২৭ দিন টানা হেঁটে মহারাষ্ট্র থেকে ১৮০০ কিমি পাড়ি দিয়ে দ্বারভাঙা পৌঁছলেনপরিযায়ী শ্রমিক।
২৭ দিন টানা হেঁটে মহারাষ্ট্র থেকে ১৮০০ কিমি পাড়ি দিয়ে দ্বারভাঙা পৌঁছলেনপরিযায়ী শ্রমিক।

লকডাউনের মাঝে মহারাষ্ট্র থেকে ২৭ দিন হেঁটে দ্বারভাঙায় পৌঁছলেন কর্মহীন শ্রমিক

  • প্রতিদিন ভোর ৫.৩০ থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত তাঁরা হাঁটতেন। চলার পথে বিশ্রাম নিতেন কিছুক্ষণ, ফের হাঁটা শুরু হত।

লকডাউনের মধ্যে ২৭ দিন টানা হেঁটে মহারাষ্ট্র থেকে ১৮০০ কিমি পাড়ি দিয়ে দ্বারভাঙা পৌঁছলেন বিহারের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক হরিবংশ চৌধুরী (৩২)।

করোনা সংক্রমণ রোধ করতে গত ২১ মার্চ দেশজুড়ে লকডাউন জারি হলে মুম্বইয়ের ভয়ন্ডরে যে লোহা কারখানায় তিনি কাজ করতেন, তা আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। মালিকের থেকে কোনও অর্থ না পেয়ে রোজগারহীন হরিবংশ তাই বিহারের দ্বারভাঙায় নিজের বাড়ি ফেরার জন্য ৪৪৫ টাকা দিয়ে ট্রেনের টিকিট কেনেন। লোকমান্য তিলক টার্মিনাস রেলস্টেশন থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও লকডাউনের ফলে দ্বারভাঙা যাওয়ার সেই ট্রেন বাতিল হয়ে যায়।

বাড়িতে ফোন করলে নিরাপদে থেকে বাস্তব চিন্তা করার পরামর্শ দেন হরিবংশের বাবা কৃষ্ণ চৌধুরী। কিন্তু সে উপদেশ না শুনে পটনাগামী ট্রেনে উঠে বসেন হরিবংশ। তবে সেই ট্রেনও ৫-৬ ঘণ্টা চলার পরে থেমে যায় ও বাতিল ঘোষিত হয়, তখন ২৫ জন উত্তর প্রদেশ ও বিহারের শ্রমিকদের সঙ্গে হেঁটেই বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমস-কে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভোর ৫.৩০ থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত তাঁরা হাঁটতেন। চলার পথে বিশ্রাম নিতেন কিছুক্ষণ, ফের হাঁটা শুরু হত। রাতে কোনও গাছতলা বা মাঠের মাঝে শুয়ে ঘুমোতেন শ্রমিকরা।

দলের সকলেরই পকেটের অবস্থা শোচনীয়, তাই খাবার কেনার ক্ষমতা ছিল না। তবে বেশ কয়েক জন সহৃদয় মানুষ তাঁদের খাবার ও পানীয় জল দিয়ে সাহায্য করেন বলে জানিয়েছেন এই শ্রমিক। মাঝপথে কয়েক বার ট্রাকচালকরা তাঁদের লিফ্ট দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, জানিয়েছেন হরিবংশ। কয়েক জন চালক তাঁদের পথনির্দেশ দিয়েও সাহায্য করেছেন বলে তিনি জানান।

ইটারসি পৌঁছনোর পরে তাঁদের দলে যোগ দেন অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা সকলেই হেঁটে উত্তর প্রদেশ, বিহার আর মধ্য প্রদেশে গ্রামে ফিরছিলেন। মধ্য প্রদেশে পৌঁছানোর পরে হরিবংশের মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সহ্গেও আর যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘হাঁটতে হাঁটতে একবার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। সেই সময় একজন পুলিশকর্মী ২০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। বিহারের সারন জেলায় পৌঁছলে পুলিশের চাপে মেডিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের সম্মুখীন হতে হয়, কারণ ওঁরা আমার মহারাষ্ট্র থেকে মঞ্জুর করা মেডিক্যাল স্লিপ প্রথমে মানতে চাননি। পরে অবশ্য ছেড়ে দেন।’

শেষ পর্যন্ত ১৬ এপ্রিল দ্বারভাঙায় নিজের বাড়ি ফিরতে পারেন। দীর্ঘ পথশ্রমের ধকলে অতিরিক্ত ক্লান্ত হরিবংশের পা সাংঘাতিক ফুলে গিয়েছে। তাঁকে দ্বারভাঙা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন জেলা আধিকারিকরা। এরপর ১৭ এপ্রিল তাঁর আবার মেডিক্যাল স্ক্রিনিং হয়। আপাতত তাঁকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

দ্বারভাঙার জেলাশাসক ত্যাগরাজন এস এম জানিয়েছেন, ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষ হলে হরিবংশের আয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

বন্ধ করুন