণভাবে সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে সক্ষমতা বৃদ্ধি উদ্যোগের যাবতীয় তথ্য মাইক্রোফিনান্স সেক্টরকে নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে, যাতে এমএফআই রা তাদের ক্লায়েন্টদের তা পাঠাতে পারে।

মাইক্রোফিনান্স রাজ্যের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। মূলধারার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি যে ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছাচ্ছে পারেনি, তারা সেখানে পৌঁছাতে পেরেছে। এরা প্যারা-ব্যাঙ্কিংয়ে কাজটা করছে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, দরিদ্র মানুষের আকাঙ্ক্ষা রূপায়ণ ও উন্নততর পরিকল্পনার জন্য রাজ্যস্তরের ব্যাঙ্কার কমিটি (এসএলবিসি) ও জেলা পর্যায়ের পরামর্শদাতা কমিটি (ডিএলসিসি) দুই সভাতেই মাইক্রোফিনান্স সেক্টরকে স্থায়ী আমন্ত্রক হিসেবে রাখাও দরকার।

(ডঃ শৈবাল পাল সা-ধন (সিডিএফআইয়ের সঙ্গে যুক্ত)–এর অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর। মতামত ব্যক্তিগত।)

(তথ্যসূত্র- আরবিআই, সা-ধন, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো এবং অন্যান্য )

বন্ধ করুন