অসংখ্য শ্রমিককে হেঁটে বা সাইকেলে সফর করতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন। ছবি: এপি। (AP)
অসংখ্য শ্রমিককে হেঁটে বা সাইকেলে সফর করতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন। ছবি: এপি। (AP)

ট্রেন ও বাস চলায় ছাড় দেওয়া হলেও রোজই পথে নামছেন অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকরা

  • রাস্তা ও রেলপথ ধরে অসংখ্য শ্রমিককে হেঁটে বা সাইকেলে সফর করতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজরাজ্যে ফেরার জন্য লকডাউনের মধ্যেও ট্রেন ও বাস চলাচলে ছাড় ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তা সত্ত্বেও রাস্তা ও রেলপথ ধরে অসংখ্য শ্রমিককে হেঁটে বা সাইকেলে সফর করতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন। সমীক্ষায় দেখা দিয়েছে একাধিক কারণ।

ঘরে ফেরার ইচ্ছে থাকলেও বহু শ্রমিকের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র-সহ জরুরি নথিপত্র না থাকায় তাঁরা নিজরাজ্যে ফেরার জন্য সরকারি ওয়েব পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করতে পারছেন না। অনেকে অপেক্ষা করার জন্য ধৈর্যের অভাব থাকায় হাঁটাপথ ধরছেন। আবার কোনও কোনও রাজ্য শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন প্রবেশ করতে দিতে আপত্তি জানিয়েছে অথবা ট্রেনের জন্য আবেদনই জানায়নি। 

এমনই এক শ্রমিক মহম্মদ ইমরান তাঁর অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ৬০০ কিমি পথ হেঁটে রাজস্থানের আজমের থেকে উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদে ফেরার চেষ্টা করছেন। 

প্রতিদিনই গুজরাত, রাজস্থান, কর্নাটক, মধ্য প্রদেশ, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে অসংখ্য শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জাতীয় সড়ক ধরে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বেশ কিছু রাজ্যে সীমান্ত সিল করে দেওয়ার কারণে তাঁরা মাঝপথে আটকে গিয়ে আরও বিপাকে পড়ছেন। গত শুক্রবার যেমন ম্যাঙ্গালোর রেল স্টেশনে বিক্ষোভ জানাতে দেখা গিয়েছে একদল শ্রমিককে। একই রকম প্রতিবাদ ও নিজরাজ্যে ফেরার দাবি উঠছে কেরালা ও গুজরাতেও। 

সীমান্তে বাধা পেয়ে গভীর জঙ্গল বা খরস্রোতা নদী পেরিয়ে অন্য রাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বিপন্ন শ্রমিকরা। পুলিশ তাঁদের সন্ধানে অভিযানে নেমেছে। 

প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, বেশ কিছু রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর বিষয়ে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করায় সমস্যা জটিলতর রূপ ধারণ করছে। তাঁদের অভিযোগের তালিকায় রয়েচে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মতো রাজ্য সরকারগুলি। 

যদিও বিহার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক স্পেশ্যাল প্রবেশ করতে কোনও রকম বাধা দেওয়া হচ্ছে না। একই দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে নবান্নও। 

কেন্দ্র-রাজ্য রেষারেষির মাঝে অকারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন নিঃসহায় পরিযায়ী শ্রমিকরা।  

বন্ধ করুন