প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে হরপ্পা যুগের মেনু থেকে আচমকা বাদ আমিষ!

  • উদ্যোক্তারা এই প্রদর্শনীর জন্য বেছে নিয়েছেন হরপ্পা সভ্যতার রসনাবৈচিত্রকে।সিন্ধু সভ্যতাকালীন রসনা প্রদর্শনীতে নিষিদ্ধ হল আমিষ খাদ্যের প্রবেশ।

কোনও অদৃশ্য হাতের ইশারায় শেষ মুহূর্তে বদলে গেল খাদ্যতালিকা। দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সিন্ধু সভ্যতাকালীন রসনা প্রদর্শনীতে নিষিদ্ধ হল আমিষ খাদ্যের প্রবেশ।

ফেব্রুয়ারির ১৯ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ন্যাশনাল মিউজিয়াম চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহাসিক রসনাবৈচিত্রের প্রদর্শনী। উদ্যোক্তারা এই প্রদর্শনীর জন্য বেছে নিয়েছেন হরপ্পা সভ্যতার রসনাবৈচিত্রকে। সেই কারণে অতিথিদের প্রাচীন হেঁশেলে তৈরি বিভিন্ন নিরামিশ ও আমিষ পদের স্বাদ পরখ করে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

মিউজিয়ামের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মারফত্ অনুষ্ঠানের প্রচার করা হয় উদ্যোক্তা ন্যাশনাল মিউজিয়াম, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়ান স্টেশন মিলিয়ন স্টোরিজ’-এর তরফে।

বিজ্ঞাপনে প্রাচীন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিরামিষের পাশে স্থান পায় রকমারি আমিষ পদ, যার মধ্যে মাছের হলুদঝোল, শালপাতায় মুড়ে দেশি মুরগির রোস্ট, মটরদানার সঙ্গে ভেড়ার লিভার ভাজা ও মহুয়া তেলে সাঁতলানো শুটকি মাছের চাটনির মতো অপ্রচলিত বেশষ কিছু রান্নার উল্লেখ করা হয়।

মঙ্গলবার প্রদর্শনী শুরু দিন আচমকা পরিবর্তন করা হয় খাদ্যতালিকায়। জানা গিয়েছে, বেসরকারি আয়োজক সংস্থাকে কোনও কারণ না দর্শিয়ে প্রদর্শনীতে আমিষ খাবার পরিবেশন করতে নিষেধ করেছে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনে প্রদর্শনীর খাদ্যতালিকায় আমিষ পদ থাকা নিয়ে আপত্তি তোলেন জনা দুয়েক সাংসদ। যদিও এই বিষয়ে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপের কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল সুব্রত নাথ।

মিউজিয়ামের নিয়মাবলীর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাতায়-কলমে এমন কোনও নিয়ম চালু নেই। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছে। মিউজিয়ামে বহু দেব-দেবীর মূর্তি সংরক্ষিত হয়েছে, এমনকি গৌতম বুদ্ধের একটি পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনও এখানে প্রদর্শিত হয়। এই কারণে আয়োজক সংস্থাকে ই-মেল মারফত মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বেসরকারি আয়োজক সংস্থার বিজ্ঞাপনে সিন্ধু সভ্যতাকালীন রসনাশাস্ত্র কিউরেট করার কথাই লেখা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘সিন্ধু-সরস্বতী উপত্যকা থেকে প্রাপ্ত পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভিত্তিতে দেশের ভিতরে এবং বাণিজ্যসূত্রে মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সৃষ্টি হওয়া খাদ্যাভ্যাস এবং রসনাবৈচিত্রের সন্ধান করাই এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য।’

বন্ধ করুন