বাড়ি > ঘরে বাইরে > NEP 2020: জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন পেতেই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল বদল, দাবি কেন্দ্রের
প্রাচীন ভারতের জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই নতুন শিক্ষা নীতির মূল লক্ষ্য, জানিলেন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। ছবি: পিটিআই। (PTI)
প্রাচীন ভারতের জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই নতুন শিক্ষা নীতির মূল লক্ষ্য, জানিলেন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। ছবি: পিটিআই। (PTI)

NEP 2020: জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন পেতেই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল বদল, দাবি কেন্দ্রের

  • শিক্ষার উদ্দেশ্য পড়াশোনার বাইরে জীবন যাপনের প্রস্তুতি হিসাবে জ্ঞান অর্জনই শুধু নয়, বরং আত্মার সম্পূর্ণ উপলব্ধি ও মুক্তিলাভের অন্বেষণ।

নতুন শিক্ষানীতি (NEP)র লক্ষ্য হল, ভারতকে জ্ঞানের ক্ষেত্রে জগৎসভায় সেরা হিসাবে গড়ে তোলা। প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসে ঠিক যেমন ভারতের রূপ দেখা যায়।

প্রাচীন এবং চিরন্তন ভারতীয় জ্ঞান এবং চিন্তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এই নীতিমালাটির একটি নির্দেশক ছিল। জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং সত্য সর্বদা সর্বত্তম মানব লক্ষ্য হিসাবে ভারতীয় চিন্তা ও দর্শনে বিবেচিত হত। নীতি নথিতে বলা হয়েছে, প্রাচীন ভারতে শিক্ষার লক্ষ্য ছিল পৃথিবীতে জীবনের জন্য বা বিদ্যালয়ের পড়াশোনার বাইরে জীবন যাপনের প্রস্তুতি হিসাবে জ্ঞান অর্জনই নয়, বরং আত্মার সম্পূর্ণ উপলব্ধি ও মুক্তি।

তক্ষশীলা, নালন্দা, বিক্রমশিলা, বল্লভীর মতো প্রাচীন ভারতের বিশ্ব মানের প্রতিষ্ঠানের বহু-বিভাগীয় শিক্ষাদান এবং গবেষণা ছিল উৎকৃষ্ট মানের। বিদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসতেন।

নীতি নথিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা একদা চরক, সুশ্রুত, আর্যভট্ট, বরাহমিহির, ভাস্করাচার্য, ব্রহ্মগুপ্ত, চাণক্য, চক্রপাণি দত্ত, মাধব, পানিনি, পতঞ্জলি, নাগার্জুন, গৌতম, পিংলা, শংকরদেব, মৈত্রেয়ী, গার্গী, থিরুভালের মতো পণ্ডিতদের সৃষ্টি করেছে। তাঁরা গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ধাতুবিদ্যা, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শল্য চিকিৎসা, বাস্তু বিজ্ঞান, স্থাপত্য বিদ্যা, জাহাজ নির্মাণ এবং নৌবিদ্যা, যোগ, চারুকলা, দাবা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অবদান রেখেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং দর্শন বিশ্বজুড়ে এক শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্ব ঐতিহ্যের এই সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারগুলি কেবল উত্তরসূরিদের জন্য লালিত ও সংরক্ষণ করলেই হবে না, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তার গবেষণা, বিকাশ এবং নতুন ব্যবহারিক প্রয়োগও আবশ্যিক।’

বলা হয়েছে, ‘শিক্ষককে অবশ্যই শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে। নতুন শিক্ষা নীতিতে আমাদের সমাজের সর্বাধিক সম্মানিত ও প্রয়োজনীয় সদস্য হিসাবে সর্বস্তরে শিক্ষকদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করা হবে, কারণ তাঁরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নাগরিকদের গঠন করবেন।’

নতুন শিক্ষা নীতিতে শ্রদ্ধা, মর্যাদা এবং স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সকল স্তরে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ এবং উজ্জ্বলতম প্রার্থীদের নিয়োগ করতে সাহায্য করবে। নতুন শিক্ষা নীতিতে অবশ্যই সমস্ত শিক্ষার্থীদের আবাসের জায়গা নির্বিশেষে, একটি মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে হবে, ঐতিহাসিক ভাবে প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং উপস্থাপিত গোষ্ঠীগুলির ওপর বিশেষ ভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।

বন্ধ করুন