ছবিটি প্রতীকী।
ছবিটি প্রতীকী।

বহুবিবাহ রীতির বিরুদ্ধে মামলায় আপত্তি মুসলিম ল’ বোর্ডের

১৯৯৭ সালে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, বিষয়টি যে হেতু নীতিগত সিদ্ধান্তভিত্তিক, সেই কারণে তাতে আদালতের হস্তক্ষেপ অনুচিত।

মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুবিবাহের রীতি এবং ‘নিকাহ হালালা’-এর বিরুদ্ধে করা জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতা করল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (AIMPPLB)।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে মুসলিম ল’ বোর্ড জানিয়েছে যে, ১৯৯৭ সালের এক রায়ের মাধ্যমে এর আগেই বিতর্কের মীমাংসা হয়ে গিয়েছে। বোর্ডের যুক্তি, ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার খণ্ডনের অভিযোগ জানানো যায় না।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে মুসলিম সমাজে চালু এই রীতির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময় শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, বিষয়টি যে হেতু নীতিগত সিদ্ধান্তভিত্তিক, সেই কারণে তাতে আদালতের হস্তক্ষেপ অনুচিত।

মামলাকারী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় তাঁর সাম্প্রতিক অভিযোগে দাবি করেছেন, বহুবিবাহ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার পরিপন্থী এবং ‘নিকাহ হালালা’ প্রকারান্তরে ধর্ষণ, যা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় নেতা, ইমাম ও মৌলবীরা যাঁরা এই সমস্ত রীতিকে সমর্থন ও বাস্তবায়িত হতে উদ্যোগ নেন, তাঁরা নিজেদের পদাধিকারের অপপ্রয়োগ করে মুসলিম মহিলাদের দমন করছেন। এই কারণে এই দুই রীতি সংবিধানের ১৪,১৫ ও ২১ নম্বর পরিচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকার খর্ব করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারতে বহুবিবাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন আইন অনুযীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হয়। মুসলিম বিয়ে, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে এই আইন প্রয়োগ করা হয়। একই ভাবে, মুসলিম সমাজে চালু ‘নিকাহ হালালা’ রীতিও এই আইনমতে সিদ্ধ।

বন্ধ করুন