বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বদলে যাচ্ছে রাজ্যসভার চরিত্র, রাজনৈতিক দলে যোগ আরও বেশি সংখ্যক মনোনীত সদস্যের
সংসদ ভবন, ফাইল ছবি (HT_PRINT)
সংসদ ভবন, ফাইল ছবি (HT_PRINT)

বদলে যাচ্ছে রাজ্যসভার চরিত্র, রাজনৈতিক দলে যোগ আরও বেশি সংখ্যক মনোনীত সদস্যের

  • ১৯৫২ সাল থেকে মোট ১৩৮ জন সদস্যকে রাজ্যসভায় মনোনয় দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ জন সদস্য কংগ্রেস বা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু বছর ধরেই রাজ্যসভার মনোনীত সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। তবে সেই যোগ দেওয়ার হিড়িক গত কয়েক বছরে বেড়েছে বিজেপির হাত ধরে। ১৯৫২ সাল থেকে মোট ১৩৮ জন সদস্যকে রাজ্যসভায় মনোনয় দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ জন সদস্য কংগ্রেস বা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ১৩ জন, কংগ্রেসে ১৫।

তবে গত ৭ বছরের হিসেব খতিয়ে দেখলে জানা যাবে, এই বিষয়ে পাল্লা ভারী রয়েছএ বিজেপির। মোদী জমানায় ৯ জন মনোনীত সাংসদ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এর আগে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সময়ে এই সংখ্যাটা ছিল মাত্র তিন। সাংপ্রতিককালে, সোনাল মন সিং, সকল রাম, গোপী সুরেশ, রাকেশ সিনহা এবং রঘুনাথ মহাপাত্রের মতো ব্যক্তিত্ব রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্য হওয়ার পর যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। এছাড়া ২০১৬ নভজোৎ সিং সিধুও রাজ্যসভার মনোনয়ন পাওয়ার পর যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। যদিও পরবর্তীকালে গেরুয়া শিবির ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে।

উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের রাজ্যসভায় মনোনীত করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। এদিকে কোনও মনোনীত সদস্যকে কোনও একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে সংবিধানে। তবে সেক্ষেত্রএ মনোনীত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সেই সাসংদকে রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে হবে। এই বিষয়টি নিয়েই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত।

এর আগে ২০১৬ সালে রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত। মনোনয়ন পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে তিনি বিজেপিতে সরাসরি ভাবে যোগ দেননি। তাই বিধানসভা নির্বাচনে যখন তাঁকে বিজেপি টিকিট দিয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যার জেরে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন স্বপনবাবু। পরে অবশ্য নির্বাচনে হারার পর ফের একবার তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কোনও ব্যক্তিত্বকে মনোনীত করার বিরুদ্ধে কোনও আইন উল্লেখিত নেই সংবিধানে।

উল্লেখ্য, রাজ্যসভায় মনোনীত হওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া প্রথম ব্যক্তি ছিলেন কেরলের স্বাধীনতা সংগ্রামী জোয়াকিম অ্যালভা। তিনি ১৯৬৮ সালে রাজ্যসভায় মনোনীত হওয়ার পর কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যসভায় মনোনীত ব্যক্তিরা রাষঅট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না, কারণ তাঁদেরকে মনোনীত করেছেন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মত, মনোনীত সদস্যরা যদি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, সেটি গণতন্ত্রের জন্য় স্বাস্থ্যকর নয়।

বন্ধ করুন