বাঁ দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডান দিকে মুজিবুর রহমানের স্মারকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ।
বাঁ দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডান দিকে মুজিবুর রহমানের স্মারকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ।

বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ পালন অনুষ্ঠানে নাম না করে পাকিস্তানকে বিঁধলেন মোদী

  • এদিন ভিডিয়োকনফারেন্সিংয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।

বাংলাদেশে শুরু হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালনের অনুষ্ঠান। কোরনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য এই অনুষ্ঠানে ব্যাপক কাটছাঁট করা হলেও টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় গোটা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানকে তুলোধোনা করেন।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় মুজিবুর রহমানের জন্মক্ষণে জ্বলে ওঠে হাজার হাজার বাতি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে শুরু হয় আতসবাজি প্রদর্শনী। তার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যার পোশাকি নাম ‘মু্ক্তির মহানায়ক’।

ঢাকায় এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সেই নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক জলঘোলা হয়েছিল। কেন CAA-র মতো আইনের প্রবর্তককে বাংলাদেশে আপ্যায়ন করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সেদেশের কিছু ইসলামিক কট্টরপন্থী সংগঠন। তবে হাসিনা সরকার তাদের ওজর আপত্তি খারিজ করে জানিয়ে দেয়, ভারত বাংলাদেশের পুরনো বন্ধু। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই পড়শি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেনই। তবে শেষ মুহূর্তে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী বিধিনিষেধের জেরে বাতিল হয় মোদীর ঢাকা সফর। এদিন ভিডিয়োকনফারেন্সিংয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।

এদিন তাঁর ভাষণে মোদী বলেন, ‘মনে করুন, এক দমনকারী – অত্যাচারী শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অস্বীকার করে এমন ব্যবস্থা কীভাবে বাংলা ভূমির সঙ্গে অন্যায় করেছিল। সেখানকার জনতাকে শেষ করে দিয়েছিল। সারা দুনিয়া সেকথা খুব ভালভাবে জানে। তার কষ্ট অনুভব করে। সেই যুগে যে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছিল, যে গণহত্যা হয়েছিল, তা থেকে বাংলাদেশকে বাইরে বার করতে, এক পজিটিভ ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে উনি (বঙ্গবন্ধু) নিজের প্রতি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, ঘৃণা ও হীনমন্যতা কোনও দেশের প্রগতির ভিত্তি হতে পারে না। কিন্তু তাঁর এই ভাবনা, এই উদ্যোগ কিছু মানুষের পছন্দ ছিল না। ওঁকে আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হল।’

বাংলাদেশ ও আমাদের সবার সৌভাগ্য যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি, শেখ রেহানা জির ওপর উপরওয়ালার কৃপা ছিল। নইলে হিংসা ও ঘৃণার সমর্থকরা কোনও সুযোগ ছাড়েনি। আতঙ্ক ও হিংসাকে রাজনীতি ও কূটনীতির হাতিয়ার করে তুললে কী ভাবে গোটা দেশ, গোটা সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়, তা আমরা ভালই দেখতে পাচ্ছি। আতঙ্ক ও হিংসার সেই সমর্থকরা আজ কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে? অন্য দিকে, আমাদের এই বাংলাদেশ কোন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে তাও দুনিয়া দেখছে।‘

মুজিবর্ষ উপলক্ষে আলোর মালায় সেজে উঠেছে গোটা বাংলাদেশ। এক বছর ধরে নানা অনুষ্ঠানে সেদেশে স্মরণ করা হবে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ।


বন্ধ করুন