বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > 'ক্ষমাযোগ্য নয়', করোনা রোখার থেকে টুইট মুছতে বেশি ব্যস্ত ছিল মোদী সরকার : ল্যানসেট
নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি : পিটিআই)

'ক্ষমাযোগ্য নয়', করোনা রোখার থেকে টুইট মুছতে বেশি ব্যস্ত ছিল মোদী সরকার : ল্যানসেট

  • ল্যানসেটে লেখা হয়, করোনা আবহে সংক্রমণ ঠেকানোর থেকে টুইট মুছতে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে মোদী সরকার।

করোনা ঠেকাতে মোদী সরকারের ভূমিকা ল্যানসেটের তোপের মুখে পড়ল। করোনা আবহে দেশে রোজ হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সীমানায় দীর্ঘ দিন ধরে চলছে কৃষক আন্দোলন। তারই মাঝে ৪টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হল নির্বাচন। আর কাকতালীয় হলেও, এই সময় থেকেই দেশের করোনা গ্রাফ রকেট গতিতে ছুটতে শুরু করে। আর তা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তবে প্রতিবারই সেসব সমালোচনার পাল্টা জবাব উড়ে এসেছে শাসক দলের তরফে।

এহেন পরিস্থিতিতে এবার প্রখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ হয় যাতে মোদী সরকারকে তোপ দেগে লেখা হয়, করোনা আবহে সংক্রমণ ঠেকানোর থেকে টুইট মুছতে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে মোদী সরকার। পাশাপাশি মোদী সরকারের এই মনোভাব 'ক্ষমাযোগ্য নয়' বলেও উল্লেখ করা হয়।

ল্যানসেটে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, ১ অগাস্টের মধ্যে দেশে করোনার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ মিলিয়ন। এবং তা হলে তা মোদী সরকারের দোষে হবে বলেও উল্লেখ করা হয় সম্পাদকীয়তে। লেখা হয়, মোদী সরকার নিজেরাই এই জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়, জমায়েতের জেরে যে করোনা বিশাল ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা জেনেও ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সমাগম করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই আবহে ল্যানসেটে লেখা হয়, 'করোনা আবহে ভারতের কষ্ট চোখে দেখ যায় না। হাসপাতালে শয্যা নেই, স্বাস্থ্য কর্মীরা ক্লান্ত। এর আগে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন দাবি করেছিলেন ভারত করোনার বিরুদ্ধে জয়ের পথে রয়েছে। সরকারের মনোভাব ছিল যে ভারত করোনাকে হারিয়ে দিয়েছে। তবে দেশের মাত্র ২১ শতাংশ মানুষের শরীরেই করোনার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি ছিল।' এছাড়া ল্যানসেটের অভিযোগ, প্রাথমিক সাফল্যের পর ভারতের কোভিড টাস্কফোর্স বহু মাস বৈঠকে বসেনি। এছাড়া টিকাকরণ নিয়েও ভারত সরকারকে তোপ দাগে ল্যানসেট। উল্লেখ্য, দেশে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন।

এদিকে এদিন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেশের চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, তামিলনাড়ু মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, মধ্যপ্রদেশ শিবরাজ সিং চৌহান এবং হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরকে৷

বন্ধ করুন